মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের অচলাবস্থার কারণে একর পর এক খুন হয়েই চলছে। স্কুলছাত্র সুমন, কলেজছাত্র পুলক, আলতাফের পর এবার প্রাণ দিতে হয়েছে এক আদিবাসী কিশোরী রেজিনাকে। এ পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে ৫ দিনে ৩ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রশাসনের নিস্কৃয়তার কারণে জনজীবনে নিরাপত্তার আশঙ্খায় ভোগছেন উপজেলাবাসী।
সর্বশেষে গত সোমবার শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট ইউনিয়নের ফিনলে টি কোম্পানীর লাখাই ছড়া চা বাগানের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটা তারের পাশে এক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী আদিবাসী কিশোরীর গলাকাঁটা লাশ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্তে জানা যায়, খ্রিষ্টান ধমালম্বী চা শ্রমিক ধনু কন্দের মেয়ে রেজিনা কন্দ (২০) কে ধর্ষণের তাকে কুন করা হয়। পরে রেজিনার মস্তকবিহীন দেহ বস্তাবন্দী করে ফেরে রেথে পালিয়ে যায় দুস্কৃতিকারীরা।
রেজিনার পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, গত ১ সপ্তাহ ধরে রেজিনা নিখোঁজ থাকার পর সোমবার ভোরে লাখাইছড়া এলাকায় তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। সোমবার সকালে শ্রমিকরা বাগানে কাজ করতে গিয়ে বস্তার ভিতরে লাশ দেখে সন্দেহজনকভাবে রেজিনার পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটিকে রেজিনার মৃতদেহ বলে নিশ্চিত করেন। লাশের শরীরে কোন কাপড় না থাকায় ধারনা করা হচ্ছে দুস্কৃতিকারীরা তাকে গনধর্ষন শেষে খুন করে লাশ বস্তাবন্দী করে পালিয়েছে।
সোমবার সরজমিন পরিদর্শনে গেলে রেজিনার চাচা রবার্ট কন্দ ও জর্জ কন্দ সাংবাদকদের জানান, তাদের ভাতিজি কাদির মিয়ার লেবু ও আনারস বাগানে কাজ করতো। গত বুধবার বিকেল ৫ টা থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রেজিনা দেখতে খুব সুন্দরী ছিল। অপরিচিত কিছু ছেলে তাকে প্রায়ই বিরক্ত করতো। নিখোঁজ হওয়ার দিনও তাদের বাড়ির পাশে অপরিচিত একটি ছেলেকে দেখেছেন বাগানের লোকেরা।
এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ও শ্রীমঙ্গলস্থ ১৪ বিজিবি কালীঘাট ক্যাম্প এর সুবেদার হাবিব বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলটি ভারতীয় এলাকা হওয়ায় তিনি বিএসএফ কে চিঠি দিয়েছেন বিজিবি। এ ব্যাপারে বিজিবি’র সুবেদার হাবিব জানান, লাশটি দেশের সীমান্ত— ফিলার থেকে প্রায় ৩শত গজ দূরে অর্থাৎ ভারতের অভ্যন্তরে থাকায় ভারতের পুলিশের মাধ্যমে লাশের ময়না তদন্ত শেষে তারা গ্রহন করে বাংলাদেশী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবেন।
উল্লেখ্য ইতোপূর্বে শ্রীমঙ্গল থানায় পরপর বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও প্রধান আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয় নি। পুলিশের এ হীন দায়িত্ব ও কর্তব্যে সঙ্কিত রয়েছেন উপজেলাবাসী। এদিকে প্রশাসনের খামখেয়ালির কারণে এলাকায় বেড়ে উঠছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ হত্যার ঘটনা। বিুব্ধ উপজেলাবাসীর দাবী অচিরেই এসকল হত্যা মামলার প্রধান আসামীদের গ্রেফতার করতে না পারলে প্রশাসনকে জনগণের কাছে আত্বসমর্পণ করা উচিৎ। নতুবা প্রশাসনের নিরবস্থানের কারণ জানতে চায় সাধারণ জনগণ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



