জুনো একটি কানাডিয়ান-আমেরিকান ছবি যা ২০০৭ সালে বের হয়। ছবিটির পরিচালক জেসন রেইটম্যান। ছবিটি জুনো নামের এক টিন-এইজার মেয়েকে (এলেন পেইজ) নিয়ে যার বয়স ১৬। মেয়েটি হঠাত্ করেই অনাকাঙ্খিত, অপরিকল্পিত প্রেগনেন্সির সম্মুক্ষিন হয়। মেয়েটির ধারন করা শিশুর বাবাও একটি স্কুলপড়ুয়া, জুনোর বয়সিই একটি ছেলে যে জুনোর তথাকথিত বয়ফ্রেন্ড। এই প্রেগনেন্ট হয়ে যাওয়াটা এবং পরবর্তিতে গর্ভপাত যে কতটা স্বাভাবিক এবং আমেরিকান সমাজ ও এই বিষয়ে কতৃপক্ষ যে কতটা নেক্কারজনক ভাবে নির্লিপ্ত, ছবিটিতে তাই দেখানো হয়েছে।
প্রথমদিকে জুনো স্বাভাবিকভাবই গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তিতে তাদের স্কুলের গর্ভপাতের বিরোধী একটি নিঃসঙ্গ চাইনিজ মেয়ের কাছ থেকে সে যখন শুনতে পায় যে তার শিশুর এমনকি আঙ্গুলের নখও আছে, সে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শিশুটিকে জন্ম দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও সে শিশুটিকে জন্ম দিতে চাইলেও, তা সে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেয়া এক ধনী সন্তানহীন পরিবার দিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। জুনো তার বাবা, তার সত্ মাকে তার প্রেগনেন্সির কথা এবং শিশুটি জন্মানো পর ধনী পরিবারটিকে দান করার কথা বলেল, তার বাবা-মাও বিষ্ময়কর স্বাভাবিকতায় তার কথাটি গ্রহন করে এবং তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। শিশুটির প্রতি তার অনুভূতি এবং অনুরাগ এতই হালকা যে সে কখোনোই শিশুটিকে শিশু বলতো না। বরং বলত, দ্যা থিং।
ছবিটি মজার, তারচেয়ও বড় কথা ছবিটির মেকিং অসাধারন, ভিন্ন, এবং নুতন! বিশেষ করে জুনো চরিত্রটি, "এলেন পেইজ" এককথায় অপূর্ব! এই জুনো চরিত্রটি যে অন্যরকম তা দেখানোর জন্য পরিচালককে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয়েছে বলে আমার মানে হয়নি। অসাধারন অভিনয়!
ছবিটি তেমন ঘটনাবহুল নয়। জুনোর বলাবাহুল্য কিন্তু অস্বভাবিক পরিবর্তন এবং তার বযফ্রেন্ডের অভাবনীয় প্রতিক্রিয়া, দায়িত্ববোধ ও জুনোর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছবিটিতে চিত্রিত করা হয়েছে। ছবিটি যে একবার দেখবে সে পরবর্তিতে বারংবার ছবিটি কেন দেখবে বা দেখতে চাইবে নিজেকে তার কোন যৌক্তিক ব্যক্ষা সে দিতে পারবে না।
( সেইফ হওয়ার পর থেকে কিছু একটা ছাপানোর জন্য আকুপাকু করছিল মনটা। জানি ছবিটি অনেকেই ইতিমধ্যেই দেখে থাকবেন! ব্লগে ছাপানোর জন্য যথেষ্ট পুরনো। তারপরও পোস্ট করে দিলাম তাদের জন্য যারা ছবিটি দেখেননি।)
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।