একটি ঘটনা শুনতে শুনতে আমাদের বাংলাদেশীদের কানের ছিদ্র আজ বন্ধ হওয়ার যোগাড় । নানা প্রতিকূলতা না রথি মহারথিদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এই সকল ঘটনা আর আইন কোনটাই সচেতনতা সৃষ্টি বা বাস্তবতায় ইভ টিজিং বন্ধে কোন ভূমিকা রাখেনি । আসল ঘটনা আমরা যদি ঘরের দরজা দরজা খুলে রেখে ঘুমাই আর যদি চুরি হয় তবে কি দোষ চোরের ?????
আমি বলবো চোর আর গৃহকর্তা দুজনেই সমান অপরাধী। অনেক পণ্ডিত মতবাদ ব্যক্ত করে পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করেছেন যে পশ্চিমা দেশ গুলোতে মেয়েরা উপরের আবরণ বাদ দিয়ে কেবলমাত্র আন্ডার গার্মেন্টস পরেই চলাচল করে তাদের তো কেউ বিরক্ত করেনা । তাদের দেশে কঠোর আইন তাদের কে রক্ষা করে। আসলে প্রেক্ষাপট ভ্ন্নি । একটা পুরাতন প্রবাদ " দুয়ারের ঘাস বাড়ীর গরুতে খায় না "" এই বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে । আমি একটা প্রশ্ন রাখনো শুকর তো সারাদিন কাদার মধ্যে নোঙরা আবর্জনাতেই থাকে । কিন্তু একটা গরুর ঘরে কেন মশারী দেওয়ার দরকার হয় । আর পশ্চিমাদের সাথে আমাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন । আমাদের দেশে যেটাকে ইভ টিজিং বলা হয় সেটা ওদের সংস্কৃতির অংশ । প্রায় প্রত্যেকটি মেয়ে বা ছেলেকে আমাদের দেশের মোরগ ডাকা শেখার পর যেভাবে মুরগী নিয়ে চলতে দেখা যায় ঠিক তেমনি বয়প্রাপ্ত হওয়ার পর একজন সঙ্গীকে খুজে নিয়ে তাদের যৌনজীবনের যাত্রা শুরু করতে দেখা যায় । এদের অবস্থা অনেকটা আমাদের দেশের রাস্তার পাশের আম কাঁঠাল গাছের মতো যার ইচ্ছা ফল থাকতে ঢিল ছুঁড়ে যার ইচ্ছা একটা ডাল ভেংগে নিয়ে যায় । আচ্ছা আমাদের দেশেও তো অনেক নেড়ি কুকুর ,ছাগল গরু এদের বেশভুষা বাদেই দিব্যি আরামে চলতে দেখা যায় এদের কেউ টিজ করেনা ।
প্রত্নতত্ত্বের ছাত্র হিসেবে আমি ইতিহাসের বাস্তবতায় মূল বিষয়টিকে বিচার করার চেষ্টা করবো ।
ঐতিহাসিকভাবেই মেয়েরা নানাভাবে নির্যাতিত নিপীড়ীত হয়েছে তেমনি তারা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ও হয়েছে। মিশরীয় সভ্যতার দিকে নজর দিলে আমরা হ্যাটশিপশুট কিংবা নেফারতিতির নাম যেমন জানি তেমনটি রাজা আহমোজ কর্তৃক নারীদের ইজ্জত হরণ ও শ্লীলতাহানির পাশাপাশি পণ্য হিসেবে অন্য দেশে পাচার করার কথাও ইতিহাসের অংশ। প্রকৃত অর্থে আর্থসামাজিক বাস্তবতা এই সকল অবস্থার জন্ম দেয় । আমরা জানি জৈবিক নৃবিজ্ঞানের ভাষা অনুযায়ী মানুষের ব্যবহার দুই ধরণের হয় । অন্তর্নিহিত আর অর্জিত । আমি বলবো অর্জিত স্বভাবই মানুষকে ইভ টিজিং এ প্ররোচিত করে । অর্থাৎ সমাজ হতেই এটি অর্জন করা হয়। জৈবিক কারণ মেয়েদের প্রতি ছেলেদের কেবল আকর্ষন করে না । মেয়েরাও ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হয় । যা অনেকটা পর্দার আড়ালে থেকে যায়।
এই সকল হাজারো কেন আছে যার কয়েকটি উল্লেখ করা হলে আমার এই পোস্ট শালীনতার মাত্রা হারাবে । তবু আমি বলবো এই ইভ টিজিঙ কেবলমাত্র ছেলেদের অপরাধ নয় । সেসকল মেয়ে ছেলেদের বাধ্য করে এই কাজ করতে তারাও সমান দোষে দুস্ট । কারন কোন ছেলে যদি সমাজের সাথে তার মিলাতে না পারে তা বলে ক্ষ্যাত >>>
আর বেশি বাড়লে বলা হয় পাংকু >>>>>>
আর মেয়েদের বাড়াবাড়িকে বাধা দিলে তা হবে ইভ টিজিং >>>>>
আসলে কিছু পুরুষাকারের নারী আছে যারা বার বার মেয়েদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত তার ইভ টিজিঙ বিরোধী কথার তুবড়ি যেমন ছোটাবে তেমনি মেয়েদের রাস্তায় উগ্রবস্থায় দেখে চোখের ক্ষুধাও মিটাতে চাইবে । আর
মেয়েরা তাদের অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে ইভ টিজিঙ এর স্বীকার হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে মেয়ের অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্য করতে হবে মা চাঁপারানীর মতো জীবন দিয়ে ।।।।। শুধু শাস্তি দিয়ে কথার তুবড়ি ছুটিয়ে বেড়ালেই হবে না গড়ে তুলতে হবে সামজিক সচেতনতা । আর আমি বলবো এই ইভ টিজিং এর জন্য ছেলে মেয়ে দুজনেই সমান অপরাধী। আর সমাজের মূল স্রোতের বিপরীতে চলা কোন ক্রেডিট নেওয়ার বিষয় না । আমরা বাংলাদেশী বাঙালি আমাদের আছে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য । তবে পশ্চিমাদরে অনুকরণ কেন ????? নিজেদের মতো চলতে চেস্টা করে দেখা যাকনা ... এটা কেমন হয় ????
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



