প্রথমে বলি এইটা আমার লেখা না, ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত। সাম্প্রতিক গ্যাস চুক্তির বিষয় টা সবাই যাতে বিস্তারিত ভাবে জানতে পারে তাই ব্লগে দিলাম। যদি কেউ আমার আগে এই ব্লগে দিয়ে থাকে সেজন্য দুঃখিত। দেশের স্বার্থে ভাল লেখা বার বার প্রকাশ হলে ক্ষতি কি?
১|
প্রথমেই একটা গাঁজাখুরি গল্প দিয়ে শুরু করি। এক নিতান্ত দরিদ্র যুবক অনেক যুদ্ধ ও জীবন সংগ্রাম করে দিন কাটাচ্ছে। অনেক টানাপোড়েনের সংসার। ঘরে তারা তিন ভাইবোন আর এক বিধবা মা। লোকটার স্বপ্ন জীবনে অনেক বড় হবার। তার স্বপ্ন একদিন তার অনেক টাকা হবে, বাড়ি হবে, গাড়ি হবে। ভাই-বোন আর বিধবা মাকে নিয়ে সুখের ঘর সাজাবে। সে টাকার স্বপ্নে বিভোর থাকে রাতে আর দিনে কঠোর পরিশ্রম করে।
একদিন কোত্থেকে এক সাধুবাবা এসে উঠলো তাদের বাড়ির বারান্দায়। এসে ঝিম ধরে বসে রইলো। বাড়ির সবাই ভয় পেয়ে গেলো। এ লোক কে? কি চায় সে? ছেলেটি সাধুবাবার কাছে কথা বলতে গেলো। সাধুবাবা কিছুক্ষণ পর চোখ মেলে হেসে বলল, ভয় নেই। আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করবো না। বরং তোমরা চাইলে তোমাদের উপকার করতে পারি।
- কি উপকার?
- তোমাদের বাড়ির কোথাও বহু শতাব্দী প্রাচীণ গুপ্তধন লুক্কায়িত আছে। আমি চাইলে তা বের করে দিতে পারি।
- বলেন কি? এখানে গুপ্তধন আসবে কোত্থেকে?
- তোমাদেরই কোন পুর্বপুরুষ তা লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে কালের স্রোতে সব তথ্য হারিয়ে গেছে। আমি চাইলে তার সন্ধান দিতে পারি। তবে কিছু সমস্যা আছে।
- কি সমস্যা?
- গুপ্তধনগুলো এক পিশাচ চক্র পাহারা দিয়ে রাখছে। তাকে আগে খুজে বের করে বিনাশ করতে হবে। এ যথেষ্ট পরিশ্রমলব্ধ কাজ। আমি এই পিশাচ চক্রকে মারার জন্য পারিশ্রমিক নেবো।
- কি পারিশ্রমিক?
- আমি তোমাদের থেকে সবচেয়ে মুল্যবান একটি রত্ন নিয়ে যাবো। বাকি সব তোমাদেরই থাকবে।
- গুপ্তধনের পরিমাণ কেমন?
- তোমরা সাত পুরুষ বসে খেতে পারবে।
যুবকটি ভাবলো, এ আর এমন কি? একটি রত্ন নিলেও তার কাছে আরো বহু রত্ন থাকবে। ঐ মুল্যবান রত্নের ক্ষতি তাতে পুষিয়ে যাবে। সে বলল, আমার কোন আপত্তি নেই।
গুপ্তধন উদ্ধারকারয শুরু হলো। পিশাচকে বিনাশ করতে আরেক পিশাচকে ডেকে আনা হলো। সে এসে ঐ পাহারাদার পিশাচ চক্রকে বিনাশ করলো। এরপর তারা সবাই মিলে বহু পরিশ্রম করে গুপ্তধন উদ্ধার করলো। গুপ্তধনের পরিমাণ দেখে ছেলেটির চোখ চকচক করে উঠলো। সে সাধুবাবাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিলো। এইবার পারিশ্রমিক দেবার পালা। ছেলেটি বলল, আপনি নিয়ে নিন আপনার পছন্দমত পারিশ্রমিক।
সাধুবাবা মুচকি হেসে বলল, ঠিক আছে।
এরপরই ঘটলো সেই আশ্চরয ঘটনা। ছেলেটার মা হঠাত দাঁড়ানো থেকে পড়ে গেলো। সবাই বলল, এ কী?
সাধুবাবা মুচকি হাসছে তখনো। ছেলেটা প্রথমে বুঝতেই পারলো না কি হয়েছে। যখন বুঝলো, তখন ক্রোধে ফেটে পড়ে বলল- আপনি কি করেছেন আমার মা কে?
সাধুবাবা হেসে বলল, তোমাদের সবচেয়ে মুল্যবান রত্নটা নিয়ে নিলাম। তোমার মায়ের আত্মাকে কিনে নিলাম।
ছেলেটা সাধুবাবার দিকে তেড়ে গেলো। কিন্তু সাধুবাবা স্থির গলায় বলল, আমায় আঘাত করলে আমি আমার ডেকে আনা পিশাচকে হুকুম দেবো তোমার মায়ের আত্মাকে চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দিতে।
ছেলেটা থেমে গিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, কিন্তু আমার মাকে মেরে আপনার লাভ কি?
- তোমার মায়ের আত্মার মত পুণ্যাত্মা আমার সাধনায় খুব কাজে লাগে। আত্মাকে দিয়ে সাধনার এক একটা স্তর অতিক্রম করতে হয়। আমি সর্বোচ্চ স্তরে যেতে চাই।
- নিকুচি করি আপনার গুপ্তধনের। আমার মা কে ফিরিয়ে দিন।
সাধুবাবা দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে বলল, কিন্তু সে তো অনেক মুল্য। অনেক চড়াদামে তোমায় তা কিনতে হবে।
- নিয়ে যান এই সব গুপ্তধন।
- আচ্ছা নিলাম। কিন্তু তাতেও হবে না। মায়ের মুল্য আমার কাছে এত সস্তা না।
- তাহলে আমাদের বাড়ি-ঘরও নিয়ে যান।
- উঁহু, হবেনা। তোমাদের ঐ হতদরিদ্র বাড়িতে নেয়ার কিছুই নেই।
- তাহলে আপনিই বলুন কি চান?
- তোমাদের সবার আত্মাকে আমার বশবর্তী হয়ে আমার গোলামী করতে হবে।
- অসম্ভব।
- তাহলে আমার কিছুই করার নেই।
ছেলেটা অনেক ভেবে রাজী হলো। সাধু মায়ের আত্মাকে ফেরত দিলো। তাদের ৩ ভাই-বোনের আত্মাকে বশ করে নিলো। দুখী মা চিরদুখীই রয়ে গেলো। তদুপরি সন্তানদের এমন অবস্থা দেখে কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গেলো।
ঐদিকে পিশাচসাধক চলে গেলো নতুন আত্মার খোঁজে। তাকে হতে হবে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী। সবচেয়ে বিত্তশালী।
২|
পুরো ছেলেমানুষী গল্প। কোন মাথামুন্ডু নেই। যেমন মাথামুন্ডু নেই কনকোফিলিপসের সাথে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তির। সরকার বলছে এক কথা, বোদ্ধারা বলছে আরেক কথা। এমনকি সরকারের ভেতর থেকেই দু রকম কথা বেরিয়ে এসেছে। এইসব গ্যাস চুক্তির ব্যাপারে সরকার জাতিকে সবসময়ই অন্ধকারে রেখে এসেছে। রহস্যজনকভাবে বিএনপি’র আমলে ২০০৪ এ গ্যাস চুক্তি করার সময় আওয়ামী লীগ তেমন কোন প্রতিবাদ করেনি। তারা অন্য ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। এখনো সেই একই অবস্থা। বিএনপি মারা যাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে। গ্যাস নিয়ে কোন সাড়াশব্দ নেই। মিডিয়াও এই ব্যপারে আশ্চরয রকম নীরবতা পালন করে। তাহলে কি বিদেশীদের সাথে তেল-গ্যাস চুক্তি আসলেই দেশের জন্য মঙ্গলজনক? আমরা খামাখাই তবে বাঁদরনাচ নেচে যাচ্ছি? আসুন একটু তলিয়ে দেখি (সীমিত তথ্যের মাঝে যতটুকু সম্ভব। কারণ আগেই বলেছি, সরকার, বিরোধীদল, মিডিয়া এসব ব্যপারে আশ্চরয রকম নীরবতা পালন করে।)
সরকারী-বেসরকারী সব হিসেব মিলিয়ে ধরা হয় দেশে প্রায় ৮-১০.৮ ট্রিলিওন সিএফটি (কিউবিক ফিট) গ্যাস মজুত আছে। দৈনিক চাহিদা হচ্ছে ২৫০০ মিলিওন সিএফটি। এই চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ২০০০ মিলিওন সিএফটি। অর্থাৎ ৫০০ মিলিওনের ঘাটতি। বর্তমানে দেশের মাত্র ২৯ জেলায় গ্যাসের সরবরাহ আছে। বাকিরা এর আওতার বাইরে। প্রতিবছর ১০% করে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। সরকারী হিসাবেই বলছে, এই পরিমাণে চাহিদাবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুত দিয়ে ২০১৪-২০১৫ সাল পরযন্ত চালানো যাবে। অর্থাৎ খুব শীঘ্রই নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান না পাওয়া গেলে অচিরেই সমূহ বিপদ। এইদিকে দেশী কোম্পানীগুলোর হাতে গ্যাসকূপ সন্ধানের দায়িত্ব ছেড়ে লাভ নেই। কারণ, প্রযুক্তি কিছু জানা থাকলেও খরচ চালাবার মত টাকা নেই। সুতরাং ডাকো বিদেশী কোম্পানীদের।
আপাতদৃষ্টিতে এইটাই হচ্ছে সমাধান। কিন্তু এটাই কি একমাত্র সমাধান? বিকল্প কোন কিছু কি নেই? সরকারী লোকজন বলছেন, যে গ্যাস খুঁজে পাওয়া যাবে তার পরিমাণের উপর ভিত্তি করে ৫৫%-৮০% মালিকানা পাবে বাংলাদেশ। যদি কনকোফিলিপ্স দৈনিক ৭৫ মিলিওন সিএফটি গ্যাস উৎপাদন করে, তবে বাংলাদেশ হবে ৫৫% এর মালিক। আর উৎপাদন ৬০০ মিলিওন সিএফটি হলে হবে ৮০% এর মালিক। বাকিটা কনকোফিলিপ্স চাইলে বাংলাদেশের কাছেই বিক্রি করতে পারবে, অথবা বাইরে রপ্তানী করতে পারবে। কনকোফিলিপ্স মোট ৯ বছরের জন্য বঙ্গোপসাগরের গভীর জলসীমার DS-08-10 and -11 ব্লক দুটি লিজ নিয়েছে। ব্লক দুটি চট্টগ্রাম বন্দর হতে ২৮০ কিমি দূরে। এই হলো চুক্তির আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপার-স্যাপারগুলো। কিন্তু এখানেই কয়েকটা জায়গায় খটকা বেঁধে গেছে।
এইখানে ‘মালিকানা’ যে শব্দটা, মূল খেলাটা এখানেই। বাংলাদেশ ৬০% এর মালিক মানে এই নয় যে সে উত্তোলিত গ্যাসের ৬০% বিনামুল্যে পাবে। এর মানে হলো, ৬০% গ্যাস কোম্পানী সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দামের হারে বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে। বাকি ৪০% তারা চাইলে আমাদের কাছেই বেচতে পারে, নাহয় বাইরে বিক্রি করতে পারে। এই ছিলো শুভঙ্করের ফাঁকি। এর উপরেও কথা হলো, ওই গ্যাস তারা ঘরে এসে দিয়ে যাবেনা। সাগরের মাঝ দিয়ে পাইপলাইন আমাদেরই বসাতে হবে, যা আমাদের বর্তমান অবস্থায় অসম্ভব। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের থেকেই কিনে নিয়ে বসাতে হবে, অথবা তাদের হাতেই দায়িত্ব দিয়ে দিতে হবে বসানোর। মানে আরেকদফা চুক্তি। যদি বাংলাদেশ লাইন স্থাপন করে গ্যাস নিতে না পারে, তবে হিসেব অনুযায়ী সমস্ত গ্যাস কোম্পানী নিয়ে গেলে কিছু করার থাকবেনা। কথা হচ্ছে, নিজেদের গ্যাস যদি নিজেরাই কিনতে হয়, তাও আন্তর্জাতিক বাজারমুল্যে-তবে আমাদের গ্যাস পড়ে থাকনা। আমরা গিয়ে ভারত এবং মিয়ানমার থেকেই গ্যাস কিনি। শুধু শুধু আমাদের সম্পদ কোম্পানির হাতে দেবো কেন?
বর্তমানে যত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে তার ৯৯%ই আসে স্থলভূমির গ্যাসকূপ থেকে। একমাত্র অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানী কর্তৃক পরিচালিত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র ছাড়া আর কোন গভীর জলসীমার গ্যাসকুপ বাংলাদেশের নেই। অথচ, ভারত এবং মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরেই বহু গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে তাদের নিজস্ব কলা-কৌশল দিয়েই। এইখানে আরেকটা ঘটনা আছে। ব্লক DS-08-10 and -11 এর একাংশের মালিকানার দাবী ভারতের বহুদিনের। বাংলাদেশের বিবাদহীন যে অংশটুকু রয়েছে, তাই তুলে দেয়া হয়েছে কনকোফিলিপ্সের হাতে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে ভারতের দাবী পরোক্ষভাবে মেনে নেয়া হলো। আর নিজের অংশটুকুও বিদেশী বণিকদের হাতে তুলে দেয়া হলো। বাংলাদেশ আসলেই কিছু পাবি কিনা তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
৩।
বাংলাদেশের সামনে জ্বলন্ত উদাহরণ হওয়া উচিত নাইজেরিয়া। কারণ, তেল-গ্যাসের প্রাচুরয থাকা সত্ত্বেও দেশপ্রেমহীন রাজনীতিবিদেরা সেগুলো তুলে দিয়েছিলো বিদেশী কোম্পানিদের হাতে। বর্তমানে নাইজেরিয়ার অবস্থা কি সেটা সবাই দেখছে। অথচ এমনটা হবার কথা ছিলো না। একই মহাদেশভুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজস্ব শর্তাবলী দিয়ে তেল-গ্যাস উত্তোলন করানোয় আজ তারা বিশাল সম্পদের মালিক। কিন্তু নাইজেরিয়ার মত একই অবস্থাপন্ন দেশ শুধুমাত্র এককালীন মুনাফার আশা করে এখন দুর্নীতির ভারে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আমরা কেউ কি চাইবো বাংলাদেশ আরেকটা নাইজেরিয়া হোক? অন্তত ৫২ তে ভাষার দাবী, ৬৬ তে পাটের লভ্যাংশের দাবী, ৭১ এ নিজেদের স্বকীয়তার দাবি যারা ছাড়েনি তাদের প্রকৃত সন্তানেরাও কখোনো চাইবে না তার মাকে আবারো কোন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এসে ভিখারিণী করে দিয়ে যাক।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। সরকার বারবার বলছে এই চুক্তিতে পিএসসি-২০০৮ এর নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। সবার বুঝা উচিত, কি এই পিএসসি-২০০৮? পিএসসি মানে হলো প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ত্রাক্ট। ২০০৮ সালে ফখরুদ্দীন-মইন সরকার একটা টেন্ডার ছেড়েছিলো ওয়েবসাইটে বিদেশী কোম্পানীগুলোর প্রতি কিছু শর্ত দিয়ে তেল-গ্যাস উত্তোলনের চুক্তি করার জন্য। এটা কোন লিখিত দলিল নয়। তাহলে আওয়ামী সরকার কোন যুক্তিতে এটাকে মানদন্ড হিসেবে ধরছে, তা অবশ্যই প্রশ্ন। আওয়ামী সরকার যেখানে মইন সরকারের সমস্ত করে যাওয়া ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে দিচ্ছে, সেখানে মইনের করে যাওয়া আমেরিকা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পিএসসি-২০০৮ কে মানদন্ড ধরার কারণ কি? তাদের কি ধারণা বাংলাদেশে একমাত্র বোকা-পাঁঠারাই বাস করে?
এইদিকে আপনারা ছোট্ট একটা কাজ করেন। উইকিপিডিয়াতে গিয়ে কনকোফিলিপ্স (Conocophilips) নামের কোন কোম্পানির ব্যাপারে খোঁজ করেন। কি পাবেন সেটা এখানেই বলে দেই। কোম্পানীটির তেমন কোন দক্ষতাই নেই। খোদ আমেরিকাতেই ৪ বার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে এরা। ১১৮ বার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। আমেরিকা সরকারও তাদের কয়েকদফা হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলো। কনকোফিলিপ্সের প্রধান একজন আমেরিকান মিলিটারি পারসোনেল যে কিনা ভিয়েতনাম যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিলো। এই হলো- কনোকোফিলিপ্স। এদের হাতেই আমাদের সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ। জানিনা আমাদের জন্য আরেকটা মাগুরছড়া ট্রাজেডি অপেক্ষা করছে কিনা?
বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলারও আমাদের মতই অবস্থা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের টনক নড়ায় তারা সব গ্যাসক্ষেত্র নিজেদের দখলে নিয়েছে এবং নতুন করে শর্তাবলী আরোপ করে বলেছে- হয় তা মেনে নিতে নতুবা ব্যাগ গুছিয়ে কোম্পানীগুলোকে নিজেদের দেশে ফেরত যেতে। আমাদের বোধোদয় হবে কবে?
তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির প্রধান আনু মোহাম্মদ আশঙ্কা করছেন, কনোকোফিলিপ্সের নিরাপত্তার জন্য অচিরেই আমেরিকা নেভী ব্যাটলশিপ পাঠাবে। আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ আমাদের জলসীমায় (শুরুর গল্পের ঐ পিশাচের কথা মনে আছে?) প্রবেশ করলে এইখান থেকেই শুরু হবে তাদের এশিয়ায় সামরিক অভিযান। এখনো সময় আছে, আমরা কি মেনে নিবো আমাদের মাটিতে ও জলসীমায় বাইরের দেশের যুদ্ধজাহাজ?
আনু মোহাম্মদের কথায় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী বলছেন, আনু মোহাম্মদ নাকি বিদেশী এজেন্ট। তাহলে আমার প্রশ্ন, গত ডিসেম্বারে ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস হতে তো উইকিলিক্সকে আনু মোহাম্মদের নাম ফ্যাক্স করে পাঠানো হয়নি। আমেরিকান এজেন্ট হিসেবে নাম গেছে জনাব তৌফিক-ই-এলাহীরই। কোন যুক্তিতে তিনি আনু মোহাম্মদকে বিদেশী এজেন্ট বানালেন, তা আমার বোধগম্য নয়। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন- তেলগ্যাস রক্ষা কমিটি হচ্ছে টোকাইদের সংগঠন। আর ৩ জুলাইয়ের হরতাল হচ্ছে টোকাইদের হরতাল। হয়ত মা কে একটু বেশী ভালোবাসাটাই তাদের মত লোকদের পাপ।
আরেকটা কথা। বিএনপির আমলে তেল-গ্যাস চুক্তি নিয়ে শ্রদ্ধেয় ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল পত্রিকার পাতায় কলাম লিখে ভরে ফেলেছিলেন। উনি এখন নিশ্চুপ কেন?
৪।
তাহলে সমাধান কি? গ্যাস তো লাগবেই।
- যেহেতু আমরা গ্যাসটা কিনেই নিচ্ছি, সেহেতু আমরা ভারত বা কাছের মিয়ানমার থেকেই গ্যাস কিনি। আমাদের সম্পদ থাকনা আরো কিছুদিন মাটির নিচে।
- এই ফাঁকে আমরা ভারত, মিয়ানমার, চীন, মালয়শিয়াকে ফলো করি এবং গবেষণা করি কিভাবে তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করছে।
- আমাদের বাপেক্স কে আমরা এরই মধ্যে শক্তিশালী করে গড়ে তুলি।
বাংলাদেশে নেত্রীর বাড়ি, তত্বাবধায়ক সরকারের মত ইস্যুতে অর্থহীণ সব হরতাল হয়। অথচ তেল-গ্যাসের রক্ষার দাবীতে মাত্র আধাবেলা হরতাল আমার কাছে যথেষ্ঠ মনে হয়নি। এইটা আমাদের জাতির টিকে থাকার প্রশ্ন। গ্যাস সব এভাবে বিদেশে পাচার করে এক শ্রেণীর লোক অনেক টাকা কামাবে। একপরযায়ে আমাদের দেশ গ্যাসের অভাবে অচল হয়ে পড়বে। আমদের হয়তো অনেক বিদ্যুত কেন্দ্র থাকবে, অনেক মিল-কারখানা থাকবে-কিন্তু সেগুলো চালানোর মত কোন গ্যাসই একদিন আর অবশিষ্ট থাকবে না। আমাদের সন্ধ্যা নামবে এক ভয়ঙ্কর অন্ধকারময়তার মাঝে। যারা বিত্তশালী, হয়তো তাদের জন্য কিছু বিদ্যুত অবশিষ্ট থাকবে। বাকিরা সব টাকার বস্তা নিয়ে বিদেশ ভেগে যাবে। আমরা পড়ে থাকবো প্রস্তরযুগে। আর আমাদের ভবিষ্যত জানবে আমরা তাদের জন্য কিছু রেখে যেতে পারিনি। তারা আঁধার নামতেই আমাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা নিয়ে ভয়ে আমাদের কোলে এসেই মুখ লুকাবে। পারবেন আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মকে জবাব দিতে, কেনো তারা এখনকার আমাদের মত ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেনা? কেন তারা রেডিও-টিভি চালাতে পারেনা? কেন তারা আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যখন তারা করবে- আমাদের দেশটা এত গরীব কেন, কি জবাব দেবেন তার?
এর চেয়ে ভালো আমরা এই প্রজন্ম ‘টোকাই’ হয়েই রাস্তায় নামি। মানুষকে সচেতন করি এখানে যা আলোচনা করলাম তার ব্যপারে। সত্যটা তাদের বুঝাই। তাতে অন্তত আমাকে ‘টোকাই’ বললেও আমার দেশ মাকে একদিন কেউ ভিখারিনী বলতে সাহস পাবে না।
মনে আছে কি ফুলবাড়িয়ার সেই ‘এশিয়া এনার্জির’ বিরুদ্ধে অতিসাধারণ মানুষের বিদ্রোহ?
ফেসবুক থেকে সংগ্রহিত
Written by - Rezwanur Rahman Prince

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

