মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আমরা কুতকুত খেলার জন্য গত নির্বাচনে বিজয়ী করিনি।কুতকুত খেলার অনেক লোক আছে। দয়া করে আপনি সে কাতারে সামীল হবেন না। আপনি যে ওয়াদা করে নির্বাচিত হয়েছেন দয়া করে তা পালন করুন , আর যদি তা করতে ব্যর্থ হন তাহলে বলে দিন আপনি পারবেন না। দয়া করে কুতকুত খেলবেন না দেশের জনগনের সাথে।
যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরধী বিচার নিয়ে কথা বলছি। আপনি ওয়াদা করেছিলেন ক্ষমতায় এসে তাদের বিচার করবেন। আপনার মেয়াদ তিন বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত আপনি বিচার সম্পূর্ন করা তো দূরের কথা অনেক এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গঠন করতে পারেন নাই। আপনাকে গত নির্বচনে আমরা তরুনরাই বেশী ভোট দিয়েছি। অনেক আশাছিল আপনার সময় বিচার শেষ হবে। কিন্তু এখন যা দেখছি আপনি বিচারের নামে লোক দেখানো কুতকুত খেলছেন। আমি বিচার প্রক্রিয়ার কথা বলছি না, প্রশ্ন তুলছিনা ট্রাইবুনাল নিয়ে ও। আমি শুধু সরকারের ব্যর্থতার দিক গুলা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যা দেশকে বিচার পাওয়া থেকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে।
১) এতদিনেও সাইদী ছাড়া কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের গ্রেপ্তার করে রাখা হয়েছে ১ বছরের মত হয়েছে। রাজাকার বলতে সবার আগে যার নামটি আসতো সব সময় সেই গোলাম আজম কে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।
২) শুরুর দিন থেকে শুনে আসছি সরকারের হাতে সব প্রমান আছে। তাদের কে অপরাদী প্রমান করতে যা যা দরকার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সব প্রমান আছে।
৩) যাও সাঈদীর বিচার কাজ শুরু হয়েছে , স্বাক্ষীর যে নমুনা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে সরকার সত্যিকার ভাবে কুতকুত খেলতেছে। এই নিয়ে নয় জন স্বাক্ষীকে জেরা করল সাঈদীর আইনজীবী। তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ, জেল খাটার অভিযোগ, নারী নির্যাতনের অভিযোগ আছে , পাশাপাশি এক জনরে কথার সাথে আরেক জনের কথার ও অমির আছে।
৪) স্বাক্ষীদের যাদের মুক্তিযুদ্ধা বলা হচ্ছে সেখানেও প্রশ্ন উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র ২০১১ তে পাওয়া। দেশে কি প্রকৃতি মুক্তিযোদ্ধার অভাব ছিল ??? নাকি তারা সবাই এখন আর জীবীত নাই। জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান শেখ মুজিবুর রহমান যাদের ৪০০০০ জন কে সনদ দিয়েছিলেন তাদের একজনকে ও কেন স্বাক্ষী হিসেবে রাখা হয় নাই।
এখন আসছে মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর ফোরাম নামন সংগঠনটির কথা। এখানেও দুভাগ। আওয়ামীলীগ আর বিএনপি। বিএনপির কথা বাদ দিলাম। তারা সরাসরী এই বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। প্রশ্ন হল আওয়ামীলীগ এর সেক্টর ফোরাম এ কি ঐ ৪০০০০ এর একজন ও নাই। জিয়াউর রহমান এ সংখ্যা বাড়িয়ে করেছিলেন ৬০০০০ আর এরশাদ এটাকে ১ লাখ এ উন্নত করেছিলেন। এখন সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২ লাখ ।
প্রথম যে ৪০০০০ ছিল সেখান থেকে কেন স্বাক্ষী করা হয়নি ????? ( আমার পরিসংখ্যানে কিছু ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিবেন আশা করি, প্রকিত সংখ্যাটা আমাকে জানাবেন , সংখ্যাগুলা আমি বাংলাভিশনে ফ্রন্টলাইনে শুনেছিলাম )।
৫) যেখানে আপনার স্বাক্ষী দুরবল থাকে সেখানে আপনি অপরাধী কি মুখন্ত বলবেন নাকি ??
৬) যদি আপনার কাছে এখন পর্যন্ত প্রযাপ্ত স্কাক্ষ প্রমান না থাকে তাহলে কেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করে এক বছর ধরে জনগনের অর্থ তাদের পেচনে খরচ করছেন??? কেন ট্রাইবুনাল তৈরি করলেন ?? কেন আইনজীবী নিয়োগ করলেন ?? সব হাতে পাওয়ার পর আপনি এই সব করতেন ? এত তাড়াতাড়ি করে কি জনগনকে বুঝাতে চেয়েছিলেন আমি শুরু করছি। আর এর কারনে দেশের কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার কি হিসাব করেছেন ?
এখন পর্যন্ত বিচারের কিছুই হল না। এখনও সময় আছে এই ধরনের বিচারের নামে কুতকুত খেলা বন্ধ করে সত্যিকারের বিচার করেন, যেখানে স্বাক্ষীদের নিয়ে কেউ কোন প্রশ্ন তুলবেনা, প্রশ্ন তুলবেনো তাদের মুক্তিযুদ্ধের পরিচয় নিয়ে, প্রশ্ন তুলবেনা তাদের চরিত্র নিয়ে।তা নাহলে জনগন আপনাকে ক্ষমা করবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




