অনেকদিন ধরে আমার ছোট ভাইটা আমার কাছে একটা উপদেশ চাচ্ছিল, দিব দিব করে দেওয়া হচ্ছিল না। আমি কি বলব ঠিক নিজে ও বুঝতেছি না। এইটা বুঝতেছি ওর জায়গায় আমি থাকলে কি করতাম। কিন্তু তাকে আমি তা করতে বলতে পারব না। কারন আমি জানি আমার কাজটা করতে যতটা সহজ ও কষ্টকর হবে তার চেয়ে বেশী হবে ওর।তাই আপনাদের উপদেশ চাচ্ছি, দেখি ওকে কিছু বলতে পারি কি না।
বিষয়টা প্রেম ঘটিত। রাফিন ( আমার ছোট ভাই ) মাত্র বিবিএ শেষ করল।যাকে ভালবাসে তার নাম নাদিয়া। একই সাথে পড়ত । প্রেমটাও ভাল চলছিল । কার নামে কারো কোন অভিযোগ ছিল না। দুজনের কেয়ারিং, আন্ডারস্টেন্ডিং, রিপ্সেক্ট বলতে পারেন একটা ভাল রিলেশানের যা যা দরকার সবই ছিল । রাফিন এর ভাষ্যমতে নাদিয়া রাফিন এর চেয়ে রাফিন কে বেশী কেয়ার করত।
এখন সমস্যার মধ্যে আসি। সমস্যা টা শুরু হল ফেসবুক থেকে । রাফিন জানত নাদিয়া খুব একটা ফেইসবুক ব্যবহার করে না। নাদিয়ার ফেইসবুক একাউন্টে বন্ধুর সংখ্যা মাত্র রাফিন সহ ৬ জন। সবাইকে রাফিন চিনে জানে। ঐখানে নাদিয়ার কোন ফ্যামেলির মেম্বার ছিল না। ওদেরকে নাদিয়া ফেইসবুকে আনতে চাচ্ছে না। এই নিয়ে রাফিনের ও কোন মাথাব্যাথা নাই। সবই চলছিল ঠিক মত। নাদিয়ার ফেইসবুকে বসা হয় না। রাফিন কোন ছবি আপলোড করলে তাকে এস এম এস করে দিত,তখন নাদিয়া তা দেখত, কমেন্ট করত ।
অন্যদিকে রাফিনের এর বন্ধু নাদিয়ার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে ফেইসবুকে এ্যাড করে রেখেছিল অনেক আগেই। এইটা নাদিয়া বা তার বন্ধু কেউই জানত না রাফিনের সাথে তার সম্পর্কের কথা।
রাফিন কোন কারনে নাদিয়ার বন্ধুটিকে ফেইসবুক থেকে বাদ দিয়ে দেয়, পরে আবার এ্যাড রিকোয়েস্ট পাঠাইলেও এক্সেপ্ট করেনি । যাই হোক এভাবে চলছিল । গত কয়েক মাস আগে রাফিন তার এক বন্ধুর সাথে বন্ধুর বড় ভাই (সিনিয়ার ভাই ) এর বাসায় গিয়েছিল। সেখানে বড়ভাই ল্যাপটপ এ কাজ করতেছিল হঠাৎ কোন এক কারনে তিনি ১০ মিনিট এর জন্য বাইরে গেলেন। তার ল্যাপটপে ফেইসবুক একাউন্ট অন করা ছিল আর তাতে রাফিন দেখে নাদিয়ার সাথে যে বন্ধুটিকে রাফিন ডিলিট করে দিয়েছে তার একটা ছবি ট্যাগ করা। তা নাদিয়ার অন্য একটা একান্টে । যেখানে নাদিয়া নিজের নাম আর ছবি ব্যাবহার করে , যদিও রাফিন যে একাউন্টার কথা যানত সেখানে নাদিয়ার ফেবারেট কাটুন চরিত্রের নাম আর কাটুন এর ছবি ব্যবহার করা হত।
রাফিন নাদিয়াকে বিষয়টা জিগ্গাসা করে । নাদিয়া ও স্বিকার করে তার অন্য একটা একাউন্ট আছে , সেখানে সে শুধু তার পরিবারের সদস্যদের জন্য । রাফিন আর কিছু বলে না। এইটা ছিল ২মাস আগের ঘটনা । এরপর রাফিন তাকে তার ফ্রেন্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে তাকে ডিলিট করে দিব ।
নাদিয়া রাফিন কে বলে দিয়েছে এখানে তোমাকে এ্যাড করা যাবে না। রাফিন ও কিছু বলে নাই। কিছুদিন আগে থেকে রাফিন এর কাছে অজানা নাম থেকে মেইল আসা শুরু করল। কে করল তা না বলেলও মেইল পড়ে সে এটা বুঝতে পারছে যে রাফিন কে আর নাদিয়াকে খুব ভাল করে চিনে। মেইলে সে নাদিয়ার ফেইসবুক যা সে নিজের নামে ব্যবহার করে গত ২ মাসএর ডিটেইল পাঠিয়েছে।আর সেখনা থেকে যা যা জেনেছে তাহল....
......এইখানে নাদিয়ার স্কুল কলেজ এর সব বন্ধু আর পরিবারের সব সদস্যের নাম । এই একাউন্টে নাদিয়া প্রতিদিন ই বসে । নরমালি একজন ফেইসবুক ইউজার যেভাবে ইউজ করে সেও সেভাবে করে ।
এখন আমার কাছে তার প্রশ্ন এমনিতে তাদের সম্পর্ক গত কয়েক মাস ধরে ভাল যাচ্ছে না, তাছাড়া নাদিয়া তাকে এই ব্যাপারে কিছুই ক্লিয়ার করবে না, এখন সে কি করবে ??? রাফিন এর প্রশ্ন হল কেন সে ফেইসবুক নিয়ে তার সাথে মিথ্যা কথা বলল ????
*পড়াশেষে দয়া করে মন্তব্য করবেন । কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



