somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রের খৎনা :ফালতু কাজে টাইম খরচ,শিশুর সাথে আলাপচারিতা-1

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ইটালিক]([গাঢ়]ভুমিকা:[/গাঢ়]এটি খুবই সহজ ভাষায় এবং সহজবোধ্য উদাহরন দিয়ে লেখা একটি ধারাবাহিক প্রবন্ধ।মুলত শিশুরা যাতে বুঝতে পারে এজন্যই এই প্রয়াস। কেউ একে 'ছোটদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিক্ষা' বললে আপত্তি করব না। বড়োরা ,(যারা অলরেডি আমার থেকে বেশী জানেন)এই প্রবন্ধ পড়ে কিছুই শিখতে পারবেন না,বরং বিরক্ত হবেন। সুতরাং তারা না পড়লেই ভালো করবেন।)[/ইটালিক]


[গাঢ়]: আব্বু,রাষ্ট্রীয় ধর্ম কি থাকতে পারে ? 'জাতীয় পাখি,জাতীয় পশু" যখন আছে ?[/গাঢ়]

: রাষ্ট্রীয় ধর্ম একটি হাস্যকর আইডিয়া। এটি এরশাদ সাহেবের একটি সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার অপচেষ্টা।ধর্ম মানুষের জন্য এসেছে। রাষ্ট্র কোন মানুষ নয়,ধর্ম পালন রাষ্ট্রের জন্য জরুরি কোন বিষয় নয়। রাষ্ট্র নিজে পুজা করবে না,নামাজও পড়বে না। রাষ্ট্রকে খৎনা করে মুসলমান হওয়ারও দরকার নেই।

'জাতীয় পাখি,জাতীয় পশু' এগুলোর কনসেপ্ট ভিন্ন। এগুলো একটি রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবসথানকে রিপ্রেজেন্ট করে।মনে রাখবা,রাষ্ট্র কোন বায়বীয় বিষয় নয়,রাষ্ট্রের একটি ভৌগলিক সীমারেখা থাকে। এই সীমারেখার মধ্যেই মানুষের দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটে।দেশ প্রেম একটি বিশদ ব্যাপার,একে ধারন করার জন্যই এই জাতীয় পতাকা কিংবা জাতীয় সঙ্গীতের দরকার হয়ে পড়ে। এগুলো খুবই প্রতিকী বিষয়,কিন্তু এগুলো মধ্য দিয়েই নাগরিকের প্রেম প্রকাশিত হয়,তাই এগুলোকে একেবারে ফেলে দেয়া যাবে না।

উদাহরন দেই, লাল সবুজ পতাকা দেখলে তোমার যে অনুভুতি হয়, একজন পশ্চিম বঙ্গীয় বাঙ্গালির সেই অনুভুতি হবে না। অথচ,তোমরা দুজনেই বাঙ্গালি,প্রায় একই অঞ্চলের অধিবাসি এবং একই ভাষাভাষি।লাল সবুজ পতাকা তোমার চেতনায় যে দেশপ্রেমের দোলা দেয়,এক ভারতীয় মনে সে দোলা দেবে না।এর কারন হচ্ছে ,এই পতাকা তোমার রাস্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করছে আর এই রাস্ট্র একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখা দিয়ে প্রতিষ্টিত। এবার ধরা যাক,তুমি 'ইসলাম' অথবা 'মুসলমান' শব্দটি শুনলে। তোমার মনে প্রথমেই বিশ্ব জনীন মুসলমানদের কথা আসবে,কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের মুসলমান নয়।সুতরাং এটি তোমার রাষ্ট্রকে রিপ্রেজেন্ট করে না। তাহলে রাষ্ট্রকে তার 'জাতীয় ধর্ম' বলে কিছু রেখে লাভ হচ্ছে না। একারনেই যদি কোন ধর্মের মানুষ সেই ভুখন্ডের বাইরেও থেকে থাকে তবে কোন নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখাকে সেই ধর্ম দিয়ে বেধে ফেলা যাবে না।

[গাঢ়]: আব্বু,ধর্ম নিরপেক্ষতা একটি রাষ্ট্রের নীতি হবে কিভাবে? গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তো সংখ্যাগরিষ্টের মতামত,আচার আচরন,সংস্কৃতি প্রতিফলিত হবে,তাই না?[/গাঢ়]

: ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মহীনতা এক বিষয় নয়। যারা এদুটোকে গুলিয়ে ফেলে কথা বলেন, হয় তারা ইচ্ছে করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেন নয়তো জিনিষটি তাদের ধারনায় পরিষ্কার নয়।

প্রথম কথা হচ্ছে ,গনতন্ত্র কখনোই শুধু সংখ্যাগরিষ্টের মতামতের উপর প্রতিষ্টিত হয় না। গনতন্ত্রের মানে যা ইচ্ছা তা করা নয়,বরং সঠিক কিছু করা।ধরাযাক,একটি দেশের অধিকাংশ মানুষ একজন নিরপরাধকে ফাসি দিতে চাইলো,এখন গনতন্ত্রের কথা বলে এই কাজটি করা যাবে না।

এখন আসো 'নিরপেক্ষতা'বলতে কি বুঝায়। 'নিরপেক্ষতা' হচ্ছে যে তুমি রাগ অনুরাগ বিরাগ এই সব ব্যাক্তিগত বিষয় দিয়ে তোমার দায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারবে না।একজন বিচারক অবশ্যই নিরপেক্ষ হবেন,কিন্তু তার মানে কি তিনি বাদি -বিবাদি দুজনকেই সমান শাস্তি দিবেন ?বরং নিরপেক্ষ বিচারক হচ্ছেন তিনি যিনি তার আবেগ দিয়ে বিচার করবেন না। তার খুব প্রিয় কেউও যদি অপরাধ করে থাকে এবং সেটি প্রমানিত হয় তাহলে সেই অপরাধীদের শাস্তি দিবেন।এটিই নিরপেক্ষতা।

রাস্ট্র হচ্ছে তার নাগরিকের অভিভাবক। সুতরাং সে নিরপেক্ষ হবে। অর্থ্যাৎ,সে তার প্রত্যেক নাগরিককে সমান চোখে দেখে তাদের প্রাপ্য দিবে ।যেখানে নাগরিকের ব্যাক্তিগত কোন বিষয় যদি বাধা না হয়ে দাড়ায় তবে সেই বিষয়কে বিবেচনায় আনবে না। উদাহরন দেই,ধরা যাক প্লেন চালাতে হলে প্রখর দৃষ্টিশক্তির দরকার। সুতরাং প্লেন চালাতে রাষ্ট্র কোন স্বল্পদৃষ্টির লোককে নিয়োগ দিবে না। কিন্তু,প্লেন চালাতে গিয়ে ছেলে বা মেয়ে দেখার দরকার নেই,সুতরাং রাষ্ট্র শুধু পুরুষকেই প্লেন চালাতে হবে ,এরকম কোন আইন করতে পারবে না। করলে সেটি হবে নিরপেক্ষতার স্খলন হবে।

ঠিক এভাবেই রাস্ট্র কারো ধর্মের বিষয়ে নাক গলাতে পারবে না। রাষ্ট্রের পরিচালকরা যদি হিন্দু হন,তবে মুসলমানদের নামাজের বিষয় তাদের কোন খবরদারি চলবে না।আবার মুসলমান শাসক,অন্য ধর্মের পুজা অচ্র্চনায় বাধা দিতে বা প্রভাবিত করতে পারবেন না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে,মুসলিম শাসক তার নিজের ধর্ম পালন করবেন না,তিনি সেটি করবেন,কিন্তু তিনি তার কোন কাজে তার দেশের নাগরিকের কার কি ধর্ম সেটা নিয়ে ভাববেননা।এর নামই নিরপেক্ষতা।

[ইটালিক](চলবে..?হয়তো!)[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০০
৭৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×