আমার প্রিয় পোস্ট

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও নানাবিধ যুক্তি : শিশুর সাথে আরেকটি আলাপচারিতা

২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫০

                       


:আব্বু,আজ যদি এই বিষয়ে কিছু বলতে ।এই যে সবাই বলছে দেশে যুদ্ধাপরাধী নেই,এবং এদের ব্যাপারে আগ্রহী যে কেউ মামলা করতে পারবে,এই বিষয়ে একটু বুঝিয়ে দাও ।
:এ বিষয়ে কথা বলতে হলে,তোমাকে আগে কিছু প্রশ্ন করি ।তুমি বলতো আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে কবে?আমাদের
স্বাধীনতা দিবস কোনটি ?

:আমরা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন হয়েছি ।২৬ মার্চই আমাদের স্বাধীনতা দিবস ।

::গুড,তাহলে দেখ,আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে ২৬ মার্চ,১৯৭১ সালে ।কিন্তু আমাদেরকে আরো ৯ মাস যুদ্ধ করতে হয়েছে ।এর মানে হলো,এই ৯ মাস যারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে,এরা বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ করেছে ।এরা বাংলাদেশের কেউ নয়,এরা বহি:শত্রু ।তাই যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করবে,তারা বাংলাদেশের হোক,আর পৃথিবীর যেকোন দেশেরই হোক,তাদেরকে স্বীকার করতে হবে যে এই যুদ্ধটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ ।
সুতরাং যারা এটাকে গৃহযুদ্ধ বলে বিভ্রান্ত করতে চাইছে,তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তোমাদেরকে শয়তানি তথ্য দিয়ে কনফিউজড করতে চাচ্ছে ।

:মানলাম যে আমরা পাকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করেছি,এবং এটি একটি যুদ্ধ ছিল,গৃহযুদ্ধ নয় ।তাহলে যারা বাঙালি হয়েও পাকিস্তানীদের সাথে থাকতে চাইছিল,তাদেরকে কেন যুদ্ধাপরাধী বলা হবে ?তারা তো পাকিস্তানী আর্মি না ।ইদানিং শুনছি বলা হচ্ছে যে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারনে তাদেরকে হয়রানি আর বদনামের শিকার হতে হচ্ছে

:এটা আরেকটি শয়তানি কথা ।দাড়াও,তোমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি ।যারা পাকিস্তানীদের সাথে থাকতে চাইছিল,এটা যুদ্ধাপরাধ না ।কিন্তু তারা তো থাকতে চেয়ে চুপ করে বসে থাকে নি ।তারা কিন্তু যুদ্ধও করেনি সরাসরি,তাদের সেই সাহস ছিল না ।তারা যে কাজটি করেছিল এটি ভয়াবহ,এটি মর্মান্তিক ।
তারা নিরীহ মানুষকে ধরে ধরে মেরে ফেলেছিল,তারা মানুষের ঘরবাড়ি লুটপাট করেছিল,তারা বিভিন্ন জায়গায় আস্তানা গাড়া মুক্তিযুদ্ধাদের খবর পাকিস্তানীদের কাছে পৌছে দিয়েছিল ।এটা ছোটখাটো যুদ্ধাপরাধ না,নিরীহ মানুষকে খুন করা খুব বড়ো অপরাধ ।তারা এই অপরাধে অপরাধী ।

:ঠিক আছে,বুঝলাম এই কথাটিও ।কিন্তু সরকার তো বলছেই যে এদের বিরুদ্ধে মামলা করে দিতে যে কাউকে ।এমনকি ওরাও তো এই কথা বলছে ।

:যারা এটা বলছে,তারা খুব কৌশলে তাদের নষ্ট বিষয়টিকে স্টাবলিশ করছে ।
তোমাকে একটা উদাহরন দেই ।
কয়েক বছর আগে,মাত্র দুই তিন বছর আগে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝোপে রাহেলা নামের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে তিনদিন ফেলে রেখে হত্যা করা হয়েছিল ,এটা জানো ?

:জানি ।

:অথচ দেখো,তার স্বামী কিন্তু একদিনও থানায় যায় নি বিচার দিতে বা মামলার খোজঁ খবর নিতে ।সে আরেকটি বিয়ে করে ফেলেছে ।এটা হচ্ছে আমাদের সাধারন মানুষের স্বভাব ।তার খুবই সহজ সরল,তারা তাদের বিরুদ্ধে করা সব অবিচারের জন্য আল্লাহ'র কাছে বিচার দেয়,থানা পুলিশে যেতে ভয় পায় কারন তারা এই সব প্যাচ বুঝে না ।

এখন রাহেলার ঘটনাটি মাত্র তিন বছর আগের,এখানে রাহেলার ডেথবেড স্বাক্ষী আছে,তবু এই মামলাটি তার পরিবার চালাতে আসে নি ।
এখন তোমাকে মনে রাখতে হবে যে ,১৯৭১ সালের বেশির ভাগ বিভৎস হত্যাকান্ড,লুটতরাজ এগুলো হয়েছে গ্রামের দিকে ।তখন যাতায়াত ব্যবস্থা,যোগাযোগ ব্যবস্থা এগুলো আরো অনেক অনেক খারাপ ছিল ।তাই বিশ্বের সবার চোখ এড়িয়ে বেশির ভাগ নৃশংষ হত্যাযজ্ঞ হয়েছে সাধারন গরীব মানুষের উপর ।তাছাড়া,শহরে যেসব জায়গায় হয়েছে,সেই মানুষেরা শহরের সেই জায়গায় এখন নেই অনেকেই ।
এরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে,এদের পক্ষে স্বাক্ষী জোগাড় করে আনা কঠিন ,এক কথায় অসম্ভব প্রায় ।
তাই সরকার জানে যে এই মামলাগুলো প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না,তখন মামলাগুলো থেকে বেকসুর খালাস পাবে রাজাকাররা,তারপর তারা বুক ফুলিয়ে চলবে ।তাদেরকে আর যুদ্ধাপরাধী বলা যাবে না ।

তাহলে,কী আর করা?এদের শাস্তি হবে কিভাবে ?

:এখানেই তো পুরো শয়তানি ।বিচার করতে হবে সরকারকে,মামলা করতে হবে সরকারকে ,এটা তারা বলছে না ।
ধরো এই যে গ্রেনেড হামলা হলো এতোগুলো,এই যে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে,এই মামলাগুলো কি মানুষ করেছে,তাহলে এদের ধরছে কেন ?

:ধরছে,কারন এটা করা সরকারের দায়িত্ব ।

:ঠিক,এটা সরকারের দায়িত্ব ,কারন সরকার তার জনগনের অভিবাভক ।সরকারকে তো কেই গ্রেনেড মারতে যায় নি,ইয়াবা খাওয়াতেও যায় নি,তবু সরকার মামলা করছে,অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছে,কারন এগুলো করা হয়েছে দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে ।এখানেই সরকারকে ফাংশনাল ভুমিকা নিতে হয় ।

১৯৭১ সালে যে জঘন্য গনহত্যা,ধর্ষণ,লুটপাট হয়েছে এগুলো হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে,তাই এর বিচার করার জন্য সাধারন মানুষের মামলা করার দরকার নেই,এই মামলা সরকারকেই করতে হবে ।
কিন্তু সরকার এই দিকে যাচ্ছে না,তারা এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্ঠি করতে চাইছে ।

:কিন্তু আব্বু,তুমিই বলছো যে এখন স্বাক্ষী জোগাঢ় করা কষ্ট হবে কারন বিষয়টি ৩৭ বছরের পুরোনো।


:এটারও পথ আছে ।এখন করতে হবে ট্রাইবুনাল ।
স্পেশাল ট্রাইবুনাল করার নজির পৃথিবীর প্রায় সব সভ্য দেশেই আছে ।বিশেষ পরিস্থিতির জন্য বিশেষ বিচার ।ধরো,আজকে ঢাকায় একটা খুন হয়েছে ,একজন আরেকজনকে খুন করে ফেলেছে ।তখন এর স্বাক্ষী সাবুদ নিয়ে অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে,এই খুনের খবরটি পত্রিকায় এসেছে কি না তা বড়ো হয়ে দেখা দেবে না ।

কিন্তু এই দেশেই কিন্তু একটা অপশন আছে যেটির নাম "চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ সেল " এর মানে সরকার স্বীকার করেছে যে কিছু অপরাধ মানুষের মনে বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্ঠি করে,এগুলোর বিচার দ্রুত করতে হবে ।এগুলো সাধারন মামলা নয় ।

১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে ,যখন সাধারন মানুষ প্রান নিয়ে পালাচ্ছিল,তখন তাদের পক্ষে নিখুঁত স্বাক্ষী সাবুদ জমা রাখা সম্ভব ছিল না ।
তাই পরিস্থিতি বিচার করে ,কার্যকারন বিচার করে বিচার করা যাবে,এটা স্বাভাবিক বিষয় বিশেষ পরিস্থিতিতে ।

তারপর এই মামলাগুলোর অনেকগুলোই সামরিক আইনে করা যাবে ।স্বাধীনতা ঘোষনার পরে সব মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে ,কারন যুদ্ধের সামরিক নেতৃত্ব দিচ্ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । তাই বিশেষ সামরিক আইনেও তাদের বিচারের বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে ।


: কিন্তু আব্বু , অনেকে অন্য কথা বলছেন । তারা বলছেন যে দেশে এখন অনেক সমস্যা । দ্রব্যমূল্য হু হু করে বাড়ছে , নতুন কর্মসংস্থান নাই তাই বেকারত্বের হার বেড়ে চলছে , বিদ্যুত এবং গ্যাসে বিপর্যয় ,গনতন্ত্র পূন:প্রতিষ্ঠাচ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে , এই সব জটিলতার মাঝে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করাটা কি আমাদের প্রায়োরিটি হওয়া উচিত নাকি বর্তমান সময়ের অন্যান্য সমস্যা মোকাবেলা কারাটাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ?


: শোনো , একটা কথা মনে রাখবে যে দূর্জনের ছলের অভাব নেই ।এসব কথা বার্তা সেই ছলেরই একটা অংশ । তুমি যে সমস্যাগুলোর কথা বললে সেগুলোর সমাধান অবশ্যই দরকার । তবে রাষ্ট্রে প্রায়োরিটি বলে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়া ঠিক নয় । প্রত্যেক অংশ প্রত্যেকে কাজ করবে ।

দ্রব্যমূল্য , বেকার সমস্যা এগুলো নিয়ে আদালত কাজ করে না । এমন নয় যে আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজে লাগিয়ে দিয়ে সেই সমস্যাগুলোতে কাজ করা যাবে না ।
আদালতের কাজ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা । দ্রব্যমূল্য বা বেকার সমস্যা হচ্ছে অর্থনীতিবিদদের কাজ ।
অর্থনীতিবিদরা তাদের কাজ করে যাবেন , বিচার বিভাগ এবং ট্রাইবুনাল তাদের কাজ করে যাবে । দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে কি দেশের কোর্টকাছারি বন্ধ করে দেয়া হয় নাকি ? কখনোই হয় না। কারন প্রত্যেকের কাজই আলাদা ।
সুতরাং অন্যান্য সমস্যার সমাধান করার নামে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করাটা পেছনে চলে যেতে পারে না ।



: বর্তমান সময়ে এই বিচার দাবী করাটা কি সৎ উদ্দেশ্যে হচ্ছে ? অনেকেই মনে করতে পারেন যে এর পেছনে আওয়ামীলীগের ইন্ধন আছে । যেহেতু বিএনপি -জামাত জোট একটি শক্তিশালী জোট সুতরাং জামাতকে দুর্বল করে দিতে পারলে ভোটের রাজনীতিতে এই আওয়ামীলীগ সুবিধাজনক স্থানে চলে যাবে । এই কারনের এই দাবীগুলো তোলা হচ্ছে । আসলে আওয়ামীলীগের কোন ইচ্ছা নেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার

: এই সন্দেহ করাটা অযৌক্তিক নয় । প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে সেটা থেকে ফায়দা উঠানো রাজনৈতিক চর্চার অংশ ।
এর একটা ভালো জবাব হতে পারে অবিলম্বে সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করা । সেটা আওয়ামীলীগের নুরুল ইসলাম আর বিএনপির সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী আর জামাতের নিজামী মুজাহিদ , সবাইকেই এক ট্রাইবুনালে আনা হোক । এতে করে এটা থেকে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারবে না ।

তবে যুদ্ধাপরাধীদের বেশির ভাগই যেহেতু জামাত এর সাথে জড়িত , তাই এই দলের জন্য এটাবেশি সমস্যা হয়ে দাড়াবে , কিন্তু এর জন্য তো বিচার থেমে থাকতে পারে না ।

আওয়ামীলীগের বা বিএনপির পক্ষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করার ইচ্ছা না ও থাকতে পারে । সেখানে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ আছে । বর্তমান সরকারের কিন্তু তেমন কোন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই বলে দাবী করছেন সরকারের সবাই । । তাহলে বর্তমান সরকারের পক্ষেই এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করাটা সহজ ।
------------------------------------------------



( ফুটনোট : নতুন পাঠকদের অবগত করার জন্য জানাতে চাই যে " শিশুর সাথে আলাপচারিতা" আমার একটি অনিয়মিত সিরিজ যেখানে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সহজ ভাবে আলাপ করা হয় । শিশুদের পাশাপাশি , যাদের সঠিক মানসিক বিকাশ না হওয়ায় অনেক বিষয়েই না বুঝে উল্টাপাল্টা বলেন সেই বড়োরাও যদি এই সিরিজটি থেকে উপকৃত হন , তাহলে পরিশ্রম স্বার্থক হবে । আজকের পর্বের কিছু অংশ আগে প্রকাশিত হয়েছে ।)

 

 

  • ১১৪ টি মন্তব্য
  • ৮১৩বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪২ জনের ভাল লেগেছে, ১৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৪
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: গুড।।।
২. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০১
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: চরম। প্রিয় পোস্ট
৩. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪
comment by: প্রশ্ন কত বলেছেন: আমাদের কমান্ডার সাহেব যে মিনমিনে গলায় কথা বলছেন তাতে কাজ কিছু হইবে বলে মনে হচ্ছে না , সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু না ।

আমাদের কমান্ডার সাহেবরা আরেক কমান্ডার আবু উসমানকে মন্চে জায়গা দিতে পারে নাই ।

উনারাই এক হইতে পারেন না, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবেন সে গুড়েবালি
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬

লেখক বলেছেন: কমান্ডার সাহেবরা বিচার করবেন , এটা তো কথা না ।
তারা বিচার করনেঅলা কে ?

বিচার করতে হবে সরকারকে ।
তারা তাদের মতো দাবী জানাচ্ছেন , চলেন আমরা আমাদের মতো দাবী জানাই ।

৪. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: সাম্প্রতিক যারা ব্লগ দেখেছেন

* অন্যমনস্ক শরৎ
* দুর্দান্ত কাফেলা
* অমি রহমান পিয়াল
* প্রশ্ন কত

দুইজন মাইনাস প্রদানকারী আছেন এই তালিকায় । তাদেরকে আলোচনায় আহ্বান জানাচ্ছি ।
৫. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪
comment by: কোবরা বলেছেন:

প্লাস সাথে ধন্যবাদ।
৬. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭
comment by: অচেনা বাঙালি বলেছেন: তিনটা পরছে।
আরেকজন আছে ডিউটিতে। সে এখনও দেয় নাই।
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২০

লেখক বলেছেন: এই মাত্র চতূর্থটা পড়েছে ।

৭. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭
comment by: রাজামশাই বলেছেন: এই নে তোর পুরস্কার -



আরও ভাল ভাল লিখবি- দেশে তোদের মতো লোকের খুব দরকার।
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২১

লেখক বলেছেন: মহারাজ , এই সব মালা দিয়া কি করব , পুরুষ মানুষ হয়ে গলায় পরাটা কি ঠিক হবে ?

৮. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭
comment by: ফেলুদা বলেছেন: চরম। কাজের পোস্ট।
৯. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৮
comment by: প্রশ্ন কত বলেছেন: + - এ বিশ্বাস করি না , বলার থাকলে বলে দেই সরাসরি ।

বিচার হলে ভাল না হলে ক্ষতি নাই ।
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩

লেখক বলেছেন: " না হলে ক্ষতি নাই " কেন ? হত্যা ,ধর্ষণ ,লুটতরাজের বিচার না হলে ক্ষতি হয় না কেন ? একটু বুঝিয়ে বলুন প্লিজ ।

১০. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৯
comment by: সাগর নীল বলেছেন: আপনার উত্তর গুলিও শিশু সুলভ। যদি রাজনিতিক কারনে কেউ পাকিস্থান এক থাক এইটা চাওয়া যুদ্ধাপরাধ হয়, তবে আমরা বাংগালিরা(আপনি সহ) সবাইতো যুদ্ধাপরাধি কারন আমরা চাকমাদের সাধীনতা দেইনি। এরপর আপনি সাক্ষি সাবুদের ব্যাপারে যা বলেছেন তাকিন্তু চরম শিশু সুলভ। আপনাদের কথা হচ্ছে বিচার টিচার দরকার নাই, প্রমান দরকার নাই ফাসিতে লটকাইয়া দেও। সেই দিন শেষ। আর বিহারী হত্যার ব্যাপারটা বেমালুম চেপে গেছেন। এই ধরনের গল্প শিশুদের সাথেই করতে পারবেন বড়দের সাথে নয়। ধন্যবাদ।
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯

লেখক বলেছেন: সাগর নীল , সেই সময়ে রাজনৈতিক কারনে অখন্ড পাকিস্তান চাওয়াটা দোষের কিছু না , বড়োজোর বলা যেতে পারে যে এটা জনমতের বিরুদ্ধে যাওয়া এবং রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত ।

কিন্তু অখন্ড পাকিস্তান রক্ষার ইরাদা নিয়ে খুন ,লুটতরাজ , ধ্বংস ,ধর্ষন , এসব তো রাজনৈতিক বিষয় নয় , এগুলো ফৌজদারী অপরাধ ।
আপনি কেন এদের বিচার চান না আরেকটু বুঝিয়ে বলুন ।

১১. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১১
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: অনিয়মিতটাকে নিয়মিত করলে ভালো লাগতো আরেকটু ;)
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২০

লেখক বলেছেন: আইচ্ছা , দেখা যাক । ;)

১২. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৭
comment by: মাহমুদ মামূন বলেছেন: অসাধারন পোষ্ট।

প্রিয় তালিকায় সংযুক্ত।

২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহমুদ মামূন ।

১৩. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২০
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:

আমি একটা মাইনাস দিয়েছি.. সিলেক্টিভ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করার জন্য। এখন আপনার করণীয় কি?

১) আমাকে রাজাকার ঘোষনা করেন (তবে ব্লগে বললে অভিযোগ করে তিনদিনের ব্যান খাওয়ার ব্যবস্থা করবো। তাই মনে মনে বলেন।)
২) আমারে আপনার ব্লগে ব্যান করে দেন।
৩) কিছু গালাগালি দিতে পারেন. নিজে না পারলে আপনার বন্ধুদের দিয়ে করান। তবে নিজেও দিতে পারেন.. ইনডাইরেক্টলি.. ডাইরেক্ট দিলে তো নিজের ভদ্রতার মুখোশটা থাকবে না।

এবং পরিশেষে.. গেট ওয়ের সুন।

(মন্তব্য পছন্দ না হলে মুছে দেন)
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮

লেখক বলেছেন: চতুর্থ মাইনাস দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

১. আপনাকে রাজাকার বলে ঘোষনা করব কেন ?
ব্লগের সবাই জানে এমন কোন তথ্য আমি নতুন করে দিতে চাই না ।

২. ব্যান করব কেন ? আপনি তো কিছুই বলেন নি । মাইনাস দিয়েছেন মানে হল আপনার ভালো লাগে নি । আপনার ভালো না লাগাটাই স্বাভাবিক । স্বাভাবিক আচরনের জন্য তো কাউকে ব্লক করা হয় না , করা হয় অস্বাভাবিক আচরনের জন্য । নাকি আপনি স্বাভাবিক আচরনের জন্য আপনার ব্লগে লোকজনকে ব্যান করে রাখেন ?

৩. আপনাকে গালাগালিই বা দেব কেন ? ব্লগে গালি স্বস্তা হলেও আমারগুলো এতো স্বস্তা নয় ।


আপনি আমার কাছে যাযা চেয়েছেন , তার কিছুই দিতে পারলাম না বলে দূ:খিত ।
ধন্যবাদ , আবার আসবেন ।


১৪. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২৪
comment by: মরা জিল্লুর(তৈলুর রহমান) বলেছেন: আমিও মাইনাস দিলাম।
পছন্দ না হলে মুছে দেন। চাইলে ব্যানও করতে পারেন।-----------------------------------------
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩০

লেখক বলেছেন: মরা মানুষ মাইনাস দিচ্ছে ! হায় হায় , তাহলে তো আঁতে অনেক ঘা লেগেছে দেখছি , একেবারে কবর থেকে উঠে মাইনাস দিতে হচ্ছে ।

১৫. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬
comment by: কোবরা বলেছেন:
ব্লগের জ্ঞানী(!) ছাগু মুখ দিছে এই পোস্টে..........ছাগু আছো কেমন?
১৬. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৬
comment by: আবুল বাহার বলেছেন: জেবতিক ভাইর লেখা মিস করি অনেক দিন । প্রিয়তে রাখলাম । আসলে আমিই সময় দিতে পারিনা ।

ধন্যবাদ আরিফ ভাই ।
২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৪১

লেখক বলেছেন: কেমন আছেন বাহার ? আপনার লেখাও কিন্তু খুব অনিয়মিত । আপনার ভাতিজার খবর কী ? পিচ্চি কি বড়ো হয়ে যাচ্ছে ?

১৭. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৮
comment by: সাগর নীল বলেছেন: দেখুন সত্যিকারের বিচার হলে তো ভালই হত এবং তা করা যেত সাধীনার পর পরই। কিন্তু তা করা হয়নি। মেইন যুদ্ধাপরাধী হইতেছে পাকিস্থানী সেনারা এখন তাদের কি আর বিচার করা যাবে সিমলা চুক্তির পর? তারপর আসতেছে রাজাকার বা কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসংগ। আমি তো বলছি যে , রাজনীতিক কারনে কেউ যদি পাকিস্থান এক থাক এইটা চায় , এইটা তো আপনার যুদ্ধাপরাধ না। যেমন ধরেন এইযে চাকমাদের আমরা সাধীনতা দেই নাই। তাইলে আমরা কি যুদ্ধাপরাধি। তাইলে আর থাকে ছোটখাট রাজাকাররা যাদের অনেকেই মারা গেছে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। এরা হইতেছে চুনোপুটি। আর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা যুদ্ধাপরাধ করছে , যার বিহারী খুনের ভিডিও ক্লীপ পর্যন্ত আছে (আমার আগের পোস্ট দেখেন) তাদের কি বিচার করা যাবে?
এখন আইনের ভাষায় প্রধান আসামীদের বাদ দিয়া কি সহযোগীদের বিচার করা যায়? আর এত দিন পরে কোন দোষ কি প্রমান করা যাবে? আইন কিন্তু আসামিকে বেনিফিট অফ ডাউট দেয়। এই যে কয়দিন আগে, নিজামী আর মুজাহিদের বিরুদ্ধে কয়্টা মার্ডার কেইস দিছে এই গুলির কি কোন খবর আছে?
আসলে এই ইস্যুটাকে ব্যবহার করা হইতেছে রাজনীতিক কারনে। তারপর ও কেউ তো কোন কেইস করতাছেনা? সরকারে তো কইছে কেইস করনের জন্য।
আর ইন্টারন্যাশনাল ল মতে তো বাংলাদেশ আর পাকিস্থানের মধ্যে কোন যুদ্ধ হয় নাই। যুদ্ধ হইছে পাকিস্থান আর ইন্ডিয়ার মধ্যে আর পাকিস্থানে সিভিল ওয়ার হইছে। সুতরাং রাজাকারদের বিচার ইন্টারন্যাশনাল ল মতে যুদ্ধাপরাধে পরেনা। নরমাল কোর্টে কেইস করতে হইব। এবং কয়েকটা কেইস হইছেও।
আপনি খালি ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্ট গুলা বা এনসাইক্লোপিডিয়া গুলা পইরা দ্যাখেন। দেখবেন সেইখানে লেখা আছে, ইন্ডিয়া আর পাকিস্থানের মধ্যে যুদ্ধ হইছে আর পাকিস্থানে সিভিল ওয়ার হইছে।
ফকরুদ্দিন সাব তো কইছে , কেউ যদি কেইস করতে চায়, করতে পারে। কিন্তু তারা করতাছে না ক্যান? এই ইস্যটা ব্যবহার করা হইতেছে রাজনীতিক উদ্দেশ্যে আর পাইকারী হারে ছেলে বুড়া সবাইকে বলা হইতেছে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী।

আর রাস্ট্রিয় ভাবে যদি করতে হয় তাইলেতো ওয়েইট করতে হইব কেননা এইসরকারএর কাজ তো যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা না। এই সরকারেরতো নির্বাচন দিয়া যাইবো গা আর নির্বাচন মাত্তর ৬/৭ মাস বাকি।এখন যদি এই সব নিয়া হাউকাউ করা হয় , তাইলে তো আর্মি চান্স নিয়া ক্ষমতা নিয়া নিতে পারে আর বাংলাদেশের গনতন্ত্র আরো ১০ বছরের জন্য শেশ।
এখন দ্যাখতে হইবো, আমাদের প্রায়োরিটি কি?

আপনি লেখক মানুষ, ভালবাসার কথা কন, তার চেয়ে আসেন না নুতন প্রজম্মের মাঝে হেইট্রেড না ছড়াইয়া ভালবাসার কথা কই। ফ্রান্সের সারকোজি নির্বাচিত হইয়াও পরথমে গ্যাছে জার্মানি। ইংল্যান্ডের স্কুলে কি পড়ানো হয় ঘ্রিনার কথা। তারা সবাই তো এখন বন্ধু আমরা কেন পারমুনা।
আর দ্যাশের পরধান সমস্যা হইল দুর্নীতি। এই দুর্ণিতির বিরুদ্ধে লেখেন । দ্যাশের মাইনসে লাভ হইব। শিশুদের মাঝে নেগেটিভ কথা কওন কি একজন লেখকের কলমে ভাল্লাগে , আফনে কন?
১৮. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৮
comment by: আরণ্যক যাযাবর বলেছেন: "শিশুদের পাশাপাশি , যাদের সঠিক মানসিক বিকাশ না হওয়ায় অনেক বিষয়েই না বুঝে উল্টাপাল্টা বলেন সেই বড়োরাও যদি এই সিরিজটি থেকে উপকৃত হন , তাহলে পরিশ্রম স্বার্থক হবে । "


সেই বড়দের অনেকেই দেখি এরমধ্যে হাজির।
প্রিয় পোস্টে যোগ করলাম।
১৯. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৮
comment by: বন্ধনহীন বলেছেন: "শিশুদের পাশাপাশি , যাদের সঠিক মানসিক বিকাশ না হওয়ায় অনেক বিষয়েই না বুঝে উল্টাপাল্টা বলেন সেই বড়োরাও যদি এই সিরিজটি থেকে উপকৃত হন , তাহলে পরিশ্রম স্বার্থক হবে। "

খাঁটি কথা। তবে সমস্যা হলো - অনেকে উপকৃত হতে চান না। মগজটা যদি বিক্রীই হয়ে যায়, তাতো আর নিজের জন্য ব্যবহার করা যায় না।
২০. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১
comment by: নাবিক বলেছেন: মনে রাখবেন, বাংলাদেশের সকল সাধারণ মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।

তার সাথে বিচার বিচার চায় আপনাগো মতো পুরান পাপীদের?

"১৯৭১ সালে যে জঘন্য গনহত্যা,ধর্ষণ,লুটপাট হয়েছে এগুলো হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে,তাই এর বিচার করার জন্য সাধারন মানুষের মামলা করার দরকার নেই,এই মামলা সরকারকেই করতে হবে ।"

ভালা কথা, বিএনপি না হয় জামাতের এ টিম। ওরা ক্ষমতায় থাকতে মামলা করেনি কেন? তখন আপনার ঘুমান ক্যান?

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতা এ.কে.খন্দকার সংসদ সদস্য ছিলেন, এইলোক তখন যুদ্ধাপরাধ নিয়ে সংসদে একটা লাইন বলেনি, একটি বিল আনেনি। এখন উনি বড় নেতা!

৯১ এর নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাদানিক হইলো, অনেক আন্দোলন কইরা লাভের লাভ গোলাম আযমের নাগরিকত্ব কনফার্ম করলো। ৯৬ তে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঘাদানিক ভেজা বিড়ালের মতো চুপসে গেলো। এখন আন্দোলনটি লীড দিচ্ছে কারা, ঘাদানিক না সেক্টরস ফোরাম? আওয়ামী লীগ কই? ওরা সরকারে থাকতে কিছু করেনি কেন ঐডাও শিশুটারে বলেন।

"আওয়ামীলীগের নুরুল ইসলাম আর বিএনপির সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী আর জামাতের নিজামী মুজাহিদ , সবাইকেই এক ট্রাইবুনালে আনা হোক । "

"নুরুল ইসলাম আরে ফায়যুল হককে যারা মন্ত্রী বানাইছে তাদেরকে ট্রাইবুনালে আনার কথা বলেন। এ প্রশ্নটি আমি জলিল সাহেবকে করেছিলাম, উনি বলেছেন, "না আওয়ামী যারা করে তারা মুক্তযুদ্ধবিরোধী হতে পারেনা।" আমার কাছে ক্লিপটি আছে।

"তবে যুদ্ধাপরাধীদের বেশির ভাগই যেহেতু জামাত এর সাথে জড়িত , তাই এই দলের জন্য এটাবেশি সমস্যা হয়ে দাড়াবে , কিন্তু এর জন্য তো বিচার থেমে থাকতে পারে না ।"

এই তথ্য আপনি কই পাইলেন? আমাদের কাছে হিসাব আছে স্বাধীনতার প্রত্যক্ষবিরোধীদের মধ্যে বেশীর ভাগ আওয়ামী বিএনপির সাথে জড়িত। মুজিব সরকার যে ৭৩ এর নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল, তার মাঝে দুইজন মাত্র জামায়াত নেতা। আর বাকিরা জামায়াত করেনা। মজার ব্যাপার হইল, এই ৭৩ জনের মধ্যে নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামানের নাম ছিলনা। আর এখন এদের বিচার নিয়ে মাথা ব্যাথা বেশী।

আর সরকারকে মামলা করতে বলছেন, বিএনপি গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সরকারীভাবে মামলা করেছিল। রেজাল্ট সবার জানা। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় অন্যমামলাগুলো পুনরজ্জীবিত করলেও এ মামলা করেনি।

আপনি বলেছেন,

"আওয়ামীলীগের বা বিএনপির পক্ষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করার ইচ্ছা না ও থাকতে পারে । সেখানে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ আছে ।"

প্রশ্ন দু'টো।

১। রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ থাকলে যুদ্ধাপরাধের বিচার করা যাবেনা এইডা কোন কিতাবে আছে। এজন্যই রাজনৈতিক হিসাবনিকাশের দোহাই দিয়ে যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার করেনি তাদেরো বিচার হওয়া দরকার। এ দাবী না তোলায় আপনারো বিচার হওয়া দরকার।

২। এ সরকারের রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ নাই এ কথা কে কইলো আপনারে? এরা রাজনৈতিক দল ভাংছে, গড়ছে, রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে, এখন এক্সিট প্লান করে কুল পাচ্ছেনা। আপনি বলছেন এদের রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ নাই ।

আসলে আপনারা রাজনৈতিক হিসাবনিকাশটাই ভালো বুঝেন। দেশের কল্যাণ বুঝেন না।

এ সরকারের কাছে যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়া আপনাদের সেই রাজনৈতিক হিসাবনিকাশেরই অংশ কিনা কে জানে?

২৩ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নাবিক ।
তবে " আপনাগো মতো পুরান পাপীদের " বলে কি বুঝালেন ,বুঝলাম না । আমিও যুদ্ধাপরাধ করেছি নাকি ? তাহলে তো আমার বিচারেরও দরকার । আমি একমত ।


তবে আপনার বক্তব্যের প্রথম অংশটি কৌশলে পূর্ণ । যারা রাজাকারদের বিচার করে নি , তাদের বিচার আগে করতে হবে এটা যুক্তির কথা মনে হলো না ।

আর নওগাঁর জলিল সাহেবের কথা তো রেফারেন্স হতে পারে না । উনি তো টার্মকার্ড দেন এবং আরো অনেক নাটক করেন । এই পলিটিক্যাল ক্লাউন ( বেচারাকে আল্লাহ সুস্থ করে দিন । আমি সব মানসিক বিকলাঙ্গদের সুস্থতা কামনা করি । সেটা ব্লগের নাটকবাজ মানসিক বিকলাঙ্গ হোক কিংবা রাজনীতির ) এর কথায় আওয়ামীলীগ তো রাজাকারমুক্ত দাবী করতে পারে না নিজেদেরকে ।

শেখ হাসিনার বেয়াই পর্যন্ত একটা রাজাকার ( জয়ের শ্বশুর নয় , পুতুলের শ্বশুর ) এবং উনিও আওয়ামীলীগের সদস্য । উনাকেও ট্রাইবুনালে আনা উচিত । ( এখন কই ? বেচেঁ আছে নাকি ?)

সেক্টর ফোরামসের দাবী তোলার ব্যাপারে আপনার সন্দেহ থাকলে , তাদের নেতৃত্বে দাবী তোলার দরকার নেই । আপনি নিজ অবস্থান থেকে দাবী তুলতে পারেন ।
-----------------------------------------

আপনি একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন :

"আমাদের কাছে হিসাব আছে স্বাধীনতার প্রত্যক্ষবিরোধীদের মধ্যে বেশীর ভাগ আওয়ামী বিএনপির সাথে জড়িত। মুজিব সরকার যে ৭৩ এর নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল, তার মাঝে দুইজন মাত্র জামায়াত নেতা। আর বাকিরা জামায়াত করেনা। "

তাহলে এটা নিয়ে জামাতের এতো মাথাব্যথা কেন ? মাত্র দুই জনকে বাচাঁনোর জন্য জামাত সমর্থকরা এতো হল্লাপাল্লা করছেন কেন ? এতো বড়ো দলের দুইজনের বিচার হলে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে না । সেক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করলে জামাত এর সমর্থকদের তীব্র বিরোধিতার কারন কী হতে পারে বলে আপনার মনে হয় ?

নাগরিকত্বের হিসেব দিলেন , কিন্তু দালাল আইনে গ্রেফতার /পলাতক নেতাদের মাঝে কতোজন জামাতের সাথে জড়িত , এর কোন হিসেব কি আপনার কাছে আছে?
এদের অধিকাংশরা কোন দল করেন ?
--------------------------------------------

পরের অংশটি আরো আলোচনার দাবী রাখে । আপনার পয়েন্টগুলো ভালো ।
আমি বলতে চেয়েছি যে :

১. আওয়ামীলীগ বা বিএনপি বিচার করে নাই , তাই আমরা বিচার করতে পারি না ..বর্তমান সরকারের এই যুক্তিটা খুবই হাস্যকর । একারনেই বলেছি যে আগের সরকারের হয়তো রাজনৈতিক লাভালাভের ব্যাপার ছিল ( না থাকলে বিচার করবে না কেন ?) তাই বলে বর্তমানে বিচার করতে বাধা কোথায় ।

২. বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ আছে বলে আপনি মনে করছেন । তাহলে দেখা যায় যে অন্য সরকারের সাথে এই সরকারের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের তফাৎ নেই । তাহলে এই যু্ক্তিতেও পরের নির্বাচিত সরকার বিচার করবে বলাটা তো ঠিক নয় । এই সরকারের কাছেই দাবী জানানো যায় যে বিচার করতে হবে । দল ভাঙ্গা গড়া সহ নানা কুকান্ড করতে পারে , আর ভালো একটা কাজ শুরু করতে পারে না , এটা তো ঠিক না । তাই না?






২১. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০২
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: সাগর নীল , আপনার দীর্ঘ কমেন্টটির জন্য ধন্যবাদ ।

একটা একটা করে আসি ।

১. যুদ্ধাপরাধের কারনে পাকিস্তানী সৈনিকদের বিচার করার দরকার ছিল বা ৭১ সালেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে ফেলা উচিত ছিল , এ বিষয়ে আপনার সাথে একমত । কিন্তু সেটা আগে যখন হয় নি , এখন হতে দোষ কোথায় ? বেটার লেট দ্যান নেভার ।

তাছাড়া তখন কিন্তু দালাল আইনে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছিলেন , যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ প্রমান করা তখন সহজ ছিল । কিন্তু এখনকার মতো তখনও কেউ কেউ প্রায়োরিটি দেখিয়ে দ্রব্যমূল্য , সিরাজ শিকদার , জাসদ এসব দমনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ।
পরে এই গ্রেফতার হওয়া লোকগুলোকে ১৫ আগস্টের পরে ছেড়ে দেয়া হয় । এদের কারো কারো বোধহয় শাস্তিও হয়েছিল । ( এই তথ্যটি হাতের কাছে নেই , তাই কনফার্ম করতে পারছি না )


রাজাকার আলবদর আলশামস কিন্তু সিমলা চুক্তির অধীনে নয় ।
তাছাড়া পাকিস্তানীরা অন্য দেশের লোক হয়ে আমার দেশকে দখলে রাখতে চেয়েছিল , তাদের অপরাধ এক ধরনের । কিন্তু আমার দেশের লোক যখন আমার দেশের বাকি লোকের বিরুদ্ধে অপরাধ করে সেটা অন্য রকম ।

বাইরর চোর যদি আপনার ঘর থেকে চুরি করে আর ধরা খায় আপনি তাকে কিছু উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিতে পারেন , কিন্তু আপন ভাই যদি আপনার ঘরে চুরি করতে আসে , আপনি তাকে এতো সহজে ছাড়বেন না মনে হয় ।



২. রাজনৈতিক কারনে অখন্ড পাকিস্তান চাওয়াটাকে যুদ্ধাপরাধ বলা যাবে না , এ বিষয়েও একমত । কিন্তু এই অজুহাতে খুন , লুটপাট , রাহাজানি এসবের সুযোগ যারা নিয়েছে তাদের তো বিচার হতে বাধা নেই ।

৩. আপনি বলছেন যে এতোদিন পরে এই অপরাধগুলো প্রমান করা যাবে না । যেগুলো যাবে না , বা যেগুলোতে বেনিফিট অব ডাউট হবে , সেগুলো তো হবেই ।
কিন্তু তার জন্য তো বিচার শুরু করতে বাধা নেই । বিচার হয়ে যদি কেউ সেখানে নিদোর্ষ হিসেবে প্রমানিত হন , তাহলে তো আর কথা থাকে না । কিন্তু রাষ্ট্রের উচিত
বিচার শুরু করা , প্রকৃত অপরাধীদের অপরাধগুলোকে প্রমান করাটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব । অপরাধী তো তার প্রমান হাতে করে বয়ে এনে কোর্টে হাজির করবে না , সেটা করবে রাষ্ট্র । রাষ্ট্র যাতে এটা আন্তরিক ভাবে করে সেটা দেখতে হবে । তারপর যারা নির্দোষ হিসেবে প্রমানিত হবেন , তাদের নিয়ে কথা নেই ।

৪. আপনি বলছেন যে সরকার বলছে যে কেউ চাইলে কেস করতে পারে । আপনি বোধহয় পোস্টে খেয়াল করেন নি যে আমি এ বিষয়েই ব্যখ্যা করেছি পোস্টে । নতুন করে আবার বললাম না ।

৫. অন্য ডকুমেন্টে তো বাংলাদেশের আইন চলবে না । ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠিত হওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে , সুতরাং হিস