টিপাইমুখ বাধ নিয়ে সারা বিশ্বে (বাংলাদেশীরা) মুটামুটি প্রতিবাদ শুরু করে দিয়েছেন।মুলত তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল লন্ডনে হয়ে গেল এক বিরাট জনসমাবেশ। দল নিরপেক্ষ একটি সামাজিক সংগঠন, জাস্টিস ফর বাংলাদেশ আয়োজন করেছিল এই মহাসমাবেশ। লন্ডন মুসলিম সেন্টারের বিশাল হল রুমে তিল ধারনের ঠাই ছিল না। আশি বছরের বুড়ো থেকে ১৫ বছরের যুবক, সবারই ছিল সরব উপস্থিতি। দলমত নির্বশেষে প্রায়( প্রায় বল্লাম এই জন্যে যে একটি বিশেষ দলের লোকের উপস্থিতি ছিল না বল্লেই চলে, অন্তত পাতি বা পাতি-মাঝারি গোছেরও কাউকে দেখা যায়নি, আশা করি বুঝতে অসুবিধা হবে না তারা কারা) সকল দলের মানুশ হাজির হয়েছিলেন জাতির এই ক্রান্তিল্গনে। দের হাজার মানুষ ধারনক্ষম এই হল রুমে তিল ধারনেরও ঠাই ছিল না। প্রতিবাদী মানুষের সরব শ্লোগান আর ব্জ্র হুংকারে গম গম করছিল পুরা হল রুম। ইউ কের সব গুলো মিডিয়ার সাংবাদিক ও ক্যামেরা ম্যানরা ছিলেন তৎপর।ইউনিভারসিটি অব লন্ডন, কুইনমেরী'র শিক্ষক ডঃ হাসান শহিদ এর ভিডিও প্রেজেন্টেশনে দেখানো হয় টিপাইমুখ ড্যাম নির্মান হলে কি ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে এই দুর্ভাগা দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে। সমগ্র এলাকা মরুভূমি হবার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ফারাক্কা যার উজ্জল প্রমান। আবার বন্যার সময় সমগ্র এলাকা পানির তলে তলিয়ে যাবে যদি ভারত একযোগে প্রত্যাহর করা পানি ছেরে দেয় ( এবং সেটাও করবে এটা নিশ্চিত, গংগা, তিস্তা ব্যারেজ যার প্রমান)। সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হল যদি কোন কারনে এই বাধে ফাটল ধরে তবে সমগ্র সিলেট অঞ্চল ১০ দিন ২৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকবে (যদি পানির তোর সহ্য করে তখনও কিছু টিকে থাকে)। এই অঞ্চলের বিল হাওর থেকে হারিয়ে যাবে মাছ সহ অনান্য জলজ সম্পদ। প্রাক্বতিক পরিবেশের উপর পরবে মারাত্মক বিরুপ প্রভাব। দেশের অন্যতম প্রাক্বতিক সম্পদশালী একটা জনপদ বিরানভুমিতে পরিনত হবে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হবে যার পরিমান শত হাজার কোটি টাকা। দেশের একমাত্র নৌ চলাচলোপযোগী নদী (মেঘনা ও তার ভাটি) নাব্যতা হারাবে। লবণাক্ত পানি উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়বে, ফলে ফসলী জমি উর্বরতা হারবে।
এসবই হল ধারণাকৃত(বিভিন্ন উপাত্ত থেকে পাওয়া) ক্ষতির এক দশমাংশ মাত্র। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ হবে আরো বেশী, আরও ভয়াবহ। কাজেই দেশপ্রেমিক জনতার কর্তব্য হল, প্রত্যেকের নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এর প্রতিবাদ করা এবং সামগ্রিকভাবে সরকারের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা যাতে করে সরকার কার্যকরীভাবে ভারতের সাথে মোকাবেলা করতে সাহস পায়।
বাংলাদেশের এক শ্রেনীর চিন্হিত পত্রিকা ও বুদ্ধিজীবিরা একেবারে মুখে কুলুপ এটে বসে আছেন( যাও বা একটু আধটু মুখ খুলছেন, মাশাল্লাহ তা ঐ বাধের গুন গাওয়ার জন্য, যেমনটি ভারত বলছে )। এসব পত্রিকা ও বুদ্ধিজীবির ব্যপারে সতর্ক হন, এদের উপর চাপ প্রয়োগ করুন, বলুন, দেশের সার্থবিরধী কাজ থেকে বিরত থাকুন।
সবশেষে প্রিয় দেশবাসি ভাই বোন দের নিকট আকুল আবেদন প্লিজ প্লিজ আপনার প্রতিবাদের আওয়াজ বাড়ান, জানিয়ে দিন দুনিয়ার প্রতিটি আনাচে কানাচেতে আমরা মানি না টিপাইমুখ, টিপাইমুখ আমাদের মরণ ফাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



