আমি গত ০৮ জুলাই ২০০৯ তারিখে- “হিঁদুদের বিচিত্র রীতি- রেওয়াজ (উৎসর্গ: শ্রদ্ধেয় বিবর্তনবাদী) ” এই শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। প্রথম অবস্থায় এই পোস্টে ৬ টি মন্তব্য ছিল। সৌম্য ভাইয়ের একটি, আরিফুর রহমানের ৪টি ও অন্য একজন ব্লগারের একটি।
পরবর্তীতে বজ্রকণ্ঠ নামক ব্লগার আরিফুর রহমানের নাস্তিকতার আড়ালে হিন্দুত্ববাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা দেখে কয়েকজনের পোস্টে স্ক্রীণশট দেয় এবং এসব কি হচ্ছে! নামক ব্লগার কয়েকজনের পোস্টে লেখাটির লিংক দেয়।মূলত এরপর থেকেই ঝিমিয়ে পড়া পোস্টে ক্রমান্বয়ে মন্তব্য আসতে থাকে; সেইসাথে বেরিয়ে আসতে থাকে নাস্তিকতার আড়ালে অনেক প্রতিক্রিয়াশীল হিন্দুত্ববাদীদের ল্যাঞ্জা।
আল-বিরুনী’র লেখার নীচে আমি লিখেছিলাম- “এই আচরণগুলোর কিছু কিছু এদেশীয় মুসলমানদের মাঝেও প্রবলভাবে দেখা যায়। অনেক আগে থেকেই এখানে হিন্দুদের বসবাস। ইসলাম এখানে অনেক পরে এসেছে। একসময় দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে ঠিকই; কিন্তু পুরনো কালচার এখনো অনেকাংশে রয়ে গেছে। ঠিক পুরনো নয়, সম্ভবত এটাই হাজার বছরের বাঙালি কালচার। এ বিষয়ে আপনাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।”
এই কথাগুলো বলার পরেও নাস্তিকতার ছদ্মাবরণের হিন্দুত্ববাদীরা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে। অতঃপর সকলের কাছেই এই জ্বলে উঠার কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠে। আমার ঐ পোস্টটিতে কোনো ধর্মকেই কটাক্ষ করা হয় নি। শুধু বিষয়টি একটু পরিষ্কারভাবে জানার জন্যেই লিখেছিলাম। ঐ পোস্টেও বিষয় নিয়ে দু’জন ব্লগার একটু বিস্তারিত বলেছেন।
১. সৌম্য ও ২. বিবর্তনবাদী।
কিন্তু আমার এই পোস্টটি ২২ দিন পরে মুছে ফেলার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ আমি দেখলাম না।
আপনারা নোটিশ দিয়েছেন-“কোনো এক শ্রেণীর অনুভূতিকে আঘাত করে, এমন কোনো ঘৃণাত্মক পোস্ট অথবা মন্তব্য আমরা সরিয়ে দিতে পারি।” অবশ্যই পারেন। আরিফুর রহমান প্রথম দিনেই ঐ পোস্টটির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছিলেন। তখন কেন আপনার সরিয়ে দেন নি বা মুছে ফেলেন নি? নাকি ২২ দিন পর পোস্টটি আপনাদের কাছে ঘৃণাত্মক পোস্ট হিসেবে বিবেচিত হলো?
ইসলাম ধর্ম ও এর প্রবর্তক’কে নিয়ে অনেক কটাক্ষমূলক পোস্ট এখনো অনেক ব্লগারদের ব্লগে, শোকেসে শোভা পাচ্ছে। তা আপনাদের মতো মডারেটরদের চোখে না পড়লেও আমরা নিরীহ ব্লগারদের চোখে ঠিকই পড়ে। নিম্নে এর কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো-
নতুন পরিস্থিতিতে- মুহাম্মদ একটা বুজরুক আর কোরান মানুষের লেখা গ্রন্থ -এ পোষ্টের টিকে থাকার সম্ভবনা যাচাই। - রাসেল ( ........)
এই পোস্টে রাসেল ভাই অত্যন্ত জঘন্য ভাষায় ধর্মগ্রন্থ কোরআন'কে আক্রমণ করেছেন। তখন আপনাদের বিবেচনাবোধ কোথায় ছিল? না কি মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করলে সেটা আপনাদের কাছে ঘৃণাত্মক মনে হয় না?
মোহাম্মদের কি মৃগীরোগ ছিল? - ঘনাদা
এই পোস্টে ঘনাদা নামক ব্লগার মুসলমানদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃগীরোগ ছিল কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তখন আপনাদের বিবেচনাবোধ কোথায় ছিল? না কি মুসলিম ধর্মের এই ধর্মাবতারকে নিয়ে যা খুশি তাই বলা যায়? এরকম আরও বহু উদাহরণ দেয়া যাবে।
মডারেটরবৃন্দ, আপনাদের মাটিতে পিঠ রেখে আকাশ দেখার অভ্যাস থাকতে পারে। কিন্তু মাটিতে পিঠ রেখে আকাশ দেখার মতো অভ্যাস আমার নেই।
যারা অন্ধ তারাই যে আজ চোখে বেশী দেখে তা আবারো প্রমাণ হলো। আমাকে সেফ থেকে জেনারেল করলেন। অবশ্য এতে আমার কোনো দুঃখবোধ নেই। দুঃখবোধ শুধু আপনাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে। সিনিয়র ব্লগার শিরোনামহীন আপুর ভাষায় আমারও বলতে ইচ্ছে করে- "এই প্ল্যাটফর্মে ব্লগিং করছি বলে কাউকে দাসখৎ লিখে দিইনি।" আরো মনে করিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথের “দুই বিঘা জমি” কবিতার শেষের দু’টো লাইন-
“তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ
আমি আজ চোর বটে।”
ধন্যবাদ সবাইকে, মানে সবাইকে।
পনুশ্চ: সৎ সাহস নিয়েই লিখে ফেললাম; যদিও সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ .......
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


