সেই স্মরণাতীত কাল থেকেই চলে আসছে নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব। কিন্তু কেন এই দ্বন্দ্ব? কেন পুরুষেরা কাঁদে না? আর কেনই-বা নারীরা ঈর্ষাপরায়ণ হয়? পুরুষ প্রতিশ্রুতি রাখতে পারে না কেন? নারীরা কেন কথা শুরু করলে আর থামতে চান না? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে জানতে হবে নারী-পুরুষের মনের গভীরের অবস্থাকে। প্রকৃত ব্যাপার হলো মানুষের ভেতরে বাস করে অনেক জটিল জটিল আবেগ। এ কারণে নারী-পুরুষ চিরকাল ধরে একে-অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে যায়।
নারী-পুরুষের ভেতর একগুচ্ছ আবেগ বাস করে। নারীরা অসম্ভব আবেগপ্রবণ আর কারণে-অকারণে কাঁদেন। অন্যদিকে, পুরুষেরা উগ্র, রাগী, একগুঁয়ে, অধিকারপ্রবণ আর খামখেয়ালি স্বভাবের হয়ে থাকেন। একজন নারী মাত্রই খুঁতখুঁতে; আর পুরুষদের কখনো কাঁদতে নেই। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, একজন পুরুষের জীবনে আবেগ সরাসরি কাজ করে না। আর নারীদের মাঝে আগাগোড়াই আবেগ কাজ করে।
অবশ্য, তার মানে এই নয় যে পুরুষেরা কোনো কিছু প্রকাশ করতে পারেন না। স্বামীরা দাম্পত্য জীবনের নানা ঝামেলা, দুর্দশা ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, অনেক চাপ নিতে তাঁরা অভ্যস্ত। এ ছাড়া স্ত্রীর কাজে সাহায্যও করে থাকেন। কিরণ নায়ার নামের একজন মনস্তত্ত্ববিদ বলেন, ‘মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশে থাকে যুক্তি আর আবেগের অবস্থান থাকে ডানে। পুরুষের চেয়ে নারীরা তাদের মস্তিষ্কের বাম ও ডান অংশের সাথে খুব ভালো যোগাযোগ রাখতে পারে।’ বিখ্যাত লেখক খুশবন্ত সিং তাঁর ‘ওম্যান, সেক্স, লাভ অ্যান্ড লাস্ট’ গ্রন্থে চিরকাল ধরে চলমান নারী-পুরুষের এই দ্বন্দ্বের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
‘ম্যান আর ফ্রম মার্স অ্যান্ড উইম্যান আর ফ্রম ভেনাস’ গ্রন্থে যুক্তরাষ্ট্রের লেখক জন গ্রে নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন। ‘তুমি কখনো আমার কথা শোন না’, ‘তুমি কখনও আমাকে সময় দাও না’—এগুলো একজন নারীর সবচেয়ে প্রিয় সংলাপ। অন্যদিকে একজন পুরুষকে প্রায়ই বলতে শোনা যায়, ‘আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে চাই না’, ‘আচ্ছা আমরা কি এই বিষয়টা বাদ দিতে পারি না?’—এ জাতীয় কথা পুরুষকে প্রায়ই বলতে শোনা যায়।
এত অমিলের মাঝে আবার অসংখ্য মিলও রয়েছে নারী-পুরুষের মাঝে। প্রকৃতপক্ষে সবার মাঝেই কিছু না কিছু মুদ্রাদোষ থাকে। তাই বলে এই ঠুনকো কারণে প্রিয় মানুষটিকে ত্যাগ করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

