somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ঃ
বিচারপতি গোলাম রব্বানি বলেছেন, ''স্বাধীনতা হচ্ছে তর্কের ঊর্ধ্বে একটি শর্ত যেটা ছাড়া ব্যক্তি-মানুষের নিজস্ব যুক্তিশীলতার প্রকাশ ঘটে না। শিক্ষকরা শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে সে-যুক্তিশীলতা অর্থাৎ একই মূল্যবোধে ও কৃষ্টিতে বিশ্বাসী যুক্তিশীল মন তৈরি করে থাকেন। অতএব শিক্ষকমন্ডলী পেতে হলে ওই শ্লোগানটি -'স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই' - কার্যকর হওয়া জরুরি।''
দফায় দফায় ছাত্র বেতন-ফি বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক বিভাগ ও কোর্স চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ উচ্চমূল্যে সার্টিফিকেট বিক্রির দোকানে পরিণত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্প্রতি বিভিন্ন ফি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। আমি অবিলম্বে এ বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। এ চিত্র দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ দিন দিন কমছে। সরকার বলছে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে চলতে হবে। প্রশাসন তা-ই বাস্তবায়নে তৎপর। ফলে প্রত্যেক বিভাগ তার একাডেমিক কার্যক্রমের চাইতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আহরণে বেশি ব্যস্ত। ফলে মৌলিক গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টি হচ্ছে না। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাণিজ্যিকীকরণ ও গবেষণাশুন্যতা, অন্যদিকে প্রত্যক্ষ সরকারি হস্তক্ষেপ - এ দু'য়ে মিলে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত ধারণাই বদলে দিচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উপর এ আক্রমণ শুধু বাংলাদেশেই নয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এ পরিস্থিতি বিরাজমান। কারণ, পুজিঁবাদ-সাম্রাজ্যবাদ গোটা দুনিয়াব্যাপী একই সংকটে জর্জরিত। এর বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্দোলনও পরিচালিত হচ্ছে। শাসকশ্রেণী এ সংকটকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে বাধ্য করতে চায়। সে কারণে ধ্বংস করছে শিক্ষা সংস্কৃতি-মূল্যবোধ-ঐতিহ্য।' এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য চাই আদর্শিক বিকল্প শক্তি। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী এ আদর্শিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। ছাত্র আন্দোলনের আদর্শিক ধারাকে শক্তিশালী করতে হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ দফা সুপারিশঃ
১. বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন কোর্স ও ডাবল শিফট্ চালুর মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে এক বেলা পাবলিক ও এক বেলা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত করার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির নামে ছাত্র বেতন-ফি বাড়ানো এবং ব্যয় সংকোচনের নামে ছাত্র অধিকার ও সুবিধাদি হরণ করা চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রকার বাণিজ্যিক কোর্স বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা চলবে না।
২. উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র ও আমব্রেলা এ্যাক্ট বাতিল করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩. বাজেট ঘাটতি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বরাদ্দ বাড়াতে হবে। লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, সেমিনার, পরিবহন, ডাইনিং, হেল্থ সেন্টার ও নতুন হল নির্মাণ ও উন্নয়ন, নতুন নতুন বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুসহ শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব মুক্ত করতে হবে। সন্ত্রাস-লাঞ্ছনা-ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের
একাডেমিক ও রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার করতে হবে। শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্রিয়াশীল সকল
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে পরিবেশ পরিষদ গঠন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। ৫. সেশনজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার চালু করতে হবে। প্রশাসনের সকল স্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। ৬. শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:১৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×