somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাগতম নতুন বছর ২০১০

০১ লা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাগতম নতুন বছর ২০১০
বছরের বিদায় স্বাভাবিক ঘটনা। বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের বহমান সময়ের সভ্যতার ক্রম বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় নতুন যে বছরটিকে আমরা স্বাগত জানাই, তাও আকস্মিক কিছু না। ২০০৯ সাল চলে গেল, তার জন্য এক ধরনের চেতনা কাজ করে। আমাদের চিন্তার জগতে ক্রমাগত পরিবর্তন ঘটছে। বড় ধরনের পরিবর্তনও ঘটবে, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর জন্য মানবিক উদার মূল্যবোধ সমাজে বিকশিত হতেই হবে। পুরনো ক্যালেন্ডারের স্থানে নতুন ক্যালেন্ডার আমরা দেখছি। বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য বাম বিকল্প শক্তির বিকাশের বিকল্প নেই।। নতুন বছর অর্থবহ হয়ে উঠবে, যদি বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জনগণের মৌলিক অপূর্ণতাগুলো পূর্ণ করার প্রয়াস নেওয়া হয়।
বিদায়ী বছরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন অনেক প্রতীক্ষার পর জনগণের গণতন্ত্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে প্রত্যাশিত নির্বাচন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ভালোমন্দ অনেক শিক্ষণীয় বিষয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই ২৩ দফা আর্থ-সামাজিক কর্মসূচী বাস্তবায়নের নিমিত্ত্বে 'দিনবদলের অঙ্গীকার' নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান মহাজোট সরকার। সেই অঙ্গীকার পূরণের দিকেই এখন ১৪ দলের শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টিসহ দেশবাসীর চোখ। মাত্র দেড় মাস বয়সী সরকারের জন্য মহাবিব্রতকর বিষয় ছিল বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত হত্যা ও বিদ্রোহের দুঃখজনক ঘটনা। এসবের একটা সুষ্ঠু সমাধান হতে হবে।
২০০৯ সালের ঘটনাপ্রবাহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবল্পুব্দ শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা মামলার রায় সুপ্রীম কোটের আপীলেট ডিভিশনে বহাল রাখার যুগান্তকারী ঘটনা। এতে বিচার বিভাগও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান থেকে মুক্তি পেয়েছে। জনগণের অনেক প্রত্যাশা, এরমধ্যে একটি হচ্ছে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার।
নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনসাধারণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে প্রয়োজনীয় আর্থ-সামাজিক উদ্যোগ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা না গেলে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমাদের উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন তরান্বিত করা নতুন বছরে এই প্রত্যাশা। জনগণের আশা, শ্রমিক যাতে যথাসময়ে, দেহের শ্রমঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবন যাপন করার মতো শ্রমের ন্যায্য মজুরি পাওয়ার নিশ্চয়তা।
বছরের শেষ প্রান্তে কোপেনহেগেন সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির শিকার বাংলাদেশ সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই সম্মেলন থেকে হয়তো তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি ঘটেনি, তবে বাংলাদেশ যে বড় সংকটগ্রস্ত, তা বিশ্ববাসীকে যথার্থই জানানো সম্ভব হয়েছে।
নতুন বছরে বিষয়ের উল্লেখ করতে চাই, তা হলো, ১৯৯৫ সালের ১১ জানুয়ারী বাংলাদেশ সরকারের সাথে মূল চুক্তি পিএসসি সম্পাদিত হয়। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মাগুরছড়া ব্লো-আউটের পর অক্সিডেন্টাল ক্ষতিপূরণের কোনো অপশন না রেখে ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর সম্পূরক চুক্তি সম্পাদন করে। যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে এই সম্পূরক চুক্তি বাধা, সুতরাং তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হলে এই চুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন। এছাড়াও মাগুরছড়া ব্লো-আউটের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা, পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাবসহ ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারের উদ্যোগহীনতায় আমাদের উদ্বিগ্ন করে। ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই।
নতুন বছর বিগত বছরের ইতিবাচক ও নেতিবাচক সব ঘটনার প্রতিক্রিয়া সঙ্গে করেই অগ্রসর হবে। সেই সত্য মনে রেখেও আমাদের প্রত্যাশা, অতীতের ব্যর্থতার জরা-ব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়ার নতুন পথ অন্বেষণেই ১৪ দলের ২৩ দফা আর্থ-সামাজিক কর্মসূচীসহ 'দিনবদলের অঙ্গীকার' বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে আমাদের মহাজোট সরকারের সকল কর্মপ্রয়াস। সেই সাফল্যের আশা নিয়েই বলি, স্বাগতম ২০১০।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×