somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু সমস্যা এবং অনেক সম্ভাবনা।

২৯ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের সরকারি অফিস এবং এর সেবা নিয়ে এন্তার অভিযোগ। আলোচনা এবং সমালোচনা ও প্রচুর। সবচেয়ে কমন একটি অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করেন না। আর লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তো প্রবাদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।

আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভাবি- এরকম অভিযোগের ভিত্তি কোথায়? আমি তো আমার দায়িত্ব ঠিকমতোই পালন করছি। কিন্তু তারপরও এরকম অভিযোগ শুনতে হয়।

আমার সহকর্মীদের দিকে তাকাই। ভাবি, আমাদের মধ্যে দক্ষতার কোন ঘাটতি তো নেই। সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা অনুভব করি তা হচ্ছে সিস্টেমের অভাব।

সমস্যাটা খোলাখুলি আলোচনা করলেই ব্লগার বন্ধুদের বুঝতে সুবিধা হবে। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদানের লক্ষে সরকার ২০০৫ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করে। সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই বোর্ডের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের প্রায় ত্রিশ হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদান কার্যক্রম চলে এই বোর্ডের মাধ্যমে। কিন্তু বোর্ডটি গঠনের পর থেকে এটির আধুনিকায়নের জন্য তেমন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই এই ২০০৯ সালে এসেও যেই ঢিমেতালে বোর্ডটি চলছিল, সেভাবেই চলছে।

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত শিক্ষক-কর্মচারী আসেন এখানে। এসে নানান হয়রানির শিকার হন। অল্প জনবল নিয়ে আমরা সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারছি না। আমাদেরকে নানান কথা শুনতে হচ্ছে। এগুলো শুনতে শুনতে ভাবি- এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আবার যে কোন জায়গায় বদলি হয়ে যেতে পারি। কিন্তু বদলি হয়ে চলে গেলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?????

আমি জানিনা, আমার এই লেখাটি সরকারের নীতি-নির্ধারণী কারও নজরে পড়বে কিনা। আমি চাই এই লেখাটি এমন কারও নজরে পড়ুক যাতে করে এই বোর্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার মঙ্গল হয়। অসহায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে অবসরে যাবার পর তাদের শেষ সম্বল সামান্য অর্থটুকু প্রাপ্তিতে আর হয়রানির শিকার না হন।

১. ত্রিশ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের ডাটা বেইস সংরক্ষণের জন্য একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন প্রয়োজন। এটির জন্য তেমন অর্থ খরচের প্রয়োজন হবে না।
২. ইন্টারনেট আজ সুদূর প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিস্তৃত। একটি পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট ডেভেলপের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের সর্বত্র এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। অনলাইনে ফরম জমা, সমস্যার কথা জানিয়ে দেওয়া ইত্যাদি উপায়ে অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত সেবা প্রদান সম্ভব।
আশার কথা- একটি ওয়েবসাইট ডেভেলপের কাজ চলছে।
৩. অবসর সুবিধা বোর্ডের উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকা এফডিআর করা আছে। এই অর্থ থেকে বাৎসরিক প্রায় ১০ কোটি টাকা সুদ আসে। যা দিয়ে বোর্ডের নিজস্ব একটি কমপ্লেক্স স্থাপন করে সুবিধা দান সম্ভব। এক বৎসরের টাকা দিয়েই ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ৫ কাঠা জমি ক্রয় করে, নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণ করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও অবসর সুবিধা বোর্ডের নিজস্ব আয় বের করে নিয়ে আসা সম্ভব।
৪. সারা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবসর সুবিধা বোর্ডের নিয়মাবলি অবহিতকরণের প্রয়োজনে ওয়ার্কশপ, সেমিনার ইত্যাদি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা যায়।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দৈন্য দশাই পরিস্ফূট হয়ে ওঠবে- এ বোর্ডকে দেখলে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই কিনা কে জানে- এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের সব সম্ভাবনা আজ সীমাবদ্ধতার ঘেরাটোপে বন্দী।

আরও অনেক সম্ভাবনার সৃষ্টি করা যায়- এই বোর্ডকে কেন্দ্র করে। ব্লগার বন্ধুরা, আপনাদের মধ্যে অনেক প্রতিভাবান আছেন যারা এরকম সমস্যার চমৎকার সব সমাধান দিতে পারবেন। আপনাদের যদি কোন পরামর্শ থাকে তাহলে এই ব্লগে তা জানান। আমি আগামীকাল এগুলোর উত্তর দেওয়ার আশা রাখি।

অফিস সময় শেষে এ লেখাটি লিখলাম। সবাই চলে যাচ্ছে। অবসর সুবিধা বোর্ডকে নিয়ে আপনাদের যে কোন কৌতুহলী প্রশ্নের জবাব আগামীকাল দেবো- এই প্রত্যাশায়---
ধন্যবাদ সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×