বাংলাদেশের সরকারি অফিস এবং এর সেবা নিয়ে এন্তার অভিযোগ। আলোচনা এবং সমালোচনা ও প্রচুর। সবচেয়ে কমন একটি অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করেন না। আর লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তো প্রবাদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।
আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভাবি- এরকম অভিযোগের ভিত্তি কোথায়? আমি তো আমার দায়িত্ব ঠিকমতোই পালন করছি। কিন্তু তারপরও এরকম অভিযোগ শুনতে হয়।
আমার সহকর্মীদের দিকে তাকাই। ভাবি, আমাদের মধ্যে দক্ষতার কোন ঘাটতি তো নেই। সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা অনুভব করি তা হচ্ছে সিস্টেমের অভাব।
সমস্যাটা খোলাখুলি আলোচনা করলেই ব্লগার বন্ধুদের বুঝতে সুবিধা হবে। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদানের লক্ষে সরকার ২০০৫ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করে। সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই বোর্ডের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের প্রায় ত্রিশ হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদান কার্যক্রম চলে এই বোর্ডের মাধ্যমে। কিন্তু বোর্ডটি গঠনের পর থেকে এটির আধুনিকায়নের জন্য তেমন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই এই ২০০৯ সালে এসেও যেই ঢিমেতালে বোর্ডটি চলছিল, সেভাবেই চলছে।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত শিক্ষক-কর্মচারী আসেন এখানে। এসে নানান হয়রানির শিকার হন। অল্প জনবল নিয়ে আমরা সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারছি না। আমাদেরকে নানান কথা শুনতে হচ্ছে। এগুলো শুনতে শুনতে ভাবি- এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আবার যে কোন জায়গায় বদলি হয়ে যেতে পারি। কিন্তু বদলি হয়ে চলে গেলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?????
আমি জানিনা, আমার এই লেখাটি সরকারের নীতি-নির্ধারণী কারও নজরে পড়বে কিনা। আমি চাই এই লেখাটি এমন কারও নজরে পড়ুক যাতে করে এই বোর্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার মঙ্গল হয়। অসহায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে অবসরে যাবার পর তাদের শেষ সম্বল সামান্য অর্থটুকু প্রাপ্তিতে আর হয়রানির শিকার না হন।
১. ত্রিশ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের ডাটা বেইস সংরক্ষণের জন্য একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন প্রয়োজন। এটির জন্য তেমন অর্থ খরচের প্রয়োজন হবে না।
২. ইন্টারনেট আজ সুদূর প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিস্তৃত। একটি পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট ডেভেলপের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের সর্বত্র এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। অনলাইনে ফরম জমা, সমস্যার কথা জানিয়ে দেওয়া ইত্যাদি উপায়ে অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত সেবা প্রদান সম্ভব।
আশার কথা- একটি ওয়েবসাইট ডেভেলপের কাজ চলছে।
৩. অবসর সুবিধা বোর্ডের উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকা এফডিআর করা আছে। এই অর্থ থেকে বাৎসরিক প্রায় ১০ কোটি টাকা সুদ আসে। যা দিয়ে বোর্ডের নিজস্ব একটি কমপ্লেক্স স্থাপন করে সুবিধা দান সম্ভব। এক বৎসরের টাকা দিয়েই ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ৫ কাঠা জমি ক্রয় করে, নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণ করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও অবসর সুবিধা বোর্ডের নিজস্ব আয় বের করে নিয়ে আসা সম্ভব।
৪. সারা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবসর সুবিধা বোর্ডের নিয়মাবলি অবহিতকরণের প্রয়োজনে ওয়ার্কশপ, সেমিনার ইত্যাদি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা যায়।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দৈন্য দশাই পরিস্ফূট হয়ে ওঠবে- এ বোর্ডকে দেখলে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই কিনা কে জানে- এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের সব সম্ভাবনা আজ সীমাবদ্ধতার ঘেরাটোপে বন্দী।
আরও অনেক সম্ভাবনার সৃষ্টি করা যায়- এই বোর্ডকে কেন্দ্র করে। ব্লগার বন্ধুরা, আপনাদের মধ্যে অনেক প্রতিভাবান আছেন যারা এরকম সমস্যার চমৎকার সব সমাধান দিতে পারবেন। আপনাদের যদি কোন পরামর্শ থাকে তাহলে এই ব্লগে তা জানান। আমি আগামীকাল এগুলোর উত্তর দেওয়ার আশা রাখি।
অফিস সময় শেষে এ লেখাটি লিখলাম। সবাই চলে যাচ্ছে। অবসর সুবিধা বোর্ডকে নিয়ে আপনাদের যে কোন কৌতুহলী প্রশ্নের জবাব আগামীকাল দেবো- এই প্রত্যাশায়---
ধন্যবাদ সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


