পারিবারিক সহিংসতার অপ্রকাশিত অধ্যায়- পুরুষ নির্যাতন (১) পড়তে চাইলে ক্লিক করুন পারিবারিক সহিংসতার অপ্রকাশিত অধ্যায়- পুরুষ নির্যাতন (১)
পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে কিছুদিন আগে একটি খসড়া বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। পুরো খবরটি প্রথম আলো সহ অনেক পত্রিকায় এসেছে। এই খবরের লিংকটি কোন সহৃদয় ব্লগার বন্ধু দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
পুরুষ নির্যাতন কথাটি অনেকের কাছে অচেনা মনে হতে পারে কিন্তু এটি আমাদের সমাজে বর্তমান এবং অহরহ ঘটছে। নারী নির্যাতন নিয়ে আমরা সোচ্চার হই কিন্তু পুরুষ নির্যাতন নিয়ে আমরা টু-শব্দ করি না। নানান চিন্তাভাবনা কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানসম্মানের প্রশ্ন। সবার কাছে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয়। কিন্তু এর ফলে যে একজন পুরুষ ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যেতে পারে- এ বিষয়টি কিন্তু আড়ালেই থেকে যায়। একসময় এটি একজন পুরুষের জীবনে করুণ পরিণতি বয়ে আনতে পারে এবং এটিই এই নির্যাতনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক।
বাংলাদেশের বতর্মান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পারিবারিক সহিংসতা ধীরে ধীরে আমাদের সমাজ জীবনে ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। পুরুষ-নারী উভয়েই সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারী নির্যাতনের জন্য কঠোর আইন আছে কিন্তু পুরুষ নির্যাতনের জন্য নেই। নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতনের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনা দরকার। কিছুদিন আগে পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক একটি খসড়া বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল। বিলটি আরও যাচাই-বাছাই পূর্বক পুরুষ নির্যাতন বিষয়ক আইনের ধারা সংযোজন করা দরকার।
পারিবারিক সহিংসতা দেশ-জাতি এবং স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে সব ভাষাভাষী এবং সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘটতে পারে। অর্থাৎ সভ্যতার স্বীকৃত পন্থায় যেখানেই পরিবারের অস্তিত্ব গড়ে উঠেছে সেখানেই পারিবারিক সহিংসতা বিরাজমান ধারণা করা যায়। আর এও ধারণা করা যায় সহিংসতা সমাজের শ্রেণীস্তর নির্বিশেষে সর্বত্রই ঘটতে পারে। অর্থাৎ ধনী-গরীব এবং শিশু-কিশোর-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পারিবারিক সহিংসতা ঘটতে পারে। পারিবারিক সহিংসতায় আক্রান্ত পরিবারটিকে আমরা সার্বিক বিবেচনায় ‘নির্যাতিত পরিবার’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।
গৃহ নির্যাতন বা পারিবারিক নির্যাতন থেকেই মূলত পারিবারিক সহিংসতার সূত্রপাত। এখন গৃহ নির্যাতন বা পারিবারিক নির্যাতন বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক। পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ পরিবারের যে কোন সদস্য যদি পরিবারের অপর যে কোন সদস্য কর্তৃক শারিরীক, মানসিক, মনো-দৈহিক এবং মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়, তবে সেটিই গৃহ নির্যাতন বা পারিবারিক নির্যাতন।
শারিরীক নির্যাতনের কারণে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি (নারী বা পুরুষ) শারীরিকভাবে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পঙ্গুও হয়ে যেতে পারে। আর অন্যান্য নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি মনের দিক দিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে থাকে। যে কোন নির্যাতনই চুড়ান্তরূপে ভয়ংকর নৃশংসতায় উপনীত হতে পারে। মানসিক রোগগ্রস্ততা, প্রতিহিংসাপরায়নতা, অন্যায় জেদ, আত্ম-অহমিকা, কর্তৃত্ব আরোপের প্রবৃত্তি ইত্যাদি কারণেই সাধারণত নির্যাতন ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করে।
যাই হোক, উপরোক্ত যে কোন নির্যাতনের কারণে সহিংস ঘটনার সূত্রপাত ঘটে থাকলে আমরা তাকে পারিবারিক সহিংসতা বলতে পারি। এরূপ সহিংসতা দিনদিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আমাদের সমাজে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ কি-এর উপর একটি পরিপূর্ণ গবেষণা পরিচালনা আবশ্যক।
সহিংসতার শিকার কারা হতে পারেঃ
আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা এই যে, শুধু নারীরাই এরূপ সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। পুরুষরা নারীর উপর তাদের কর্তৃত্ব তথা পৌরুষত্ব বজায় রাখতে গিয়ে স্ত্রীদের উপর শারিরীক নির্যাতন চালায়। যারা এই ভুল ধারণার বশবর্তী তারা মনে করেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষদের আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নারীরাই শুধু নির্যাতিত হয় এবং এ ব্যাপারে অন্য কোন বিতর্ক তোলা মানে ‘নারী নির্যাতন’ সংক্রান্ত মূল ইস্যু থেকে মনোযোগ অন্য দিকে ফেরানো। এরূপ ভুল ধারণার বশবর্তীদের আমরা শুধুমাত্র ‘নারী নির্যাতন বিরোধী’ পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।
অপরদিকে, সমাজের একটি ব্যাপক অংশ মনে করে পরিবারে সব ধরণের নির্যাতনই বন্ধ হওয়া উচিত। নির্যাতিত ব্যক্তি পুরুষ কিংবা নারী, শিশু-কিশোর কিংবা বৃদ্ধ সেটি বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয় বরং সে নির্যাতিত এবং এটিই গুরুত্বপূর্ণ। একজন নির্যাতিত ব্যাক্তি, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী-‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার আশ্বাস না পেলে’ সে তা প্রকাশ করে না এবং প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা বা নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক কঠোর কঠোর আইনী ব্যবস্থা আছে। নির্যাতিত নারীদের সহায়তাদানের জন্য বিভিন্ন নারী সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন এবং এনজিওগুলো উন্মুখ হয়ে থাকে। কিন্তু নির্যাতিত পুরুষদের সহায়তাদানের জন্য এরূপ কোন সংগঠন নেই। তাই নির্যাতিত হয়েও পুরুষরা এরূপ কোন সংগঠনের সহায়তা পাবে না জেনে নিঃশ্চুপ থাকে। ফলে পুরুষ নির্যাতন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে না। তাই সমাজের এই অংশের অভিমত, শুধু একপেশে নারী নির্যাতন বিষয়টিকে বড় করে না দেখে নারী পুরুষের মধ্যে সম্পর্কগত কারণে উদ্ভূত সহিংসতার বিষয়টিকেই বড় করে দেখা উচিত। এরূপ ধারণার বশবর্র্তীদের আমরা ‘সর্বপ্রকার নির্যাতনের বিরোধী’ পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।
অবশ্য এই উভয়পক্ষই তাদের স্ব-স্ব ধারণার পেছনে নির্যাতন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাদের যুক্তির অবতারণা করে থাকেন। শুধু নারী নির্যাতনের বিরোধীদের যুক্তি হচ্ছে- ‘থানা কিংবা হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী উচ্চ হারে নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো এটিই প্রমাণ করে যে, নারীরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। আর সব নির্যাতনের বিরুদ্ধবাদীদের যুক্তি এই যে, “পরিসংখ্যানগত এই চিত্র বিভ্রান্তিকর। কেননা এতে শুধু তাদের পরিসংখ্যানই আছে যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে থানা-হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়।” আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা প্রমুখ উন্নত দেশগুলোতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চললেও আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত সমস্যাটি নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছেন না। উন্নত বিশ্বের এরূপ গবেষণার ফল থেকে একটি বিষয় বেরিয়ে এসেছে যে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পারিবারিক সহিংসতার হার ক্রমবর্ধমান এবং পারস্পরিক নির্যাতনের ঘটনাও অনেকটা সমান।
উপরোক্ত দীর্ঘ আলোচনা থেকে বিতর্কটি নিয়ে নানা মুনির নানান মত থাকলেও উভয়পক্ষ এ ব্যাপারে একমত যে, পারিবারিক নির্যাতন বা সহিংসতা বিদ্যমান আছে। মতভেদটা হচ্ছে অন্য জায়গায় অর্থাৎ নারী পুরুষ ভেদে নির্যাতনের শতকরা হার নিয়ে। এটি কি ৫% নাকি ৩৫% নাকি ৫০% হবে। আর একটি বিষয়েও উভয়পক্ষের মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয় আর তা হলো- নির্যাতিত ব্যাক্তি (পুরুষ বা নারী)-‘কার উপর কতটা গুরুত্ব’ দিতে হবে।
পারিবারিক সহিংসতা বা গৃহ নির্যাতন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমাদের উচিত সমস্যাটিকে ব্যাক্তিকেন্দ্রিক না দেখে সামগ্রিকভাবে দেখা এবং সমস্যাটি থেকে কিভাবে বের হয়ে আসা যায় তার উপায় খুঁজে বের করা।
নির্যাতনকারী হওয়ার পেছনে দৈহিক আকার বা শক্তিমত্তা বিবেচ্য বিষয় নহেঃ
একটি প্রচলিত ভুল ধারণা এই যে, পুরুষরা দৈহিক দিক দিয়ে নারীদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হওয়ায় শুধু পুরুষরাই নির্যাতন করে এবং নারীরা নির্যাতিত হয়। এই ধারণাটি ভুল এবং এবং এটি অবশ্যই পরিত্যাগ করা উচিত এই কারণে যে, শারীরিক শক্তিমত্তার কারণে নির্যাতন ‘মুদ্রার একপিঠ’ মাত্র। মুদ্রার ‘অন্য পিঠ’ হচ্ছে- কেউ যদি ইচ্ছে করে কিংবা ক্রোধবশতঃ নির্যাতন করে সে ক্ষেত্রে শক্তিমত্তার প্রয়োজন আছে কী ?
শারীরিক দিক দিয়ে স্ত্রীর চেয়ে অধিক শক্তিমত্তার অধিকারী কোন পুরুষ যদি বলে যে,-‘সে তার প্রাক্তন স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছে এবং নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে বাধ্য হয়েছে‘ সেক্ষেত্রে সবাই তার দিকে সন্ধিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাবে-‘এটা কি করে সম্ভব’? এই বলে। তারা এই বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করবে না যে, তার স্ত্রী প্রত্যেহই ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট-খাট বিষয় নিয়ে তার সাথে অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় বিবাদে লিপ্ত হত, আঘাত করার উদ্দেশ্যে প্রায়ই তার দিকে জিনিসপত্র ছুঁড়ে মারত, ঘরের জিনিসপত্র ভাঙ্গচুর করত,এমনকি পরিস্থিতি চরমতম খারাপ অবস্থায় না পৌঁছা পর্যন্ত সে যা যা চাইত তাই করত। এরূপ আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হলে তা যদি নির্যাতন হয়, তবে স্ত্রীর এরূপ আক্রমণাত্মক আচরণ কি নির্যাতন নয়?
একমাত্র ভুক্তভোগী ব্যতিত বিষয়টি অন্যের নিকট নতুন মনে হতে পারে। নির্যাতিত ব্যক্তিই একমাত্র অনুধাবন করতে পারে যে সে কী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার। নির্যাতনের শিকার পুরুষ ব্যক্তিটির বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন অনেক সময় অবাক হয়ে দেখে যে, এরূপ নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও নির্যাতিত ব্যক্তি সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। বিষয়টি মর্মন্তুদ হলেও আমাদের সমাজে তা অনেকটা সাধারণ ঘটনার ন্যায়। যদি তাদেরকে এরূপ সম্পর্ক টিকিয়ে না রেখে ভেঙ্গে দিতে উৎসাহিত করা হয়, প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা-না রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রদান করা হয় তখন দেখা যাবে কি ফলাফল বের হয়ে আসে।
চলবে...
পারিবারিক সহিংসতার অপ্রকাশিত অধ্যায়- পুরুষ নির্যাতন (২)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।