আসুন একটি গল্পের শেষ অংশ সাজাই-স্টপ ইয়োর মাউথ...লেট মি সে.......
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:০৪
সুপ্রিয় ব্লগার বন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই আমার ব্লগের শিরোনামটা দেখেছেন- লেট উই স্টার্ট। যেদিন রেজিস্ট্রেশন করি শিরোনামে এটা লিখেছিলাম এই ভেবে যে আমাদের সাধ্যানুসারে আমরা কিছু একটা শুরু করি। তারপর এই দুই বৎসরে আপনাদের সমর্থনে এবং ক্ষেত্র বিশেষে সহায়তায় লক্ষ্মীপুর জেলার মেঘনার বুকে জেলে শিশুদের জন্য একটি স্কুল শুরু করেছি। স্কুল সম্পর্কে জানতে-http://www.meghnaparschool.com
সে কথা থাক। আজ এই পোস্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য ভিন্ন। আমি একটি গল্প শেষ করার জন্য আপনাদের সহায়তা চাচ্ছি। আমার জীবনে প্রথম ব্লগ লেখা ছিল এটি। ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি রাত ১:০৪ মিনিটে এই পোস্টটি দিয়েছিলাম। একটি সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে জমজমাট গল্প লেখার মানসে শুরু করেছিলাম। ২৯ টি বাক্যে সাজানো গল্পের এই ভূমিকাংশটুকু লিখে নিচে চলবে... লিখেছিলাম। তারপর প্রায় ১ বৎসর ৮ মাস ধরে অনেক লিখেছি কিন্তু প্রথম লেখাটিকে আর ধরতে পারছি না। তাই আমি ভেবেছি সা.ইন.ব্লগে অনেক ভালো লেখক আছেন যাঁরা এই গল্পটির একটি চমৎকার সমাপ্তি টানতে পারবেন। লেখাটির লিংক-স্টপ ইয়োর মাউথ...লেট মি সে.......
............................................................................................................................................................................................................
গল্পটি শেষ করার নিয়মাবলি এবং শর্তসমূহ :
১. এখানে ২৯ টি বাক্য আছে। আমার লেখা অংশটুকু বাদে আরও কমপক্ষে ১৪০০ বাক্যে শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি হলেও আপত্তি নেই।
২. ১৪ অক্টোবর ২০০৯ তারিখের মধ্যে গল্প লিখে মন্তব্যের ঘরে লিংক দিতে হবে। তাই আগ্রহীদের এই ব্লগের লেখাটি ফেভারিটে রাখার অনুরোধ করছি।
৩. অনধিক সাত দিনের মধ্যে চুড়ান্ত নির্বাচিত তিনটি লেখা বাছাই করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং ১৪ নভেম্বর তারিখে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
৪. এমপ্লয়মেন্ট ফোকাসড লারনিং বাংলাদেশ লিমিটেড (ইএফএল বিডি লিঃ) পুরস্কার প্রদান করবে। যাঁরা এই গল্প লেখার সাথে যুক্ত হবে প্রত্যেককেই ইএফএলবিডি সম্মাননা প্রদান করবে। ইএফএলবিডি সম্পর্কে জানতে-http://www.eflbd.org
৫. লেখা চুড়ান্ত ঘোষণার দিন পুরস্কারের ঘোষণাও প্রদান করা হবে।
৬. যাঁদের গল্প নির্বাচিত হবে তাদের সংকলন নিয়ে বই প্রকাশের এখতিয়ার ইএফএলবিডি পাবলিকেশনের থাকবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন করার এখতিয়ার প্রকাশকের থাকবে।
৭. নিয়ম অনুসারে এবং শর্ত সাপেক্ষে বই বিক্রির রয়্যালটি লেখক পাবেন।
............................................................................................................................................................................................................
গল্পটি নিয়ে আমার ভাবনা :
সামহোয়্যার ইন ব্লগে এটি ছিল আমার প্রথম পোস্ট। এমনকি জীবনেরও প্রথম। মাঝে মাঝে আমি এই অংশটুকু পড়ি আর গল্পটির এগুনো নিয়ে ভাবি।
এই পোস্টটি কি চিন্তা করে দিয়েছিলাম- তা আর এখন মনে নেই। তবে বিরাট একটি গল্পের প্লট মাথায় নিয়েই পোস্টটি দিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য এক বাসের মধ্যেই একটি বাংলাদেশকে চিত্রায়িত করা। তথ্যপ্রযুক্তির একটি বিরাট ভূমিকাও থাকবে এই গল্পে। যেমন- সাধারণত বাসে বা ফুটপাথে হকাররা বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করে কিংবা সেবা দেয়। অনেক সময় ম্যাজিক দেখিয়ে লোকজনকে আনন্দ দিয়ে তার পণ্য বা সেবা বিক্রয় করে।
এই গল্পে তথ্যপ্রযুক্তির চমকপ্রদ কিছু বিষয় দিয়ে বাসের সব মানুষকে অবাক করে দেওয়ার বিষয়টি থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তিই যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ত্বরিৎ ফল বয়ে নিয়ে আসতে পারবে তার ইঙ্গিত। এখানে পণ্য বা সেবা হবে 'শিক্ষা'। আমি আবারও বলছি শিক্ষাই হবে এই গল্পের মূল পণ্য বা সেবা।
সেই সাথে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সন্ত্রাস, সামাজিক অস্থিরতা, ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে।
গ্রাম বাংলার সহজ সরল নারী/পুরুষ চরিত্র যেমন থাকবে তেমনি স্মার্ট চরিত্রের কোন পুরুষ/নারীর উপস্থিতিও থাকতে পারে। একজন চিরন্তন বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিচ্ছবি যেমন থাকবে তেমনি বাসের যাত্রী হিসেবে এক বা একাধিক শিক্ষার্থীর ভুমিকাও থাকবে।
গল্পের প্রয়োজনে আরও চরিত্র আসতে পারে। এটি লেখকের কল্পনাশক্তি এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতার উপর নির্ভর করবে।
মোট কথা লেখকের স্বাধীনতা থাকবে গল্পটির চুড়ান্ত রূপ দেওয়ার।
............................................................................................................................................................................................................
গল্পের প্রথম অংশটুকু
সম্মানিত যাত্রী সাধারণ, চলার পথে আপনারা যারা আমার সহযাত্রী হয়েছেন তাদের মধ্যে মুসলিম ভাইদের আমার সালাম এবং হিন্দু ভাইদের আমার নমস্কার।
কথা ক'টি বলে ছোট্ট একটা বিরতি নিয়ে সিটে বসা বাসযাত্রীদের দিকে তাকালাম। বাসের ভিতর একগাদা মানুষ। অধিকাংশই খেটে খাওয়া টাইপের। লক্কর-ঝক্কর মার্কা এই গাড়িটিতে পয়সাওয়ালা কোন লোক উঠবেনা তা বোঝাই যায়। আমিও স্বাভাবিক অবস্থায় এই গাড়িতে চড়তাম না। বিশেষ একটা উদ্দেশ্য নিয়েই এই গাড়িটিতে চড়েছি।
ঈদ উপলক্ষ্যে গরীব মানুষগুলো বাড়ি যাচ্ছে। ঈদের আগে গায়ে গতরে শ্রম দিয়ে দুটা পয়সা রোজগার করে মানুষগুলো বাড়ি যাচ্ছে ঈদের সওদাপাতি নিয়ে। বাসটির গন্তব্যস্থল নোয়াখালী। আমি অবশ্য নোয়াখালী যাচ্ছি না। আমার উদ্দেশ্য সাধিত হয়ে গেলে আমি পথেই নেমে পড়বো কোথাও।
এটি আমার ফার্স্ট অ্যাসাইনমেন্ট। যে করেই হোক উদ্দেশ্য সাধন করতেই হবে। আর টার্গেটও করেছি বাসের এই নিরীহ এবং নির্বোধ টাইপের পাবলিককে। এই ধরনের গরীব এবং নির্বোধ পাবলিককে চড়িয়ে খেতে খুব মজা। এই মজাটি পাইয়ে দিয়েছে আমার ওস্তাদ, যে এই বাসেই মাঝামাঝি আরেকটা সিটে হেলান দিয়ে চোখ মুদে আছে। ওস্তাদ একবার আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে আবার চোখ বন্ধ করে ঝিম মেরে পড়ে রইলো। যার অর্থ হলো চালিয়ে যাও। আমি উৎসাহ পেয়ে আবার শুরু করলাম-
যাত্রা পথে অনেকেই অনেক ধরনের সমস্যায় পড়েন। ঈদের এই মৌসুমে কেউ যাত্রীবেশধারী ডাকাতের হাতে পড়েন, কেউবা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারান। দয়া করে যাত্রাপথে সবাই সাবধান থাকবেন।
ভদ্র ভাষায় আমার এই লেকচার শুনে কেউ কেউ কৌতুহলী হয়ে আমার দিকে তাকায়। দূরের পথে যাবে বলে অনেকেই বাসের সিটে আয়েশ করে হেলান দিয়ে চোখ মুঁদে ঝিমোচ্ছিল। আমার মোলায়েম কন্ঠের লেকচার শুনে তাদের অনেকে কান খাড়া করে আমার দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকায়। আমি বুঝে উঠার চেষ্টা করি বাসের যাত্রীরা আমার প্রতি কতটুকু মনোযোগী হচ্ছে। তার পরেই যাবো পরবর্তী অ্যাকশনে। ওস্তাদ আমাকে অ্যাকশনে যাওয়ার বেশ ক'টি কৌশল শিখিয়ে দিয়েছে। আমি তার মধ্যে একটি মাত্র ছাড়ছি। আগে পাবলিকের মনোভাব বুঝে নিই, তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


