মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনকে ঘিরে আজকের এই আয়োজনে উপস্থিত সম্মানিত সভাপতি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি প্রধান, দেশের কৃষির সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একজন সুযোগ্য ক্যাডার কর্মকর্তা, যিনি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বদলি হয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপ-পরিচালক হিসেবে যিনি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন।
একজন দক্ষ সংগঠক এবং মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের চেয়ারম্যান জনাব আজিজুন নাহার।
উপস্থিত আমাদের আজকের এই আয়োজনের সম্মানিত অতিথি এবং প্রকল্পের উদ্বোধক, লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, একজন নিভৃতচারী দেশপ্রেমিক, দেশের উন্নয়নে যিনি নিরবে নিঃশ্চুপে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই মহান ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষাবিদ জনাব প্রফেসর রফিকুল আহসান।
উপস্থিত আজকের এই আয়োজনের প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন বকুল।
উপস্থিত বিশেষ অতিথি জনাব আব্দুল জলিল মিয়া, জেলা শিক্ষা অফিসার, লক্ষ্মীপুর।
বিশেষ অতিথি জনাব.............................নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, লক্ষ্মীপুর।
বিশেষ অতিথি................................................................................
আমন্ত্রিত অতিথি জনাব...........................................................................................................................................................................................................................................................................................................
উপস্থিত মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের সুপ্রিয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক বৃন্দ।
আসসালামু আলাইকৃম।
ফেব্রুয়ারি মাস মায়ের ভাষাকে রক্ষার আন্দোলনের মাস। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ মায়ের ভাষা রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ আরও কিছু মহৎপ্রাণ ব্যক্তি। তাঁদের প্রতি আমি সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।
আমার বক্তব্যের শুরুতেই আপনাদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা।
এখানে আজ যারা সমবেত হয়েছেন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সবাই নিয়োজিত আছেন। আপনাদের পাশাপাশি এই স্কুলকে কেন্দ্র করে প্রথম আলো ব্লগ এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগের ভার্চুয়াল বন্ধুরা স্কুলটিকে শুরু থেকেই বিভিন্নভাবে সহায়তা এবং সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। আজ আমি আপনাদের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সমন্বিত একটি সম্ভাবনার গল্প বলবো ।
২০০৮ সালের ১৪ জুলাই তারিখে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথা যখন মনে হয়, তখন জেলেপাড়ার এই অধিবাসীদের মাঝে শিক্ষার কোন ছোঁয়া ছিল না।
এই জনপদের একমাত্র শিক্ষা সচেতন ব্যক্তি সোহরাব মাঝির অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এবং মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের দু'জন শিক্ষক ফারজানা সুলতানা ম্যাডাম এবং মর্জিনা আক্তার সাথী ম্যাডামের নিবিড় পরিচর্যায় এখানে ১৪০ জন শিশুর জীবনে প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনকে আমরা শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস হাতে নিয়েছি। এই স্কুলের শিশুরা শিক্ষালাভ করবে, পাশাপাশি তারা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সৃষ্টি করে নেবে।
স্কুলের ১৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করা হয়েছে। বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা টানা ১০ দিন নিবিড়ভাবে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবে। সোহরাব মাঝিসহ লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় কিছু উদ্যোক্তা স্কুলের এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের 'মাশরুম চাষ' প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ১,৪০,০০০/- (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা।
আমাদের প্রকল্প প্রস্তাবনা মোতাবেক প্রথম দু'মাসেই পুঁজি ফেরত নিয়ে আসা সম্ভব।
মাশরুম বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় সবজির নাম। এটির চাহিদা বিশ্বব্যাপী। শুধু মাশরুম চাষকে কেন্দ্র করে আমরা শিক্ষা এবং কৃষি খাতকে একত্রে ধারণ করে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারি।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পাশাপাশি অবসর সময়ে মাশরুম চাষ করবে। শিক্ষার্থীরা মাশরুমের উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, মূল্য সংযোজন ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেবে। উৎপাদিত মাশরুম 'এমপ্লয়মেন্ট ফোকাসড লারনিং বাংলাদেশ লিমিটেড' বাজারমূল্যে ক্রয় করবে।
৫ হাজার মাশরুম বীজ নিয়ে আমাদের এই প্রকল্প। স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক-লোকাল কমিউনিটির লোকজন এই প্রকল্পের সদস্য। মাত্র ১৪,০০০/- টাকা মূল্যের ১০ টি শেয়ার বাবদ ১,৪০,০০০/- টাকা এই প্রকল্পের পুঁজি। প্রথম ২ মাসের ১ টার্মেই প্রাথমিক পুঁজি ফেরত আনা সম্ভব। পরবর্তী প্রতি টার্মে শুধু বীজ বাবদ বিনিয়োগ করলেই চলবে।
ইএফএলবিডি গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গেছে একটি মাশরুম বীজ থেকে গড়ে ২৫ গ্রাম মাশরুম উৎপাদিত হয়। সেই হিসেবে ৫০০০ মাশরুম থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার গ্রাম বা ১২৫ কেজি মাশরুম উৎপাদন সম্ভব সাত দিনের প্রথম ফলনে।
একটি বীজ থেকে ২ মাসে সর্বোচ্চ ৮ বার ভালো ফলন পাওয়া যায়। (প্রতি সপ্তাহে ১ বার ধরে ২ মাসে মোট ৮ সপ্তাহ।)
তাহলে ৫০০০ বীজ থেকে ১ সপ্তাহে ১২৫ কেজি ধরে ৮ সপ্তাহে মোট ১,০০০ কেজি মাশরুম পাওয়া যাবে যার পাইকারি বাজার মূল্য = ১, ২৫,০০০/- (এক লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা।
২য় টার্ম থেকে ৬ষ্ঠ টার্ম পর্যন্ত শুধু ৫০০০ বীজ বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা এবং উদ্যোক্তাদের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ২০ হাজার টাকা সহ সর্বমোট ৭০,০০০/- টাকা খরচ করলে একই পরিমাণ লাভ পাওয়া যাবে।
প্রকল্প সংক্ষেপঃ
১ টি মাশরুম থেকে ১ সপ্তাহে আনুমানিক উৎপাদন = ২৫ গ্রাম।
৫০০০ মাশরুম থেকে ১ সপ্তাহে আনুমানিক উৎপাদন = ১২৫ কেজি।
৫০০০ মাশরুম থেকে ৮ সপ্তাহে সর্বমোট উৎপাদন = ১০০০ কেজি।
১ কেজি মাশরুমের পাইকারি মূল্য = ১২৫ টাকা।
১০০০ কেজি মাশরুমের পাইকারি মূল্য = ১,২৫,০০০/- টাকা।
প্রথম টার্মের খরচ = ১,৪০০,০০০ টাকা।
২য় থেকে ৬ষ্ঠ টার্ম পর্যন্ত খরচ = ৭০,০০০ গুণন ৫ = ৩,৫০,০০০/- টাকা।
সর্বমোট খরচ = ৪,৯০,০০০/- টাকা।
১ টার্মে মোট উৎপাদিত মাশরুমের মূল্য = ১,২৫,০০০/-
৬ টার্মে মোট উৎপাদিত মাশরুমের মূল্য = ৭,৫০,০০০/-
মোট লাভ = ৭,৫০,০০০/- - ৪,৯০,০০০ = ২,৬০,০০০/- টাকা।
অর্থাৎ একবৎসরে লাভ = ২,৬০,০০০/- টাকা।
এই অর্থ দিয়েই মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন সুন্দরভাবে পরিচালনা সম্ভব। প্রকল্পটিকে আরও সম্প্রসারণ করে লাভের পরিমাণ আরও বাড়ানো যায়। এতে করে স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্কুলের নিজস্ব আয় দিয়েই স্কুলটি চলবে।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন পরিচালনার জন্য এরকম একটি প্রকল্পই যথেষ্ঠ। সমাজের কিছু বিত্তবান উদ্যোক্তা মাত্র ১৪,০০০/- টাকা করে শেয়ার ক্রয়ে এগিয়ে আসলে সারা বাংলাদেশে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষাকেও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
আজ এই স্কুলটি একটি সম্ভাবনার বীজ হয়ে আপনাদের মাঝে জেগে আছে। এখন প্রয়োজন পরিচর্যা। আমরা কোন অনুদান বা সহায়তা চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসুন। আপনাদের শেয়ারের মূল্য দিয়ে এরকম আরও প্রকল্প স্থাপন করা সম্ভব। এই ছোট্ট বিনিয়োগ দিয়েই স্কুলটি সার্বিকভাবে পরিচালনা সম্ভব।
আমরা স্কুলের পক্ষ থেকে একুশে স্মরণে একটি স্যুভেনিয়র প্রকাশ করতে যাচ্ছি। ফেব্রুয়ারি মাসেই আমরা এটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি।
আজকের এই অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তোলার জন্য আমি সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি স্কুলের চেয়ারম্যান জনাব আজিজুন নাহারকে।
এক্সপো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আব্দুল মতিন শিশুদের দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের সবিশেষ কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন।
সেই সাথে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সবাই অনুষ্ঠানটি আয়োজনে নানান ভাবে সহায়তা করে আমাদের কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন।
এখানে উপস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, লক্ষ্মীপুর সদর ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপকসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞতা। স্থানীয় উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট শওকত আলী চৌধুরী লিটন, স্থানীয় উদ্যোক্তা জনাব আব্দুল্লাহ আল মাসুম, জনাব আহম্মদ শরীফ সহ সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
মাশরুম প্রকল্পের সাথে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানকারী 'আমার বাংলা অর্গানিক এগ্রিকালচারস' এর সিইও জনাব নয়ন কুমার তোকদার এর প্রতি আমাদের সবিশেষ কৃতজ্ঞতা। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আমাদের সাথে কাজ করে যাবেন। কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গী হয়েছেন ইএফএলবিডির গবেষণা সহকারী জহিরুল আলম পাটোয়ারী এবং ইএফএলবিডির মাশরুম এক্সপার্ট মঞ্জুরুল আলম পলাশ। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।
আপনারা এই উদ্যোগটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আমি আমার শুভেচ্ছা বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে।
মোঃ আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া
শিক্ষাবিদ ও গবেষক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

