মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন মাশরুম চাষ প্রকল্পে বিনিয়োজিত মোট অর্থের পরিমাণ নিম্নরূপঃ
ঘর বাবদ খরচ = ৬২,৯৫০/-
তাক বাবদ = ১২,১৯৩/-
যন্ত্রপাতি হিসাব = ১১,৩১৫/-
মাশরুম বীজ হিসাব = ৫৬,৫০০/- (৫ হাজার বীজের হিসাব ২০০০ বীজ এখনও চাষে নামানো হয়নি।)
প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য = ৫,৫৬৪/-
-----------------------------------------
মোট = ১,৪৮,৫২২/- টাকা।
প্রাথমিক অবস্থায় আমরা সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয় ধরেছিলাম = ১,৪০,০০০/-
অর্থাৎ আমাদের ৮,৫২২ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।
---------------------------------------------------------------------------------
৩,০০০ মাশরুম বীজ নিয়ে আমাদের পাইলট প্রকল্প।
আমাদের প্রতিদিনের উৎপাদন নিম্নরূপঃ
------------- ------------------ ---------------
তারিখ উৎপাদন বীজের সংখ্যা
------------- ----------------- ----------------
০২/০৩/২০১০ ৬ কেজি ৫০০ গ্রাম ---------
০৩/০৩/২০১০ ৬ কেজি ৭৫০ গ্রাম ---------
০৪/০৩/২০১০ ১ কেজি ৮০০ গ্রাম ---------
০৫/০৩/২০১০ ২ কেজি ০০০ গ্রাম --------
০৬/০৩/২০১০ ২ কেজি ২৫০ গ্রাম ---------
০৭/০৩/২০১০ ৩ কেজি ২৫০ গ্রাম ---------
০৮/০৩/২০১০ ৩ কেজি ২৫০ গ্রাম ----------
০৯/০৩/২০১০ ৩ কেজি ২৫০ গ্রাম -----------
১০/০৩/২০১০ ২ কেজি ৭০০ গ্রাম ১২৯
১১/০৩/২০১০ ২ কেজি ৫৫০ গ্রাম ১১০
১২/০৩/২০১০ ৩ কেজি ২০০ গ্রাম ১৬৮
১৩/০৩/২০১০ ৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ২২২
১৪/০৩/২০১০ ১ কেজি ০০০ গ্রাম ১৪৮
১৫/০৩/২০১০ ৩ কেজি ২২৫ গ্রাম ২৭১
১৬/০৩/২০১০ ২ কেজি ১৫০ গ্রাম ১৫২
১৭/০৩/২০১০ ৪ কেজি ৫০০ গ্রাম ২২৫
১৮/০৩/২০১০ ৫ কেজি ২০০ গ্রাম ৩৪৫
১৯/০৩/২০১০ ৩ কেজি ০০০ গ্রাম ২৬৯
২০/০৩/২০১০ ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম ১৭০
২১/০৩/২০১০ ৩ কেজি ২৫০ গ্রাম ২৬০
২২/০৩/২০১০ ২ কেজি ২০০ গ্রাম ২৫০
২৩/০৩/২০১০ ৩ কেজি ২০০ গ্রাম ১৮০
২৪/০৩/২০১০ ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ১৬১
২৫/০৩/২০১০ ৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ৩০০
২৬/০৩/২০১০ ৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ------
২৭/০৩/২০১০ ৪ কেজি ০০০ গ্রাম -------
২৮/০৩/২০১০ ৬ কেজি ০০০ গ্রাম ৩৬০
২৯/০৩/২০১০ ৭ কেজি ৫০০ গ্রাম ৩৮৫
৩০/০৩/২০১০ ৮ কেজি ০০০ গ্রাম ৪৭০
৩১/০৩/২০১০ ১০ কেজি ১০০ গ্রাম ৫১০
০১/০৪/২০১০ ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম ৪২০
০২/০৪/২০১০ ৫ কেজি ৪৫০ গ্রাম ৩৬৫
০৩/০৪/২০১০ ৭ কেজি ১০০ গ্রাম ৪০০
০৪/০৪/২০১০ ৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ২২৫
০৫/০৪/২০১০ ২ কেজি ৩৫০ গ্রাম ১৫০
-------------------------------------------------------------------------------
১৪৫ কেজি ৮৭৫ গ্রাম
১১০ কেজি ৫৭৫ গ্রাম উৎপাদন হয়েছে মোট ৬৬৪৫ বীজ থেকে। অর্থাৎ প্রতি বীজে মাশরুম হয়েছে প্রায় ১৬.৬৪ গ্রাম বা ১৭ গ্রাম।
২৫ দিনে ৬৬৪৫ বীজ থেকে মাশরুম পাওয়া গেছে।
৬৬৪৫ ভাগ ২৫ = ২৬৫.৮ টি বীজ প্রতিদিন উৎপাদনে থেকেছে গড়ে।
৩০০০ চারায় ২৫ দিনে ফলন দিয়েছে ২ বার
৫০ দিনে ফলন দিবে ৪ বার
৭৫ দিনে ফলন দিবে ৬ বার।
কিন্তু একটি বীজ ৭৫ দিনে কমপক্ষে ৮/১০ বার ফলন দেওয়া স্বাভাবিক।
তাহলে বুঝা যাচ্ছে মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন মাশরুম চাষ প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
প্রথমতঃ বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা এখনও মাশরুম চাষ বিষয়ক সবকিছু আয়ত্বে আনতে পারেনি।
দ্বিতীয়তঃ খোলা আবহাওয়ার কারণে মাশরুম ঘরে যথাযথ আর্দ্রতা বজায় না থাকার কারণে অনেক পিনহেড পরিণত হতে দীর্ঘ সময় নেয়।
প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ মাশরুম বীজ থেকে মাশরুম পাওয়া গেলে মোট প্রাপ্তি ঘটত = ৬০০ গুণ ১৭ গ্রাম = ১০ কেজি ২০০ গ্রাম। কিন্তু এখন পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৪ কেজি ১৬০ গ্রাম। এটি আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় অর্ধেক। উক্ত ২৫ দিনের মধ্যে মাত্র ১ দিন দশ কেজি উৎপাদন হয়েছে। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যথাযথ পরিচর্যা করলে ১ দিনে ১০ কেজি উৎপাদন করা সম্ভব।
২/৩/১০ থেকে ৫/৪/১০ পর্যণ্ত মোট ৩৫ দিনের মাশরুম উৎপাদনের হিসাব ধরে।
মোট উৎপাদন = ১৪৫ কেজি ৮৭৫ গ্রাম।
গড়ে প্রতিদিনের উৎপাদন = ৪ কেজি ১৬০ গ্রাম
----------------------------------------------------------------------
মজার কিছু পরিসংখ্যানঃ
৩০০০ চারায় সর্বনিম্ন উৎপাদন = ১ কেজি। ১৪/০৩/২০১০ তারিখ।
৩০০০ চারায় সর্বোচ্চ উৎপাদন = ১০ কেজি ১০০ গ্রাম ৩১/০৩/২০১০ তারিখ।
--------------------------------------------------------------------------
লাভ-ক্ষতি হিসাব
স্কুলকে কেন্দ্র করে পরিচালিত মাশরুম প্রকল্পের মাসিক ব্যয় = ১০,০০০ টাকা।
১ দিনের ব্যয় = ৩৩৩ টাকা।
বর্তমানে ৪ কেজি ১৬০ গ্রাম মাশরুমের বাজার মূল্য = ৫২০/- টাকা।
সুতরাং লাভ = ৫২০ - ৩৩৩ = ১৮৭ টাকা।
৩০ দিনের লাভ = ৫,৬১০ টাকা।
--------------------------------------------------------------------------------
অন্য সমস্ত ব্যয় স্থির ধরে যদি উক্ত প্রকল্পে আরও ২ হাজার বীজ চাষে নামানো হয় তাহলে প্রতিদিন এই হারে কমপক্ষে আরও ৩ কেজি আসবে। একমাসে ৯০ কেজি। যার বাজার মূল্য = ১১,২৫০/- টাকা।
--------------------------------------------------------------------------------
অর্থাৎ ৫ হাজার চারায় ১ মাসে কমপক্ষে লাভ = ১৬,৮৬০/- টাকা।
আমার এখনও দৃঢ় বিশ্বাস বর্তমান উৎপাদনের দ্বিগুণ ফলন উৎপাদন সম্ভব। এতে বিনিয়োগকারীর লাভের পরিমাণও দ্বিগুণ করা সম্ভব। উৎপাদনকারী নিজেই শ্রম দিলে উৎপাদন খরচ আরও কমে আসবে। এতেও লাভ বাড়বে।
---------------------------------------------------------------------------------
পুরো ৭৫ দিনের লাভ-ক্ষতির হিসাব দিলে প্রকল্পটি মূল্যায়নে আরও সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
পরিশেষে বলা যায় বর্তমানে ৩০০০ চারা দিয়ে প্রকল্পটি সামান্য লাভে চলছে। তাই লাভজনকভাবে পরিচালনা করতে হলে একটি প্রকল্প কমপক্ষে ৫০০০ বীজ নিয়ে শুরু করা উচিত।
---------------------------------------------------------------------------------
এই দীর্ঘ একমাসে যে সমস্যাগুলো এসেছে তা হলো-
১. শেয়ার হোল্ডাররা একত্রে শেয়ারের টাকা দেয়নি। ফলে ধার কর্জ করে, এদিক সেদিক থেকে টেনে প্রকল্পটি দাঁড় করাতে কিছু অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। তাই নতুন করে শুরু করতে পুরো অর্থ একেবারে হাতে নিয়ে তবেই শুরু করা উচিত।
২. বর্তমানে অতিরিক্ত গরম মাশরুম চাষে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই কম পরিশ্রমে মাশরুম উৎপাদন বেশি হবে বলে আমার ধারণা।
--------------------------------------------------------------------------------
আরও অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে অনেকের মনে। যে কেউ আমার এই ১ মাসের গবেষণালব্ধ ফলাফলটি নিয়ে যে কোন প্রশ্ন রাখতে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

