সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আপনাদের অব্যাহত সহায়তা এবং সমর্থন নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরী হাটে অবহেলিত জেলে শিশুদের জন্য একটি স্কুল গড়ে তুলেছিলাম। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৪ জুলাই ২০০৮ তারিখে। এই স্কুলটি এখন ১৪০ জন শিশুর কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র।
এটি ছিল ছোট্ট একটি স্বপ্ন। একটি স্কুল গড়ে তোলার স্বপ্ন। তিলে তিলে স্কুলটিকে গড়ে তুলতে হবে। স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক সবাই মিলে স্কুলটিকে আস্তে আস্তে গড়ে তুলবে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে। সুর করে পড়া শিখবে। আঁকা বাকা অক্ষরে লিখতে শিখবে। এভাবে পড়ালেখা শিখতে শিখতে শৃঙ্খলা শিখবে। একসময় জীবনকেও চিনতে শিখে যাবে।
আচ্ছা! ওরা পড়ালেখা শিখবে যে অর্থ পাবে কোথায়? আমাদের এই দেশে তো শিশুদের জন্য কোন ফ্রি শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। গরীব অভিভাবকরা অর্থের অভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠায় না। দু'মুঠো উপার্জন করতে পারলে সংসারে কাজে লাগবে ভেবে অধিক সন্তানের জন্ম দেয়। সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবে সে ভাবনা ভাবে না।
নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে একটি নৌকাকে সম্বল করে কয়েকটি পরিবার বসত গড়েছিল মজু চৌধুরী হাটের এখানে। মেঘনার বুকে ভেসে ভেসেই কাটিয়ে দিয়েছে দীর্ঘ কয়েক যুগ। এখানেই তাদের সন্তানরা জন্ম নিয়েছে। সেই সন্তানরা বড় হয়েছে। বিয়ে-শাদী করে পৃথক নৌকার মালিক হয়েছে। পৈত্রিক সূত্রে জেলে পেশাকেই বেছে নিয়েছে। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এখন যারা একদম শিশু- এই শিশু সন্তানরাও বাবা-মা'র সেই পেশাকেই বেছে নিচ্ছে।
এই শিশুদের চোখে কোন স্বপ্ন ছিল না। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন তাদের স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই শিশুরা এখন অ-আ-ক-খ, এ-বি-সি-ডি পড়তে লিখতে শিখেছে। তারা এখন ছড়া ছন্দে গল্প কবিতা পড়তে পারে। আর এগুলো সবই সম্ভব হয়েছে একটি স্কুল গড়ে তুলে। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন সেই শিশুদের একটি স্বপ্নের ঠিকানা হয়েই জেগে আছে এ অঞ্চলের মানুষের চোখে।
অর্থের অভাবে পড়াশুনা করতে না পারার এ চিত্রটি শুধু মজু চৌধুরী হাটেই নয়। সারা বাংলাদেশেই একই রকম চিত্র। কিন্তু মেঘনাপাড়ের শিশুরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের বর্তমান চিত্রটি এরকম-
স্কুলের শিক্ষার্থী - ১৪০ জন।
শিক্ষক- ৩ জন।
কেয়ারটেকার - ১ জন।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাশরুম চাষ প্রকল্প শুরু হয়েছে। ১৪ জন শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকতর দক্ষ ৪ জনকে বাছাই করে প্রকল্পে চাকুরি দেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষার্থীরা শিক্ষার অবসরে মাশরুম প্রকল্পে কাজ করে। মাশরুম বীজের পরিচর্যা করে। পানি দেয়। ফলন তুলে। মাশরুম পরিচর্যা বিষয়ে এখন ওরা খুবই দক্ষ।
এ পর্যন্ত মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন মাশরুম প্রকল্প থেকে আমরা সাড়ে ২২ কেজি শুকনা মাশরুম পেয়েছি। শুকনা মাশরুমের বাজার দর পাইকারি ১০০০ (এক হাজার) টাকা কেজি এবং খুচরা ২০০০ (দুই হাজার) টাকা কেজি। প্রথম চালানের সাড়ে এগার কেজি আমরা চুক্তি অনুযায়ী ১১,৫০০/- টাকায় বিক্রয় করে দিয়েছি। বর্তমানে আমাদের হাতে পরবর্তী ফলনের ১১ কেজি উন্নতমানের শুকনা মাশরুম এসে পৌঁছেছে।
এগুলো আমরা একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় বাজারজাত করতে চাই। ব্লগের অনেকেই আছেন যাঁরা মাশরুমকে দৈনন্দিন খাবার হিসেবে গ্রহণ করছেন। আজকাল মাশরুম একটি আবশ্যকীয় খাবার হিসেবে ঘরে ঘরে সমাদৃত হচ্ছে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগে। মাশরুমে যে পরিমাণ পুষ্টি আছে তা অন্য অনেক সবজিতেও নেই। অনেক ঔষধী গুণ আছে মাশরুমে। এটি একটি আদর্শ খাবার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বাঙালির খাদ্য তালিকায়। এর রান্না করার পদ্ধতিও খুবই সহজ। যে কোন সবজি, তরকারি কিংবা মাংসে সামান্য গরম পানিতে ধোয়া শুকনা মাশরুম দিলেই তা সবজির মতোই মিশে যাবে এবং খাবারের স্বাদও বাড়িয়ে দেবে। চিকেন কর্ন স্যুপের সাথে মাশরুম দিলে বুঝার কোন উপায় নেই যে কোনটি মাশরুম আর কোনটি চিকেন। স্বাদও মুরগীর কচি মাংসের মতোই। মাশরুম রান্নার গুণে চিংড়িরও স্বাদ পাওয়া যায়।
অনেক সম্ভাবনা নিয়ে আমরা মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা প্রকল্প চালু করেছি। এটি সারা বাংলাদেশেই ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এখন প্রয়োজন আরও সহযোগিতা। এই স্কুলের শিশুদের প্রথম থেকেই আপনারা সমর্থন এবং সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। আজ শিশুরা নিজেদের স্কুলে মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী হতে চায়। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীদের উৎপাদিত মাশরুম বাজারজাত করার জন্য ইএফএলবিডি দায়িত্ব গ্রহণ করছে। আমরা স্কুলের উৎপাদিত মাশরুম নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করতে চাই।
নিম্নোক্ত ভাবে আমরা এ কাজটি করতে চাচ্ছি-
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন মাশরুম প্রকল্প
মাশরুম বাজারজাতকরণ পরিকল্পনা
বিক্রয় কেন্দ্রঃ
সমন্বয় অফিস
ইএফএলবিডি লিঃ
ভূঁইয়া মঞ্জিল (নিচ তলা)
বাড়ি নং-০১, রোড নং-০২
ছনটেক (নর্দান ল্যাবরেটরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন)
থানা- যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬।
ফোন- ৭৫৫৪৬৭৩
উন্নতমানের শুকনা মাশরুম
প্রতি কেজি = ২,০০০/- টাকা। (পরিবহন খরচ/ডাক খরচ কোম্পানি বহন করবে।)
১০০ গ্রাম, ২০০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম, ১ কেজি, ২ কেজি, ৫ কেজি প্যাকেটে আমরা মাশরুম সরবরাহ করবো। সাথে মাশরুম রান্না এবং বিস্তারিত একটি লিফলেটও দেওয়া হবে।
আপনারা চাহিদা মোতাবেক মাশরুম প্রাপ্তির পর ইউসিবিএল ব্যাংকে আপনাদের অর্থ পরিশোধ করে দেবেন।
ইএফএলবিডি লিমিটেড
চলতি হিসাব নং- ০০৮৭-১১১-০০০০২৪২৯
আমাদের পাইকারী বাজার নির্দিষ্ট আছে যেখানে শুকনা মাশরুম ১০০০/- টাকায় বিক্রয় করা যায়। কিন্তু আমরা চাচ্ছি সারা বাংলাদেশ জুড়ে মাশরুমের যে ভোক্তা আছে, তারা যে দামে মাশরুম ক্রয় করে সেই দামেই এই পণ্যটিকে বিক্রয় করতে। পণ্য পাঠানোর খরচ কোম্পানি বহন করবে। এতে স্কুল আর্থিকভাবে লাভবান হবে। অন্যের সাহায্য কিংবা দয়ার উপর নির্ভর করতে হবে না।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীদের উৱপাদিত মাশরুম ক্রয় করতে চাইলে আপনারা পরিমাণ উল্লেখ করে এখানে ঠিকানা দিয়ে দিন। অথবা [email protected] এই অ্যাড্রেসেও চাহিদা জানাতে পারেন। আমরা যথাসময়ে আপনাদের চাহিদা এবং ঠিকানানুযায়ী মাশরুম পাঠিয়ে দেবো। প্রাপ্তির পর উপরোক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠিয়ে দিবেন।
আমাদের এই কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা প্রকল্পটিতে আপনার জোর সমর্থন এবং সহায়তা অব্যাহত রাখুন।
ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



