somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অদ্ভূত স্বপ্ন এবং তর্জনীতে কামড়ের দাগ

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখেন। ভালো স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলে সেই স্বপ্নের আবেশ মনকে আলোড়িত করে। দুঃস্বপ্ন দেখলে স্বপ্নটাকে স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চান।

গত রাতে আমি একটি অদ্ভূত স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নটি আমার কাছে এতটাই জীবন্ত ছিল যে ঘুম ভাঙার পরও স্বপ্নটি নিয়ে অনেক্ষণ চিন্তা করেছি। স্বপ্নের বিষয় ছিল দুইটি বিড়াল।

বিড়াল আমার অপছন্দের একটি প্রাণী। খুব ছোটবেলায় আমাদের বাসায় একটি বিড়াল ছিল। আমরা ভাই বোনরা বিড়ালটিকে যথেষ্ঠ আদর করতাম। কিন্তু বিড়ালটির এটি বদঅভ্যাস ছিল ঘরের মেঝেতে প্রাকৃতিক কর্ম সেরে ফেলা। বাইরে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরও বিড়ালের এই অভ্যাস যায়নি। তাই একদিন আম্মা রাগ করে বিড়ালটিকে দূরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসতে বললেন। আমরা দু'ভাই বিড়ালটিকে ধরে অনেকদূর ফেলে দিয়ে আসলাম।

তারপরদিন বিড়ালটি বাসায় এসে আবার হাজির। চলেই যখন এসেছে কিছু বললাম না। কিন্তু প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করার সেই অভ্যাস রয়েই গেলো। তাই আরেকদিন বস্তায় বেধে এক ট্রাকের পিছনে বিড়ালকে উঠিয়ে দিলাম। তারপর আর বিড়ালটি আসেনি। সেই থেকে আমাদের বাসায় বিড়ালের আগমন বন্ধ। এই ঘটনাটি আজ থেকে কমপক্ষে ২৫ বছর আগের কথা।

আজ রাতে স্বপ্নে দেখলাম আমার ঘরে দু'টি বিড়াল এসে হাজির। মিঁউ মিঁউ করে ডাকছে আর আমার পাশে ঘুর ঘুর করছে। দুটি বিড়ালই দেখতে একরকম। বিড়াল দু'টো কোনো উৎপাত করছে না বিধায় আমি তাদের দিকে মায়াময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। স্বপ্ন দেখতে দেখতে মনে হয় আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ একটি বিড়ালের মিঁউ মিঁউ চিৎকারে আবার ঘুম ভেঙে যায়। আমি বিড়ালটিকে খুঁজছি কিন্তু কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।

স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি বিড়ালের আর্তনাদ। বিড়ালটি নিশ্চয়ই কোনো বিপদে পড়েছে। আমি খাট থেকে নামলাম। বিড়ালের সন্ধানে ইতিউতি তাকাচ্ছি। আমার মনে হলো বিড়ালটি কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়েছে। তাকিয়ে দেখি একটি বড় কম্বলের নিচে বিড়ালটি। কম্বল থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। অপর বিড়ালটিকে দেখলাম স্বাধীনভাবে ঘরে ঘোরাফেরা করছে। বিপদে পড়া বিড়ালটিকে বাঁচাতে হবে। কম্বলটি একটানে সরিয়ে দিলাম। বিড়ালটি বের হয়ে আসল।

বিড়ালটির দিকে নজর দিলাম। কপালের মাঝখানে সামান্য রক্ত। চোখের কাছাকাছিও কিছুটা রক্ত দেখা যাচ্ছে। আমি ভাবছি বিড়ালটি কিভাবে আহত হলো। বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে বিড়ালটি আমার দিকে মায়াময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বিড়ালটিকে আমার আদর করে দিতে ইচ্ছে করলো। আমি বিড়ালের মাথায় আদর করে হাত বুলিয়ে দিলাম।

ওমা, বিড়ালটি হঠাৎ আমার ডানহাতের তর্জনীটা কামড়ে ধরল। প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম বিড়াল বুঝি কোনো কারণে রেগে আঙুল কামড়ে ধরেছে। যতটা ব্যথা পাওয়ার কথা বিড়ালের কামড়ে সেরকম ব্যথা পেলাম না। তারপরই স্বপ্নের সেই অদ্ভূত অংশ। বিড়ালটি আমার আঙুল কামড়ে ধরেই আমাকে টানতে লাগলো।

কী আশ্চর্য! বিড়ালটি আমাকে নিয়ে উড়ে চলেছে। আমিও বিড়ালের সাথে উড়ছি। উড়তে উড়তে সামান্য দূরে গিয়ে থামলো। একটি দেওয়ালের পাশে আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম। বিড়ালটি দেওয়ালের উপর। দেওয়ালের উপর তিনটি কলা রাখা। কলাগুলোর দুটোই আধ খাওয়া। আরেকটি কলা আস্ত আছে। বিড়ালটিকে আধ খাওয়া কলার খোসাটুকু ছিঁড়ে দিলাম। সুন্দর করে কলাটি খেলো। আবারও মিঁউ মিঁউ ডাক। অপর আধ খাওয়া কলাটিও খোসা ছাড়িয়ে দিলাম খেতে। এটি শেষ হলেই আস্ত কলাটি খেতে দেবো।

এর মধ্যেই ঘুম ভেঙে গেলো। মোবাইল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ভোর চারটা। আস্ত কলাটি আর খাওয়ানো হয়নি। বিড়াল কি কলা খায়? ঘুম ভাঙার পর অনেক্ষণ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলাম। অবচেতন মন থেকেই নাকি মানুষ স্বপ্ন দেখে। কিন্তু বিড়াল নিয়ে এই স্বপ্ন কেনো দেখলাম অনেক ভেবেও পাচ্ছি না।

আমি স্বপ্ন দেখলে ইদানীং মনে রাখতে পারি না। কিন্তু গত রাতে দেখা স্বপ্নটি সারা সকাল জুড়ে আমার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। তাই স্বপ্নের বিষয়টি শেয়ার করলাম। আসলে স্বপ্ন নিয়ে ভাবাভাবির কিছু নেই। কিন্তু তারপরও কেনো জানি স্বপ্নটিকে ভুলতে পারছি না, কারণ আমার তর্জনীতে দুইটি দাঁতের দাগ আছে। আমার মনে হয় স্বপ্ন দেখতে দেখতে আমি নিজেই আমার তর্জনীকে কামড়ে ধরেছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:০২
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×