somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এরশাদ বাদশা
জীবনের সব রঙিন মূহুর্তগুলো এখন শুধুই দুই এনজেল এর মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তারা হাসলে আমি হাসি..তাদের বিন্দুমাত্র কষ্টে ভীষন ব্যথিত হই.. ব্যস্ততা যদিও দেয়না অবসর..তবু এক আধ টুকরো অবসরের মুহুর্তগুলো রাঙিয়ে দেয় ওরা দুজন..দে আর মাই ওয়ার্ল্ড..দে আর মাই ডটার..দ

শিলা আহমেদ; 'এক অমিত সম্ভাবনার অকাল মৃত্যু'

১৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলুন একটু পেছন ফিরে দেখি। আপনারা হয়তো বিটিভির 'আজ রবিবার' নাটকটি দেখে থাকবেন। খুবই জনপ্রিয় হয়েছিলো সেই ধারাবাহিকটি। নাটকটির অন্যতম দুটি চরিত্রের নাম কংকা এবং তিতলি। কংকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলো, সেই নাটকেরই পরিচালক স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক, জনপ্রিয় নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ এর কন্যা শিলা আহমেদ।
আপনাদের কি মনে আছে সেই চঞ্চলা, মোহময়ী মেয়েটির কথা?
তার চপলতা, বাকপটুতা আর অভিনয়ে দারূন স্বাবলীলতার দরূন সেই নাটকটিই তাকে তারকা খ্যাতি এনে দেয়। সত্যি বলতে কি, নাটকটি যতোটা না আমাকে আকর্ষন করতো, তার চে' অনেক বেশি শিলার চেহারাটাই আমাকে টানতো। শুধু মনে হতো, এ মেয়েটি জন্মেইছে অভিনেত্রী হবার জন্য।
কিন্তু এরপর তাকে আর টিভিতে তেমন নিয়মিত দেখা গেলো না। বেশি দেখা যেতে লাগলো তিতলি চরিত্রে রূপদানকারী শাওনকে। যে কিনা ছিলো শিলারই বান্ধবী। তাও আবার তার বাবা হুমায়ূন আহমেদেরই নাটকে।
হুমায়ুন আহমেদের বেশিরভাগ প্রকাশিত বইয়ের স্বত্ব তখন তার স্ত্রী শিলার মা গুলতেকিন আহমেদের নামে। প্রচুর বই তিনি স্ত্রীর নামে উৎসর্গও করেছেন। স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি তার এই ভালোবাস আমাদের মুগ্ধ করতো।
হুমায়ুন আহমেদের প্রায় নাটকেই শাওনকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে পেতে লাগলো দর্শকরা। তার অভিনয় প্রতিভা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু একটা ব্যপার অনেকের মনেই প্রশ্নের উদ্রেক করতো। শাওন অন্য কোনো পরিচালকের নাটকে কেন সুযোগ পেতেন না।
আমি সহ অনেক তরুনের চোখ খুঁজে বেড়াতে লাগলো শিলা নামের সেই মোহময়ী মেয়েটিকে। শিলা যখন স্টার, তখন আমি টিনএজার। সবকিছুই ভালো লাগার বয়স। কিন্তু শিলার প্রতি ভালোলাগাটা অন্যরকম, অদ্ভুত। ওকে নিয়ে আমাদের সার্কেলে প্রায়ই আলোচনা হতো।
এরপর একদিন হঠাৎ করেই শুনতে পেলাম, হুমায়ূন আহমেদ শাওনকে বিয়ে করেছেন! খবরটা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই হতে চায়নি। প্রিয় লেখকের (উল্লেখ করা হয়নি যে, তিনি আমার অতি প্রিয় লেখক। কারণ, তার মতো সহজিয়া ভাষায় চমৎকার নাটকীয়তা সৃষ্টি করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়) দ্বারা এরকম একটি কাজ হতে পারে, এতো বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন। চরম ঘৃণায় হুমায়ূন আহমেদের উপর মনটা বিষিয়ে উঠলো। মেয়ের বয়সী, অন্যদিকে মেয়েরই বান্ধবীর সাথে এহেন কাজ করতে এতোটুকু বাধলোনা তার? শাওনের উদ্দেশ্য তো পরিষ্কার, হুমায়ূন আহমেদকে সিঁড়ি বানিয়ে উপরে উঠা। কিন্তু তিনি? লালসা কি এতোই সর্বভূক যে, তার মতো একজন দায়িত্বশীল মানুষও এর শিকার হতে পারেন?
বিয়ের পর তার কীর্তিগুলো আরো হাস্যকর (হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের জন্য বেদনাদায়ক)। তিনি তার সেন্মার্টিনের ‌বাড়ি 'সমুদ্র বিলাস' লিখে দিয়েছেন তার নতুন বউয়ের নামে। হয়তো অতি শীঘ্রই 'নুহাশ পল্লীও' লিখে দেবেন।
ইতিমধ্যে তার স্ত্রী গুলতেকিন তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আর আমাদের শিলা? বাবার উপর নিদারূন অভিমানে সে বিয়ে করে বসলো তার চে' দ্বিগুন বয়সী একজন কে। কিছুদিন পর আবার বিচ্ছেদও হয়ে গেলো। আমি জানি, সে এ কাজটা করেছে বাবার উপর প্রতিশোধ নেবার উদ্দেশে। নিজের জীবনটাকে সে নিজ হাতেই ধ্বংস করে দিলো। আর নেপথ্য নায়ক অবশ্যই তার বাবা হুমায়ূন আহমেদ।
ব্লগারদের মধ্যে অনেকেই হয়তো বলবেন, হুমায়ূন আহমেদের নিজের জীবন যাপনের অধিকার আছে। তা হয়তো আছে, কিন্তু তিনি যে একটি সম্ভাবনাকে খুন করলেন, একটি পরিবারকে ধ্বংস করলেন, সেটার দায় কি করে এড়াবেন তিনি?
প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক, কনক পুরুষ নামের অবিস্মরণীয় উপন্যাসের জনক, আলী মাহমেদ তার একটি বইতে হুমায়ূন আহমেদের এই ঘৃণ্য কাজটি নিয়ে লিখেছেন।
সবশেষে বলতে চাই, হুমায়ূন আহমেদ সাধারণ কোন মানুষ নন। যখন কেউ সেলিব্রেটি হয়ে যায়, তখন তার জীবনটা শুধুই তার থাকেনা। জনগনের কিছুটা অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় তাদের জীবনের উপর।
আর শিলা নামের সেই মেয়েটির জীবন ধ্বংস করার অপরাধে অবশ্যই আমি তাকে ঘৃণা করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১০ রাত ১২:৫৮
৫৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×