somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এরশাদ বাদশা
জীবনের সব রঙিন মূহুর্তগুলো এখন শুধুই দুই এনজেল এর মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তারা হাসলে আমি হাসি..তাদের বিন্দুমাত্র কষ্টে ভীষন ব্যথিত হই.. ব্যস্ততা যদিও দেয়না অবসর..তবু এক আধ টুকরো অবসরের মুহুর্তগুলো রাঙিয়ে দেয় ওরা দুজন..দে আর মাই ওয়ার্ল্ড..দে আর মাই ডটার..দ

স্বপ্নচোর-১৪ তম র্পব

১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্নচোর- ১৩ তম পর্ব


ব্যাংকে যে টাকা রেখেছিলো জয় অনেক আগে, গিয়ে দেখা গেল সেই টাকার পরিমাণ বেড়ে এখন দু’লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ওদের গ্রামে জমির মূল্য তেমন একটা বেশি নয়। অল্প টাকায় সেরকম জায়গা পাওয়া যাবে, ভাবল জয়। একইভাবে টিনচালার একটা বেড়ার ঘর তুলতেও তেমন একটা খরচ হবেনা। বাকী যা থাকবে তা দিয়ে মুরগীর ছোট্ট একটা ফার্ম খোলা যায়। টাকা শর্ট পরে গেলে নাহয় মারুফের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া যাবে। দারুণ প্রসাদ অনুভব করল জয়, জেবাকে ওর পরিকল্পনার কথা শোনালে ও নিশ্চয়ই খুশি হবে।

‘আমার জীবনে এই দিন আসবে, আমি কখনও ভাবিনি, এমনিতেই কিছু টাকা ব্যাংকে রেখেছিলাম’ জেবাকে বলল জয়, ‘আর সেই টাকা বেড়ে এখন দু’লাখ টাকা হয়েছে। জেবা, আমরা তো খুব সাধারণ একটা জীবন চাই, তাইনা? ছোট্ট একটা ঘর, আর ঘর ভর্তি ভালোবাসা।’
‘হ্যাঁ, আমাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য এই টাকাই যথেষ্ঠ জয়।’
‘তোমার কষ্ট হবে নাতো? তুমিতো সারাজীবন বিত্তের মাঝে বড় হয়েছো। গ্রামের সাধারণ জীবনে মানিয়ে নিতে পারবেতো?’
‘পারবো জয়, আমাকে পারতেই হবে।’
‘ঠিক আছে, তাহলে কালই আমরা বিয়ে করে ফেলবো। কয়েকদিন এখানে থাকবো, গ্রামে জায়গা দেখতে হবে। কাল ব্যাংক থেকে টাকা তুলবো, পরে সব ব্যবস্থা করা যাবে, কি বলো?’
‘হ্যাঁ।’ সায় দিলো জেবা।

ব্যাংক থেকে টাকাগুলো তুলে নিলো জয়। মনে খুশি, চোখে স্বপ্ন। প্রথমে জেবাকে নিয়ে কাজী অফিসে গিয়েই বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে। ওর জন্য একটা উপহার কেনা দরকার, কি কেনা যায়? ভেবে-চিন্তে বারোশো টাকা দিয়ে ওর জন্য একটা আংটি কিনল। এতে যদিও অনেক টাকা বেরিয়ে গেলো, তবু নতুন বউ হিসেবে ওকে একটা কিছু দেওয়া দরকার, ভাবল জয়।
‘তুমি খুশিতো জেবা?’ কাজী অফিস থেকে বেরিয়ে জিজ্ঞেস করল জয়, রিকশায় করে যাচ্ছে ওরা।
‘এতো খুশি আমার জীবনে কখনও আসেনি জয়।’ ওর অন্তরের গভীর থেকে যেন কথাগুলো বেরুলো, এমনই মনে হলো জয়ের।
‘জানো, মারুফ কি বলেছে আমাকে?’ বলল জয়, বন্ধু মারুফ সাক্ষী হয়েছে ওদের বিয়েতে।
‘কী?’
‘বলেছে, তোর জীবনে আবার আলো এসেছে, পূর্ণিমা রাতের আলোর চেয়ে হাজারগুন বেশি দীপ্যমান।’
জেবার দু’গাল লাল আপেলের আকার নিল, লজ্জা পেয়েছে।

রুমে গিয়ে দেখা গেল সারা ঘর ফুলে ফুলে ভরে আছে। বিছানার মাঝখানে ফুল দিয়ে হার্ট বানানো হয়েছে, আর তার মাঝখানে বড় বড় হরফে লেখা-‘‘বন্ধু মারুফ, তোর যুগল জীবনের শুভকামনায়।’’
‘দেখো পাগলটা কি করেছে।’ হেসে বলল জয়, মনে মনে দারুণ খুশি, মারুফ ওকে আসলেই ভালোবাসে, এটা উপলব্দি করে।
‘তোমার বন্ধু মোটেও পাগল নয়, বরং সে খুব সচেতন। আরে বুদ্ধু, বাসর রাতের বিছানা ফুল দিয়ে সাজাতে হয় সেটাও মনে নেই?’ হাসল জেবাও, সেও খুশি, এতো ফুল দেখে।
‘ঠিক আছে ম্যাডাম, এই ফুলশয্যাকে স্মরণীয় করতে তৈরী হোন, আমি একটু বাইরে যাচ্ছি হাওয়া খাওয়ার জন্য।’
‘দেখো, রাত আটটার আগেই ফিরবে। প্রথম রাত, প্রথম পরীক্ষা, দেরি করে আসা মানে ফেল করা। আর যদি ফেল করো তোমার কপালে খারাবী আছে বলে দিলাম।’
‘সে তোমাকে বলতে হবেনা।’ গলার স্বর নামিয়ে আবার বলল ‘ইচ্ছে তো করছে এখনই বাসর রাতটা সেরে ফেলি, জরুরী কাজ পরে আছে, এজন্যই যাচ্ছি।’
‘চুপ, অসভ্য কোথাকার!’ বলল জেবা, লজ্জায় লাজরাঙা হয়ে গেছে ওর দুটি গাল।
হাসল জয়, যেতে যেতে বলল ‘বাই হানি, সি ইউ টুনাইট।’
‘বাই।’

ঘড়ি দেখল জয়, সাতটা দশ। ফেরার তাগিদ অনুভব করলো ও, জেবা অপেক্ষা করছে ওর জন্য। বস্তিতে গিয়েছিলো, সেখানকার পাট চুকিয়ে এসছে। ভাড়া বাকী ছিলো, দিয়ে দিয়েছে। বস্তির কর্তা কাশেম জিজ্ঞেস করেছিলো-‘কি ব্যাপার, ঘর ছেড়ে দিচ্ছো?’
‘এতোদিন পর আমার নিজের ঘর হতে যাচ্ছে কাশেম ভাই, আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি।’
‘আল্লাহ তোমাকে সুখী করুক জয়।’
ওখান থেকে সোজা ফখরুদ্দিনের দোকানে। জয় যখন বললো ও বিয়ে করতে যাচ্ছে, সত্যি সত্যি ফখরুদ্দিন কষ্ট পেলো। সে তখনও পর্যন্ত আশায় ছিলো, জয় ওর মেয়েকে বিয়ে করবে। ওর মন খারাপ হয়ে গেলো ফখরুদ্দিনের চেহারা দেখে। বললো-‘আসলে আমি হঠাৎ করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর যাকে আমি বিয়ে করছি, সে আমার....., মনের মানুষ।’
‘বুঝতে পেরেছি।’ গম্ভীর গলায় বলল ফখরুদ্দিন।
‘সখিনার বিয়ে ঠিক হয়ে গেলে আমাকে খবর দিবেন, আমি অবশ্যই আসব।’
কিছু বললনা ফখরুদ্দিন, জয়ের মনে হলো ওখানে থাকা আর ঠিক হচ্ছেনা ওর, চলে এলো।
তারপর ষ্টেশনরোড, প্রীতমকে ওখানেই পাওয়া গেলো।
‘কি!, বদ্দা, তুঁই বিয়ে গইরতে লাইগ্যো?’ (কি! ভাইয়া, তুমি বিয়ে করছো?’)
‘হ্যাঁ, শুধু তাই না, আমরা গ্রামেও চলে যাচ্ছি, সেখানেই থাকবো, তোর খুশি লাগছেনা?’
এরপর ওকে অবাক করে দিয়ে কাঁদতে লাগলো প্রীতম, ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল- ‘আঁই খুশি অই বদ্দা, খুশি অই। নইতাম কা, এক গরছাড়ার গর অর, ইতারতন বেশি খুশির হতা আর কি অইত ফারে।’ (আমি খুশি হয়েছি ভাইয়া, খুশি হয়েছি। হবোনা কেন, এক ঘরছাড়ার ঘর হচ্ছে, এরচে বেশি খুশির কথা আর কি হতে পারে।)
ওকে জড়িয়ে ধরলো জয়, ওর পিঠে হাত বুলাতে লাগলো, বললো-‘কাঁদিসনা, তোর কান্না আমাকে কষ্ট দেয়। তুই ভাবিসনা, আমি তোর সাথে যোগাযোগ রাখব।’
প্রীতমের কান্নার কারণ বুঝতে পারে জয়, ছেলেটা হয়তো ভাবছে, এরপর ওকে হয়তো ভুলে যাবে সে। ‘তোকে আমি কখনও ভুলবনারে, কখনও ভুলবনা। গ্রামে গিয়ে তো আমি ফার্ম দিবো, সেখানে তো একটা ছেলে লাগবেই। তোকে নিয়ে যাবো। দুজনে মিলে ফার্মটা দাঁড় করাব, আজ এই ঘরছাড়ার ঘর হতে যাচ্ছে, তোকে কি করে পর করি, ভাই’ মনে মনে বললো জয়।

চলবে......

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৩:৫৮
১৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×