সিংগাপুরে কেমন আছেন আমাদের দেশী অবৈধ অভিবাসীরাঃ
আমার চিকিতসা শেষে ৭ তারিখ দুপুর ২ টায় হসপিটাল থেকে রিলিজ করে। আমার বৌ, ছেলে থাকে হসপিটাল থেকে বেশ কাছেই গেলাং, হোটেল রুবী-তে। হোটেল রূবী টু স্টার হোটেল। আমাদের পুরবানীর চাইতে ভালো স্টান্ডারড। ওরা আমার জন্য অপেক্ষায় ছিল, আমি ওদের সাথে হোটেলে চলে যাই। এক নাগারে ৩ ঘন্টা ঘুমাই। রাতে আমার বন্ধু ইয়াসমীন সুলতান (সিংগাপুরস্থ্য আমাদের দুতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি) এর বাসায় ডীনারের দাওয়াত। সন্ধ্যা হবার পুরবেই ইয়াসমীন গাড়ী নিয়ে হাজির। আমরা ওর সাথে ওর বাড়ী যাই। ডীনার করে হোটেলে ফিরে আসার সময় কিছু সময়ের জন্য পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাই সিঙ্গাপুরের সুবিখ্যাত ‘মোস্তফা সেন্টার’। ‘মোস্তফা সেন্টার’ ছোট্ট একটা বাংলাদেশ! যখোন ফিরে আসছিলাম-তখোন বেশ রাত। আমাদের সাথে আমার বন্ধু ইয়াসমীন, তাঁর এক মাত্র কন্যা। ইয়াসমীন ড্রাইভ করছিল। ইয়সমীন আমার বউকে বল্লো-“ভাবী, চলেন সিংগাপুর বসে ঢাকার রাতের কমলাপুর দেখিয়ে নিয়ে আসি”! ১০/১২ মিনিট ড্রাইভ করে একটা আলো-আধারী পারকের কাছে গাড়ী থামালো। গাড়ীর হেড লাইট জ্বেলে রেখেই ইমারজেন্সী লাইট জ্বালাতেই অনেকগুলো মানুষ দৌড় দিয়ে ছুটে যেতে দেখি। আমরা ইয়াসমীনের পিছু নিলাম।
ইয়াসমীন একটু বড় গলা করে বল্ল-“ভয় নাই, আমি তোমাদের ইয়াসমীন আপা”। অম্নি সবাই ওর কাছে চলে আসলো! সবাই জানতে চাইলো-“আপা, পুলিশ রেইড হবে নাকি”? ইয়াসমীন অভয় দিয়ে বল্লো-“ভয় নেই, তোমরা কেমন আছো দেখতে এলাম”! আমরা দেখলাম- কয়েক জন নয়, শত শত বাংলাদেশী মানুষ মাথার নীচে একটা ব্যাগ/পুটুলী রেখে শুয়ে আছে!কেউ বসে আছে। এটাই রাতে ওদের থাকার যায়গা! যেনো রাতের বেলা কমলাপুর রেল স্টেশনে ঘুমিয়ে আছে শত শত ভুখা নাঙ্গা ঘরহীন মানুষ! এরা সবাই অবৈধ ভাবে সিংগাপুর থাকছে। দিনের বেলা লুকিয়ে টুকটাক কাজ করে ক্ষুন্নিবৃত্তি করছে মাত্র! কেঊ এসেছে সেচ্ছায়, কেউ দালালের খপ্পরে পরে!কেঊ এখানে আছে কয়েক বছর, কেউ কয়েক মাস কিম্বা কয়েক দিন যাবত। ইয়াসমীনকে এরা সবাই চিনে-তাদের “সুরিদ, বিপদের বন্ধু” হিসাবে। ইয়াসমীন দুতাবাসের অনেক বড় করমকরতা-কিন্তু তাঁর কিছুই করার ক্ষমতা নেই এই সব ভাসমান করমহীন শিক্ষিত বেকার মানুষ গুলোর জন্য।এখানকার ভাসমান মানুষগুলোর মধ্যে এমন একটা মানুষ নেই-যে কিনা এস এস সি পাশের কম বরঙ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রীধারীই বেশী! সিংগাপুর সরকার, পুলিশ এই সব অবৈধ অভিবাসীদের কথা জানে, দেখে, মাঝে মধ্যে ধরে জেলে পুরে, বেত্রাঘাত করে-তারপরও বড় কোনো ক্রাইম না করলে দেশ ত্যাগে বাধ্য করায়না-ওদের প্রচুর জনশক্তির প্রয়োজন বলে। সিংগাপুরে অনেক দক্ষ্য বিদেশী শ্রমিকের প্রয়োজন-আমাদের আছে সেই শ্রম শক্তি। নেই শুধু রাস্ট্রীয় পরযায় বাইলাট্রেল আলোচনার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে শ্রম শক্তি রপ্তানী করার যোগ্য মানুষ!
এদের কথা ভেবে কি হবে-আমাদের দেশেইতো এখন মানুষের না আছে জীবনের কাজ, না আছে জীবিকার কাজ। চারিদিকে শুধু হতাশা! কেবল জীবিকার কাজ হলেইতো চলেনা-জীবনেরও কাজ চাই। আল্লাহ’র শ্রেসঠ জীব ‘আসরাফুল মাকলুকাত’ আজ শেয়াল কুকুরের মত বনে জংগলে থাকছে, নাখেয়ে মারা যাচ্ছে আর ‘রাস্ট্রীয় নীরো’রা বাঁশী বাজাচ্ছে! মানুষের প্রয়োজন সেই করতব্য যা তাকে টেনে নেবে, মগ্ন করবে, সন্ধান দেবে রাজপথের-যেখান থেকে ছিনিয়ে আনবে স্বাধীকার। ছিনিয়ে আনবে আকাশের চাঁদ, সেচে তুলবে সাগর থেকে মানিক। মানুষ যেখানে অরজনের আনন্দে বুক ফুলিয়ে কথা বলবে, মানুষের মতো বাচঁবে।
দুঃখ একটাই, এদেশে প্রবীনেরা এমন কোনো কাজ, এমন কোনো আদরশ তুলে ধরতে পারেনি-যা দেখে নবীণরা উদবুদ্ধ হবে! আমাদের এমন কোনো প্রতিসঠান নেই যা দেখে-যুবকরা শ্রদ্ধা না হয় পরে হবে-অন্ততঃ আস্থা টুকু অরজন করতে পারে!
আমাদের সমাজে, আমাদের দেশে একজন কামাল আতাতুরক, একজন লী কুয়ান কিম্বা একজন মহাথীর কবে জন্ম নিবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


