somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্ধ হতে চলেছি...

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি প্রায়ই ভাবতাম আমার স্বামী আমাকে একদিন মারতে মারতে মেরেই ফেলবে এবং সেটিই হবে আমার মুক্তির দিন।চিরমুক্তি। কিন্তু তার আগেই আমাকেযে এভাবে পঙ্গু করে ফেলবে এটা ভাবিনি। অন্তত ডাক্তারের বাড়তি বিল এড়াতে সে আমাকে মেরে অসুস্থ বানানো থেকে বিরত থাকবে বলেই ভেবেছিলাম; কিন্তু না, গত ২দিন আগে বুধবার রাতে সে আমার চোখেমুখে আঘাত করে। চোখের আঘাতটা মারাত্মক! কীযে প্রচণ্ড যন্ত্রণা! আমি কাতরাচ্ছি আর সে বলে থামো! নাটক বন্ধ করো। দিশা না পেয়ে পাশের বাসার ভাইয়াকে ডাকি, সে ওর উপর চরম গরম নেয়, আমার হাতে ফোন দিয়া বলে তোমার ভাইরে ফোন দেও, বদমাইশটারে এখনই সাইজ করে যাক।
আমি কোনও উপায় পাচ্ছিলাম না, দিলাম ভাইয়াকে ফোন!....
রাতে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আরও কয়েবার ফোনে ভাইয়াকে রিকোয়েস্ট করি আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। ভাইয়া বলে সে এতো রাতে কীভাবে আসবে? আমি বলি তাহলে যেন খুব ভোরে ভোরে চলে আসে।
কিন্তু সে রাতেই আসে, কোনও কারণে আমার বাসায় না এসে সাড়ে এগারোতে আমার এক কাজিনের বাসায় থাকে। কাজিনের হাজবেন্ড দারোগা সাহেবসহ আরও কিছু আত্মীয়-স্বজনমিলে সিদ্ধান্ত নেয় কী করা যায়।
আমাকে বলে আমি তাদের কথামত সব করতে রাজি কি না, এবং শেষে স্বামীর পক্ষ নিয়ে তাদের অপমান করবো কি না,....
তারা তাদের বুদ্ধিজীবি রাজনীতি করতে থাকে আর আমি মাথার যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকি।
আমার স্বামীর মনে একটু দয়া হলো, সে হাতপাখা দিয়ে আমাকে বাতাস দেয়। হঠাৎ লোডশেডিং শুরু হয়। পাশের বাসার ভাইয়া তার চার্জার ফ্যানটা এনে দেয়, সেটাতে কাজ হচ্ছিল না। ও বাতাসকরে আর গামছা ভিজিয়ে বরফের টুকরো চোখে মুখে লাগিয়ে দিলে একটু শান্তি পাই। কিন্তু যন্ত্রণা ছিল চলমান।
সকালে দশটার দিকে ছোটভাইয়া আর আমার ডেন্টিস্ট কাজিন আসে। মোবাইলে ছবি তুলে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে অষুধ কিনে আনে আর আনে একপ্যাক কাচ্চি বিরিয়ানী।
আর বাবুর হাতে দিয়ে যায় ১৭০টাকা এবং বলে আমার হাতে টাকা নাই।...
অষুধ খাওয়ার পর (ডাইক্লোফেন এস.আর ১০০) একটু সুস্থবোধ করি। কিন্তু পরদিন আবার ব্যাথা শুরু হয়।
এরমধ্যে আমার স্বামীর মাথা ঠাণ্ডা হয়, আমার কাছে ক্ষমা চায়, বরাবরের মতো। এমনকি আমার পা ধরে কান্নাকাটি করে। বলে আমাকে তুমি যা শাস্তি ইচ্ছা দেও, তবু চারটা ভাত খাও।..
আমি সারাদিন না খাওয়া একটা মানুষকে এমনভাবে মারলাম বলে তার সেকি কান্না!.....

পরদিন আমার বাড়ির রোক আসছে, তারা ওকে কী বলে না বলে এইভেবে আমিই ওকে গা ঢাকা দিতে বলি। কিন্তু ছোটভাইয়া আর কাজিন এলেও মুরুব্বিটাইপের ওরা কেউ এলো না।মো ফোনে ওকে নানান গালিগালাজ করে। ওও সমানে চালায়। বলে মেয়ের জন্য দরদ থাকলে এভাবে পরেরকাছে রেখে মাইর খাওয়াতেন না,
মা বলে- তুই পাওয়ার জন্য মারিস! তোরে চারআনারও কিছু দেবো না।
ও বলে তোর মাইয়ারে আমি মারতে মারতে মেরে ফেলবো।
এবং তার পর থেকে ও আবার আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। রাতে আমি একজন সাইকয়াট্রিস্ট এর সাথে কথা বলি ওর মাথার চিকিৎসার ব্যাপারে। ও শুনে খুব খুশি্ বলে আমি আসলে ভণ্ড পাগল! তবে মাথায় রাগটা আসলেও বেশি। তবে সেটা তোর মায়ের কারণে বেশি!...
মায়ের সাথে কয়েকবার ফোনে ঝগড়া- উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় এবং তার ঝাল তোলে আমার উপর দিয়ে। আমি ডাক্তার কাছে যেতে চাইলে বলে ক্যান তোর কতো বাপেরা আছেনা? তাাদের বল নিতে,
আমিতো নিতে চাইছিলাম, তুই তাদের ফোন করলি ক্যান? কী লাভ হলো? তার কেউ আসছে? একজন এসে আবার আসবে বলে তারও খবর নাই! সব দরদ আমার একলার হবে কেন? আমি মারছি আমি ডাক্তার দেখাবো , তাদেরকে তুই ডাকতে গেলি কেন?....
গতকাল শুক্রবার ও বাসা থেকে বেরুনোর পর আমার কাজিনের সাথে আমি বাড়ি চলে আসি...
চোখের অবস্থা ভালো কি মন্দ বুঝি না।
ব্যাথা নাই, তবে চুলকায় আর ঝাপসা দেখি। মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকলে পানি ঝরে আরাম লাগে। জিরিয়ে জিরিয়ে লিখি।
ভাবি এতে হয়ত কিছু হবে। কতজন আশ্বাস দিল ! কিছূই করল না। সরোয়ার নামের একজনের সাথে ফোনে কথা হলো, সে অনেক উপদেশ বাক্য দিল(ব্লগের পাবলিক) কাজের কিছুই করল না।... আরও যারা ফোনে কথা বলল তারাও...
এসব অবিশ্বাসী আর নরপশু স্বার্থপর মানুষদের মুখ দেখার চে আমি যদি অন্ধ হয়ে যাই সেটাই হয়ত ভালো।...
তবে কথাটা বলতে বুকটা কেমন কেঁপে ওঠে, হে পৃথিবী তুমি যতই কুৎসিৎ হও আমার চোখটা তুমি কেড়ে নিও না।... আমি দেখতে চাই এখানকার মানুষ আরও কতো নিষ্ঠুর হতে পারে।....
ও বলে প্রেমিকের জন্য মানুস কত কীই করে.. তুমি না হয় তোমার ভালোবাসার স্বামীর জন্য একটা চোখই দিয়ে দিলে...
ও অনেক সান্ত্বনা দেয় কিন্তু আমার মন মানে না।
প্লিজ! একটু দোয়া করুন!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৩
২২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×