কনফিউসন
রায়হান
http://shodalap.com/R_confusion2.htm
মুসলিমদের বিশ্বাসের মধ্যে কোনরকম ‘কনফিউসন’ নেই বা থাকা উচিতও নয়। কারণ তারা এই মহাবিশ্বের একজন অদৃশ্য ক্রিয়েটরে বিশ্বাস করে। কোরআন অনুযায়ী তাঁর নাম আল্লাহ্। এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর যদি সত্যি সত্যি থেকে থাকেন, ‘থেকে থাকেন’ মানে থাকতেই হবে, সেক্ষেত্রে তাঁকে সাদা চোখে বা টেলিস্কোপে না দেখতে পাওয়াটাই স্বাভাবিক! যাহা কিছু সাদা চোখে বা টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা যায় তাহা যে এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর হতে পারে না, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ কিছু গডকে সাদা চোখে দেখেও অনেকেই তাদেরকে এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর হিসেবে মেনে নিতে পারে না! ফলে নাস্তিকদের তথাকথিত ‘এভিডেন্স’ কিন্তু একদমই মাঠে মারা যাচ্ছে। কারণ চোখের সামনে ‘সলিড এভিডেন্স’ থাকা সত্ত্বেও তারা প্রায়শই একটি বুলি আউড়ায় এই বলে যে, গডের অস্তিত্বের স্বপক্ষে সামান্যতমও কোন এভিডেন্স নেই! সেই সাথে মুসলিমদেরকে অন্ধবিশ্বাসী ও ডেলিউডেড বলে বিভিন্নভাবে হেয় করারও চেষ্টা করা হয়, যেহেতু মুসলিমরা এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরকে না দেখেই বিশ্বাস করে! অন্যদিকে কিছু কিছু ধর্মাবলম্বীরা যেহেতু গডকে স্বচক্ষে দেখেই তবে বিশ্বাস করে সেহেতু তারা কোনভাবেই অন্ধবিশ্বাসী বা ডেলিউডেড হতে পারে না! নাস্তিকরা আবার সেই সকল গডকে স্বচক্ষে দেখেও বিশ্বাস না করে গডের অস্তিত্বের স্বপক্ষে নতুন করে ‘এভিডেন্স’ চায়! তাহলে কে বা কারা প্রকৃত ডেলিউডেড সেটা কিন্তু সহজেই অনুমেয়! যাহোক, স্বচক্ষে দেখেও যে গডকে আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারে না, সেই ধরণের গডে মুসলিমরাও বিশ্বাস করে না। নো কনফিউসন!
অনুরূপভাবে, ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী ইসলাম হচ্ছে এই পৃথিবীর বুকে একমাত্র ধর্ম (৫:৩, ৩:১৯, ৩:৮৩-৮৫)। মুসলিমরা সেই একমাত্র ধর্মেই বিশ্বাস করে। অতএব নো কনফিউসন! কেউ যদি ধর্মগ্রন্থ দিয়ে প্রমাণ দেখাতে পারে যে, ইসলাম ছাড়াও অন্য কোন ধর্ম আছে সেক্ষেত্রে মুসলিমরা সেই ধর্মকে অতীব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। কারণ মুসলিমরা যেমন সত্যের পূজারী তেমনি আবার তারা অন্ধবিশ্বাসী বা ডগম্যাটিকও নয়। তারা এমন কিছুকে ধর্মের নামে বিশ্বাস করে না, যার অস্তিত্ব তাদের ধর্মগ্রন্থেই নেই! এমনকি তারা এমন কিছুতে বিশ্বাস করে না, যা সকল প্রকার লজিক, রাশনালিটি, ও কমনসেন্সের ঊর্ধ্বে। যেমন :
- কিছু মানুষকে গড তথা এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। কিন্তু যাঁদেরকে গড হিসেবে বিশ্বাস করা হয় তাঁরা নিদেনপক্ষে নিজেদেরকে গড হিসেবে দাবি করেছেন কি-না - তার ঐতিহাসিক কোন প্রমাণ নাই। নাস্তিকরা আবার সেই গডদেরকে স্বচক্ষে দেখেও বিশ্বাস না করে নতুন করে ‘এভিডেন্স’ চায়! সিরিয়াস কনফিউসন!
- এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর তাঁরই সৃষ্ট নারীর গর্ভে ধীরে ধীরে বড় হয়ে মানুষের মত করে একদিন জন্ম নিয়েছেন - তারপর আবার মারাও গেছেন! সিরিয়াস কনফিউসন! এমন কাউকে এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর হিসেবে কমনসেন্স মেনে নিতে পারে না।
- ফাদার একজন গড, সান একজন গড, এবং হলিঘোষ্ট একজন গড; কিন্তু তিনজন আলাদা গড নয়, একজন গড! এখানেও কনফিউসন! এমন এয়াবসার্ড কিছুকে কমনসেন্স মেনে নিতে পারে না।
- এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর তোমাদের পাপের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন - অর্থাৎ মারা গেছেন (প্রকৃতপক্ষে হত্যা করা হয়েছে)! সিরিয়াস কনফিউসন! কমনসেন্স মেনে নিতে পারে না।
- প্রত্যেক শিশু পাপ বা অভিশাপের বোঝা মাথায় নিয়ে জন্মগ্রহণ করে! কনফিউসন! এমন ইরাশনাল ও অমানবিক কিছুকে কমনসেন্স মেনে নিতে পারে না।
- একজন মানুষের মৃত্যুর পর শাস্তিস্বরূপ তার আত্মা অন্য কোন জীব বা উদ্ভিদের দেহে স্থানান্তরিত হয়! কনফিউসন! কমনসেন্স মেনে নিতে পারে না।
- এই মহাবিশ্ব পুরোটাই গড (প্যানথিইজম)! অর্থাৎ এই মহাবিশ্বে এমন কিছু নাই, যা কি-না গড বা গডের অঙ্গ নয়! যেমন : হিটলার একজন গড বা গডের অঙ্গ! স্ট্যালিন একজন গড বা গডের অঙ্গ! বিন লাদেন একজন গড বা গডের অঙ্গ! রেপিস্ট, টেররিষ্ট, ও সুইসাইড বোম্বাররা একেকজন গড বা গডের অঙ্গ! টয়লেট একজন গড বা গডের অঙ্গ! চন্দ্র একজন গড বা গডের অঙ্গ! সূর্য একজন গড বা গডের অঙ্গ! পৃথিবী একজন গড বা গডের অঙ্গ! ইত্যাদি! ইত্যাদি! ইত্যাদি! অর্থাৎ সবকিছুই গড! ওহ্ মাই গড! আমি নিজেও একজন গড বা গডের অঙ্গ! আমাকে তাহলে ওয়ার্শিপ করা হয় না কেন! হিটলার, স্ট্যালিন, পল পট, বিন লাদেন, রেপিস্ট, টেররিষ্ট, ও সুইসাইড বোম্বারদেরকেই বা ওয়ার্শিপ করা হয় না কেন? তা না করে উল্টোদিকে তাদেরকে কনডেম করা হচ্ছে কেন? তাদেরকে কনডেম করা মানে কি স্বয়ং গডকে কনডেম করা নয়? ওহ্ মাই গস! সবকিছুই যদি গড বা গডের অঙ্গ হয় তাহলে হিটলার ও গান্ধির মধ্যে পার্থক্য কোথায়!?! কে ভাল আর কে মন্দ? কে অপরাধী আর কে নিরপরাধী? কে কাকে অপরাধের জন্য শাস্তি দেবে? কে কাকে কনডেম করবে? কে কাকে ওয়ার্শিপ করবে? মনে হচ্ছে গড নিজের অপরাধের শাস্তি নিজেকেই দিচ্ছেন! নিজেই নিজেকে ওয়ার্শিপ করেন! সিরিয়াস কনফিউসন! এমন ইল্লজিক্যাল, ইরাশনাল, ও এয়াবসার্ড কিছুকে কমনসেন্স মেনে নিতে পারে না।
- ধর্মগ্রন্থ কাভার-টু-কাভার এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরের বাণী নয়, কিছু অংশ হলে হতেও পারে! কনফিউসন! কারণ এই ধরণের ধর্মগ্রন্থে কোন যুক্তিবাদী মানুষ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে পারবে না।
- ইস্রাইলের গডে বিশ্বাস না করলে ছোট-বড়-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে হত্যা করতে হবে (2 Chronicles 15:13)! সিরিয়াস কনফিউসন!
- ধর্ষক অবশ্যই ধর্ষিতা নারীকে বিয়ে করবে এবং তার সাথে সারাজীবন থাকতে হবে (Deuteronomy 22:28-29, NIV)! সিরিয়াস কনফিউসন!
- মৃত স্বামীর আত্মাকে ‘সম্মান’ বা ‘অনার’ করার জন্য একদম নিরপরাধ ও জীবন্ত ওয়াইফকে মৃত স্বামীর সাথে আগুনে পুড়ে মরতে হবে! সিরিয়াস কনফিউসন!
এরকম আরো ডজন ডজন উদাহরণ দেওয়া সম্ভব। তবে কী বুঝাতে চাওয়া হচ্ছে সেটা যুক্তিবাদী পাঠক ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন নিশ্চয়। এই ধরণের ইল্লজিক্যাল, ইরাশনাল, অমানবিক, অবাস্তব, ও কমনসেন্স বহির্ভূত বিশ্বাস, ডকট্রাইন, ও টিচিংকে মেনে নিতে না পেরে অন্যান্য ধর্মের উচ্চ শিক্ষিত কিছু গ্রুপ ইসলাম ও মুসলিমদের উপর একদম মরণকামড় বসিয়েছে। এরা সত্যকে মেনে নিতে ভয় পায়। এদেরকে কে বুঝাবে যে, এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরের বাণী তথা কোরআন হচ্ছে মুসলিমদের বিশ্বাসের ভিত্তি। ফলে ইসলামের চেয়ে বেশী লজিক্যাল, রাশনাল, মানবিক, বৈজ্ঞানিক, বাস্তবিক, ও সুপিরিয়র কিছু কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারবে না। ওয়েল, কোন এক সাইডে কোরআনের চেয়ে ইমপ্রুভ করতে চাইলে অন্য সাইডে ধ্বস নামতে বাধ্য! কিন্তু এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরের বাণী হচ্ছে ব্যালান্সড ও জাস্ট।
"Do they say: There is madness in him? Nay, he has brought them the Truth, but most of them hate the Truth." (Quran 23:70)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



