ক্রিয়েটরের অস্তিত্বের স্বপক্ষে তিনটি স্বতন্ত্র প্রমাণ
http://www.shodalap.com/R_creator.htm
রায়হান
"Atheists are fool. They are corrupt, they have done abominable works, there is none that doeth good. They are filthy: there is none that doeth good, no, not one." (Psalms 14:1-3)
প্রফেসর রিচার্ড ডকিন্স সম্ভবত সমসাময়িক সময়ের সবচেয়ে বড় নাস্তিক। যদিও কেনিয়ান বংশদ্ভুত তথাপি সাদা চামড়ার বৃটিশ ও অক্সফোর্ড প্রফেসর হওয়ার কারণে অনেকেই তাঁর বাণীকে গডের বাণীর মতই বিশ্বাস করে! তাঁর সবগুলো লেকচার ও ইন্টারভিউ শুনেছি। এমনকি একাধিকবারও শুনেছি। এখন পর্যন্তও কোরআন থেকে সরাসরি দু-একটি ভার্স কোট করে তাঁর কোন সমালোচনা নজরে পড়েনি, যদিও কোরআন হচ্ছে ইসলামের ভিত্তি। ইসলাম বলতে উনি মূলতঃ ৯-১১, টেররিজম, সুইসাইড বোম্বিং, ও নারীদের ভেইল ছাড়া অন্য কিছু বোঝেন বলে মনে হয়নি! এটি কি কোন যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক ওয়ে হতে পারে? মিডিয়া যে কীভাবে মানুষকে ব্রেনওয়াশ করতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ হচ্ছে প্রফেসর ডকিন্স, স্যাম হারিস, ও ক্রিস্টোফার হিচেন্সের মত বড় বড় কিছু ‘যুক্তিবাদী’ নাস্তিক। আর এই যদি হয় অক্সফোর্ড প্রফেসর ডকিন্স, স্যাম হারিস, ও ক্রিস্টোফার হিচেন্সের মত লোকজনের অবস্থা তাহলে টম-ডিক-হ্যারি, যদু-মদু-কদু, আবু-বাবু-লাবু, আকাশ-বাতাস-মালিক, ও কাজল-নয়ন’দের অবস্থা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটা বোঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়ার দরকার নাই নিশ্চয়!
"Despite the fact that Muslims comprise one-fourth to one-fifth of the world's population, non-Muslim media smears Islam with such horrible slanders that few non-Muslims view the religion in a positive light." (Dr. Laurence B. Brown)
যাহোক, প্রফেসর ডকিন্স কিন্তু সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। তাঁর প্রত্যেকটি কথা ও যুক্তি মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করেছি। তাঁর যুক্তিকে ইসলামের থিয়লজি ও কোরআনের সাথে তুলনা করে এবং সেই সাথে নিজের বিচার-বুদ্ধি ও কমনসেন্স দিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে লোকটার প্রতি বেশ করুণাই হয়েছে! তাঁর ক্যালিবারের একজন মানুষও যে কীভাবে যীশুখ্রিস্ট (এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর!) ও বাইবেলের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছেন, সেটা যাদের ইসলামের থিয়লজি ও কোরআন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আছে তারা ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না। মুসলিম ও ইহুদি কিডদের কাছে যিনি একজন মানুষ, খ্রিস্টানদের কাছে তিনিই হচ্ছেন এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর! সেই ক্রিয়েটর নাকি আবার অন্যের পাপের জন্য মারাও গেছেন! এটি হচ্ছে তাদের একদম মৌলিক বিশ্বাস। এই বিশ্বাস ছাড়া তাদের ধর্মের কোন অস্তিত্বই নেই। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও টেকনোলজিতে উন্নতি করে লাভটা তাহলে কী হল! একেই কি বলে এনলাইটমেন্ট!
"The irrational, the faithless, and the disbeliever perishes. There is neither this world, nor the world beyond, nor happiness for the disbeliever." (Gita 4:40)
নিদেনপক্ষে তিনটি স্বতন্ত্র তত্ত্ব বা সলিড এভিডেন্সের উপর ভিত্তি করে মুসলিমরা তাদের নিজেদের বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে এই মহাবিশ্বের একজন সুপ্রিম ক্রিয়েটরে বিশ্বাস করে :
১) মহাশূন্য, গ্যালাক্সি, গ্রহ-নক্ষত্র, ও লিভিং স্পেসিজ তথা প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগত সহ এই ন্যাচারাল মহাবিশ্ব এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে না। একদমই অসম্ভব। শূন্য থেকে তো দূরে থাক, এমনকি সবকিছু ব্যবহার করেও এই মহাবিশ্ব তো দূরে থাক, তার মত ছোট-খাটো একটি মডেলও কেউ তৈরী করে দেখাতে পারবে না। অথচ (অপ)বিজ্ঞানের নামে আমজনতাকে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করা হয়। নাস্তিকরা নিদেনপক্ষে এই মহাবিশ্বের ছোট-খাটো একটি মডেল তৈরী করে দেখাতে পারলেও শুরু করার মত তাদের একটা পয়েন্ট থাকতে পারতো, যদিও তাতে প্রমাণ হবে না যে এই মহাবিশ্বের কোন ক্রিয়েটর নেই! কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সেটাও তারা পারবে না। ফলে যারা বিশ্বাস করে যে, তারা নিজেরা সহ এই ন্যাচারাল মহাবিশ্ব এমনি এমনি বিবর্তিত (?) হয়েছে, তারাই হচ্ছে প্রকৃত অন্ধ বিশ্বাসী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এই ধরণের অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারের আসলে কোন তুলনাই হয় না। এর চেয়ে বরং প্যাগান ও গ্রীক মিথলজিতে বিশ্বাস অনেক বেশী লজিক্যাল ও রাশনাল! এই ধরণের অন্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাসকে আবার প্রগ্রেসিভ, মানবিক, ও বৈজ্ঞানিক বলে (অপ)প্রচার চালানো হচ্ছে। যারা হিটলার-স্ট্যালিন-টেররিষ্ট ও তাদের ভিকটিমদের ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে না তারাই নাকি আবার প্রগ্রেসিভ, মানবিক, ও বিজ্ঞানমনস্ক! খাইছে রে! এ আবার কোন্ কলির যুগ! যাহোক, প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগত সহ এই ন্যাচারাল মহাবিশ্ব যেহেতু আছে সেহেতু তার একজন ক্রিয়েটর থাকতেই হবে। এটি একটি সলিড এভিডেন্স বা অবজেক্টিভ যুক্তি।
২) আব্রাহাম, মোজেস, যীশুখ্রিস্ট, ও মুহাম্মদ (Peace be upon them) সহ অনেক গ্রেট হিউম্যান নিজেদেরকে প্রফেট তথা এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরের মেসেঞ্জার বলে দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি থেকে দুটি উপসংহার ড্র্য করা যেতে পারে : (ক) তাঁরা সবাই মিথ্যেবাদী ও প্রতারক ছিলেন, যেটা বিশ্বাস করা প্রায় অসম্ভব। বরঞ্চ তাঁদের সবাইকে মিথ্যেবাদী ও প্রতারক হিসেবে বিশ্বাস করাটাই হচ্ছে একটি মহা অন্ধ বিশ্বাস ও আত্মপ্রতারণা। (খ) তাঁদের মধ্যে একজনও যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এই মহাবিশ্বের যে একজন সুপ্রিম ক্রিয়েটর আছে, তাতে সংশয়-সন্দেহের কোনই অবকাশ নেই। মুসলিমরা যেহেতু তাঁদের কাউকেই মিথ্যেবাদী বা প্রতারক হিসেবে বিশ্বাস করে না, কোরআনের আলোকে এমন বিশ্বাসের পেছনে কোন যৌক্তিকতাও নেই, সেহেতু তাদের (মুসলিমদের) কাছে এটি একটি সলিড এভিডেন্স বা এয়াবসলিউট ট্রুথ। এমনকি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও এটি একটি সলিড এভিডেন্স বা এয়াবসলিউট ট্রুথ।
৩) কোরআন যে কোন মানুষের নিজস্ব বাণী হতে পারে না, তার স্বপক্ষে ইতোমধ্যে বেশ কিছু যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। লম্পটের মত প্রফেট মুহাম্মদের ‘প্রাসাদ’, বেডরুম, ও পোষাকের ভেতরে উঁকিঝুঁকি না দিয়ে বা প্রো-জিওনিস্ট বুশের ব্রেনলেস মাঙ্কি কামরান মির্জার মত এদিক-সেদিক তিরিং-বিরিং না করে যে কেউ নিরপেক্ষ মন-মানসিকতা ও ঠান্ডা মাথায় কোরআন স্টাডি করলে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হবেন যে, কোরআনের মত একটি গ্রন্থ লিখা মানুষের পক্ষে সত্যি সত্যি অসম্ভব। কারণ : (ক) কোরআনের মত করে একটি গ্রন্থ লিখতে হলে সর্বপ্রথমে একজনকে একই সাথে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মিথ্যেবাদী, প্রতারক, বুদ্ধিমান, ও স্মার্ট হতে হবে। তার পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে কোরআন লিখা হয়েছে প্রত্যক্ষ উক্তিতে, পরোক্ষ উক্তিতে নয়। অর্থাৎ কোরআনের বক্তা হচ্ছেন স্বয়ং এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর (ক্রিয়েটর দাবিদার), কোন মানুষ নয়। এমনকি কোরআনের ভাষা ও টোনও অন্য যে কোন গ্রন্থ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। (খ) কোনভাবেই স্বঘোষিত নাস্তিক হওয়া যাবে না। কারণ স্বঘোষিত নাস্তিক হয়ে গডের নামে কিছু লিখলে মিথ্যেবাদী ও জোচ্চোর হিসেবে জনগণের কাছে হাতে-নাতে ধরা খেয়ে যাবে! ফলে স্বঘোষিত নাস্তিকরা কিন্তু ইচ্ছে করলেও কোরআন বা অন্য কোন ধর্মগ্রন্থের মত একটি গ্রন্থ লিখতে পারবে না! (গ) কোরআনের মধ্যে যে তথ্য আছে তার সঠিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্তও কেউ দিতে পারেনি। কেউ বলে কোরআন হচ্ছে মুহাম্মদের বাণী। কেউ বলে ইহুদি রাবাইদের বাণী! কেউ বলে খ্রিস্টান পাদরীদের বাণী! কেউ বলে স্যাটানের বাণী! কেউ বলে ডেভিলের বাণী! কেউ বা আবার বলে মৃগী রুগীর বাণী! তার মানে কোরআন বিরোধীরাই এখন পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি! সুস্থ মন-মানসিকতার কেউ কোরআনকে মুহাম্মদের বাণী বলার সাথে সাথে আবু কাছিম, কামরুন মির্জা, ও ছৈয়দ মিয়ার মত দাস-দাসীরা পরিমরি করে এসে হয়ত বলবে, “না! না! না! কোরআন আসলে রাবাই ও পাদরীদের বাণী! অথবা মুহাম্মদের কোন এক সেক্রেটারির বাণী!”
অর্থাৎ কোরআন কোন এক সেক্রেটারির বাণী হতে পারে! রাবাই বা পাদরীদের বাণী হতে পারে! স্যাটানের বাণী হতে পারে! ডেভিলের বাণী হতে পারে! এমনকি মৃগী রুগীর বাণীও হতে পারে! কিন্তু কোনভাবেই এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটর বা নিদেনপক্ষে মুহাম্মদেরও বাণী হতে পারে না! অথচ এরকম একটি গ্রন্থকেই দেড় বিলিয়নেরও বেশী মানুষ এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরের বাণী হিসেবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে এবং প্রতি বছর পশ্চিমা বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ আবার সেই গ্রন্থের প্রতিই আত্মসমপর্ণ করছে! স্যাটান বা ডেভিল বলে যে সত্যি সত্যি কিছু একটা আছে, তাতে মনে হয় কোন সন্দেহ নেই! যীশুখ্রিস্টও অত্যন্ত বাস্তব কথাটাই বলেছেন :
"Give not that which is holy unto the dogs, neither cast ye your pearls before swine, lest they trample them under their feet, and turn again and rend you." (Matthew 7:6)
সকালবেলা কোরআনকে মুহাম্মদের বাণী বলে দাবি করা হয়। ভাল কথা। কিন্তু দুপুর হতে না হতে মত পাল্টে যায়! তখন কোরআন হয়ে যায় ইহুদি রাবাইদের বাণী! বিকালবেলা হয় খ্রিস্টান পাদরীদের বাণী! সন্ধ্যায় আবার হয়ে যায় ডেভিলের বাণী! ডিনারের সময় হয় স্যাটানের বাণী! মাঝরাতে আবার হয়ে যায় মৃগী রুগীর বাণী! এ নিয়ে সারারাত ধরে গাঞ্জা টেনে কোন কুল-কিনারা না পেয়ে ভোরবেলা হতাস হয়ে হয়ত বলে, কোরআন আসলে উপরোল্লেখিত সবারই বাণী! প্রকৃত মৃগী রুগী ও ডেলিউডেড কে বা কারা, সেটা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়ার দরকার নাই নিশ্চয়! দশজন কোরআন বিরোধীকে যদি আলাদাভাবে মন্তব্য করতে বলা হয় সেক্ষেত্রে তারা হয়ত নিদেনপক্ষে পাঁচ রকম উপসংহারে পৌঁছবে! মানব জাতির ইতিহাসে দ্বিতীয় কোন গ্রন্থ সম্পর্কে এরকম বিজেয়ার (Bizarre) ও রান্ডম (Random) মতামত নেই। কোরআনের মিরাকল বা ইউনিকনেসের যেন শেষ নেই! কোরআন বিরোধীরাই আসলে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কোরআন কোন মানুষের বাণী নয়। কিন্তু একই কথা মুসলিমরা বলতে গেলেই যত্তসব দোষ! কথায় বলে না, যত দোষ নন্দ ঘোষ! তবে কোরআন বিরোধীরা যেমন কোন যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই কোরআনকে ডেভিল বা স্যাটানের বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে, মুসলিমরা তেমনি অনেক যুক্তি-প্রমাণের আলোকে কোরআনকে এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরের বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে। কে বা কারা তাহলে প্রকৃত অন্ধ বিশ্বাসী?
অন্যদিকে মুসলিমদের কথা ও বিশ্বাসের মধ্যে সামঞ্জস্যতা আছে। তারা কিন্তু অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে বিজেয়ার বা রান্ডম ধারণা পোষণ করে না। কারণ তারা যেমন বিষয়টি নিয়ে কনফিউজ্ড্ নয় তেমনি আবার তারা নীচু মন-মানসিকতারও নয়। এমনকি বিন লাদেন বা তথাকথিত আল-কায়েদা টেররিষ্ট বা যুদ্ধাপরাধী রাজাকার বা বাংলাভাই টাইপেরও কেউ অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ বা তার প্রচারক সম্পর্কে বিজেয়ার ও রান্ডম প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে বলে কোন প্রমাণ নাই। আর স্বাভাবিক মুসলিমরা তো তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। মুসলিমরা একদম প্রথম থেকেই বলে আসছে যে, অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ আসলে মানুষের বাণী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গডের নামে মানুষ লিখেছেন, যেখানে গডের রেভিলেশনের কোন ব্যাপার-স্যাপার নেই। তার প্রমাণ হচ্ছে ধর্মগ্রন্থ নিজেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার মানুষকে গড বানিয়ে সেই গডের নামে ধর্মগ্রন্থ লিখা হয়েছে - কিছুটা নাটকের চরিত্রের মত। তার প্রমাণও ধর্মগ্রন্থ নিজেই। তবে কোরআন ও মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী একদম প্রথম থেকেই যেহেতু মানুষের কাছে গডের মেসেজ পাঠানো হয়েছে সেহেতু অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের মধ্যেও গডের বাণী থাকতে পারে, থাকাটাই স্বাভাবিক। যেমন কেউ যদি কোরআনের কিছু বাণী নিয়ে নতুন করে একটি ধর্মগ্রন্থ লিখেন সেক্ষেত্রে সেই ধর্মগ্রন্থের মধ্যে কিন্তু গডের বাণী রয়ে যাবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সেই ধর্মগ্রন্থটি গডের রেভিলেশন!
আমিই মনে হয় অন্যান্য ধর্মের প্রতি বেশ হোস্টাইল! কী বলেন পাঠক? তবে আমার ‘হোস্টিলিটি’ অবশ্যই ধর্মগ্রন্থ ও মৌলিক বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এবং লজিক্যাল ও রাশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রফেসর ডকিন্স বা অন্য কারো মত নয়। হিটলারের ইহুদি নিধন, বুশের মুসলিম নিধন, ইনকুইজিশন, হিরোসিমা-নাগাসাকি, ভিয়েতনাম, ইরাক, ও ক্রুসেডের মত বর্বর ও অমানবিক কর্মকান্ড দিয়ে মুসলিমরা বাইবেল, খ্রিস্টানিটি, ও যীশুখ্রিস্টকে বিচার করে না, যদিও এগুলোর সাথে সহজেই লিঙ্ক করার মত অনেক কিছুই বাইবেলে আছে। কারণ হিটলারের ইহুদি নিধন বা বুশের মুসলিম নিধন বা ইনকুইজিশন বা ক্রুসেড কোনভাবেই খ্রিস্টানিটিকে মিথ্যে প্রমাণ করে না, যদি খ্রিস্টানিটি প্রকৃতপক্ষেই একটি সত্য ধর্ম হয়। অন্যদিকে মাদার তেরেসার মানবিক কাজকর্ম কোনভাবেই খ্রিস্টানিটিকে সত্য প্রমাণ করে না, যদি খ্রিস্টানিটি প্রকৃতপক্ষেই একটি মিথ্যে ধর্ম হয়। অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। হলুদ বা কমলা রঙের পোষাক পড়া নিরীহ গোছের বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে দিয়ে বুদ্ধিইজমকে একটি শান্তি ও অহিংসার ধর্ম হিসেবে দেখানো হয় বলে বুদ্ধিইজম কিন্তু অটোমেটিক্যালি সত্য প্রমাণিত হচ্ছে না। যুক্তিবাদী ও সত্য সন্ধানীদের কাছে এগুলো মোটেও কোন যুক্তি-প্রমাণ নয়। তবে যাদের ইভিল কোন উদ্দেশ্য আছে তাদের কথা অবশ্য আলাদা।
একটি ধর্ম সত্য নাকি মিথ্যা, মানবিক নাকি অমানবিক, রাশনাল নাকি ইরাশনাল, সেটা তার ফলোয়ারদের উপর নির্ভর নাও করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খ্রিস্টানরা বাইবেলের ডাইনীদাহ ও আরো কিছু প্রথা বন্ধ করে নারীদেরকে কিছুটা সম্মান ও অধিকার দিয়েছে বলে বাইবেল কিন্তু মানবিক বা রাশনাল বা নারীবাদি বা সত্য হয়ে যায়নি! অনুরূপভাবে, সতীদাহ সহ আরো কিছু প্রথার বিরুদ্ধে আইন করে নারীদেরকে কিছুটা সম্মান ও অধিকার দেওয়া হয়েছে বলে হিন্দুইজমের ধর্মগ্রন্থগুলোও কিন্তু মানবিক বা রাশনাল বা নারীবাদি বা সত্য হয়ে যায়নি। ধর্মগ্রন্থের জায়গায় ধর্মগ্রন্থই রয়ে গেছে! ফলে এই প্রথাগুলো আবারো হয়ত শুরু করা হতে পারে। মানুষ যেভাবে আদিম যুগের দিকে ফিরে যাচ্ছে, বলা তো যায় না! আজ থেকে একশ’ বছর আগে যারা বেঁচে ছিল তারা এখন নেই। বর্তমানে যারা বেঁচে আছে তারাও আজ থেকে একশ’ বছর পর থাকবে না। কিন্তু ধর্মগ্রন্থগুলো অতীতে যেমন ছিল, বর্তমানে যেমন আছে, ভবিষ্যতেও তেমনি থেকে যাবে। ফলে ৯-১১ নাটকের পর থেকে যারা চোরাগুপ্তা সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে ইসলাম ও কোরআনকে বিচার করা শুরু করেছে তারা হয় অজ্ঞ অথবা ইভিল মাইন্ডেড বাইগট। চোরাগুপ্তা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে তড়িঘরি করে ইসলাম, মুসলিম, ও কোরআনের সাথে লিঙ্ক করা হলেও স্টেট টেররিজমকে কিন্তু ভুলেও ধর্মগ্রন্থের সাথে লিঙ্ক করা হয় না। কারণ তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থকে যতদূর সম্ভব ধামাচাপা দিয়ে রেখে নিজেদেরকে ইসলামের ‘ভিকটিম’ বানিয়ে বিভিন্ন লেবেলের আড়ালে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে টেররিষ্ট, এক্সট্রিমিষ্ট, ফ্যানাটিক, স্যাটানিক, বারবারিক, ইভিল, হেইটফুল, ইন্ট্যলারান্ট, ভায়োলেন্ট, সুইসাইড বোম্বার, ব্যাকওয়ার্ড, ব্লাইন্ড বিলিভার, এয়ান্টি-উম্যান, এয়ান্টি-সায়েন্স, ইত্যাদি প্রমাণ করা।
যাহোক, এই মহাবিশ্বের ক্রিয়েটরের অস্তিত্বের স্বপক্ষে ম্যাক্রো লেভেলের তিনটি স্বতন্ত্র তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি তত্ত্বকে মাইক্রো লেভেলে ব্যাখ্যা করতে গেলে লেখার কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে। তাছাড়া অন্যান্য লেখাতে ইতোমধ্যে মাইক্রো লেভেলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এবার বিশ্বাস করা বা না করা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
পাঠক এবার বলুন তো, এই তত্ত্ব তিনটির মধ্যে মিথ বা অন্ধ বিশ্বাস বা কুসংস্কারের অবস্থান কোথায়? এর পরও যারা বিভিন্ন লেবেলের আড়ালে মুসলিমদেরকে অন্ধ বিশ্বাসী, ডেলিউডেড, ব্রেনডেড, ইত্যাদি বলে ‘আত্মতৃপ্তি’ পায় তাদের নিজেদের ব্রেনসেল পরিবর্তন করা ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না।
এবার মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে, এই মহাবিশ্বের যে ক্রিয়েটর নাই তার স্বপক্ষে নাস্তিকদের কাছে স্বতন্ত্র কোন তত্ত্ব বা এভিডেন্স আছে কি-না। ওয়েল, বিশাল একখান অশ্বডিম্ব! থাকবেই বা কী করে? থাকার প্রশ্নই ওঠে না! আর এ কারণেই তারা (অপ)বিজ্ঞানের মধ্যে মাথা গুঁজে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে আক্রমণ করা শুরু করেছে। (অপ)বিজ্ঞান হচ্ছে তাদের নতুন গড! অথচ মুসলিম কিডদের কাছে বিজ্ঞান ও অপবিজ্ঞান হচ্ছে মনুষ্য তৈরী দুটি টুল মাত্র! মুসলিম কিডদের কাছে যেটি নিছকই একটি টুল, অক্সফোর্ড প্রফেসর ডকিন্সের মত নাস্তিকদের কাছেও সেটিই হচ্ছে গড! অধিকন্তু, বিজ্ঞান যেহেতু একটি পরিবর্তনশীল বিষয়, বিশেষ করে প্রোবাবিলিস্টিক ক্ষেত্রে, সেহেতু বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে দর্শনভিত্তিক কোন বিষয়ে স্বতন্ত্র কোন তত্ত্ব দাঁড় করাতে যাওয়াটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় অপবিজ্ঞান!
ক্রিয়েটরের অনস্তিত্বের স্বপক্ষে নাস্তিকদের তিনটি ‘সলিড এভিডেন্স’ দেখুন :
Argument from Richard Dawkins: Oxford Prof. Richard Dawkins is a very logical, rational, smart, and intelligent man. He has also authored many books. He says that God doesn't exist. Therefore, God doesn't exist! How could it be in the first place when God Himself told an Oxford Professor that He doesn't exist? Does it make any sense at all? On the other hand, some great humans like Abraham, Moses, Jesus, and Muhammad et al. were all liar and fraud! They can't be trusted, you know, as they claimed to be messenger of God, which means God does indeed exist! Come on! Use your brain instead of knee, man!
Argument from scientific explanation: Scientists can scientifically explain how a watch was manufactured and how it works. They do not require any data of the maker of the watch to explain all these. Therefore, the maker of the watch doesn't (?) exist! Similarly, scientists can (hypothetically) explain how the natural Universe came into existence and how it works. Isn't it then obvious that the Maker of the Universe doesn't exist? Come on! Accept the 'scientific fact', man! Otherwise you are a pseudo scientist!
Argument from Bin Laden: Bin Laden has been accused of blowing up American Twin Tower. He is a true Muslim and an Islamic terrorist as well. He got his inspiration directly from the Quran. Although dozens of American Scholars and Professors have rejected the 9-11 Commission Report based on many facts and logics yet we never had any doubt about it in our mind! Such kind of 'rationalist' and 'freethinker' we are, you know! We also never bothered to know the fact that the Quran has strongly condemned unjust killing and suicide (5:32, 4:29-30, 4:92-93, 17:33, 25:68, 3:21, 2:195, etc.). Anyway, we firmly believe that the Islamic terrorists were involved with 9-11 drama that had direct link with the Quran. Therefore, God doesn't exist! How could it be in the first place when Islamic terrorists and the Quran are involved with something? No way, man!
ওহ্ হ্যাঁ, নাস্তিকরা কিন্তু কয়েকজন গডকে স্বচক্ষে দেখেও বিশ্বাস করে না! গডকে স্বচক্ষে দেখেও যদি তারা বিশ্বাস করতে না পারে সেক্ষেত্রে তারা মুসলিমদের কাছে থেকে গডের অস্তিত্বের স্বপক্ষে নতুন করে আবার কী ‘এভিডেন্স’ দেখতে চায়!?! লোল! প্রকৃত ডেলিউডেড কে বা কারা, সেটা কিন্তু সহজেই অনুমেয়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


