যুবলীগ অফিসে নিয়ে চাঁদনী আক্তার হীরাকে এক ঘণ্টা আটকে রেখেছিল সন্ত্রাসীরা। সেখানে চালানো হয় নির্যাতন। আর এ অপমানে বাসায় ফিরেই বিষ পান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে।
এর চার দিন আগে তার ছোট বোন মৌসুমী আক্তার পান্না নিখোঁজ হয়। সবার ধারণা পান্নার প্রেমিক মোহাম্মদ সাহা তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। বোনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সাহা’র কাছে জানতে চেয়েছিল হীরা (১৭)। এটাই তার জন্য কাল হয়েছে। হীরাদের বসবাস যাত্রাবাড়ীর ধলপুর পোড়া বস্তিতে। এ বস্তিতেই থাকে এক সন্তানের জনক সাহা। স্থানীয়রা জানান, গত এক মাস ধরে সাহা নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল পান্নাকে। তবে একসময় দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শুক্রবার হঠাৎ করে পান্না নিখোঁজ হয়। তার পরিবারের লোকজনের ধারণা, সাহাই ফুঁসলিয়ে পান্নাকে নিয়ে গেছে। এরপরই তারা সাহাকে চাপ দেয় পান্নাকে ফিরিয়ে দিতে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পান্নাকে না পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় হীরা ও তার খালা চম্পা ফের সাহাকে ডেকে চাপ দেয় পান্নাকে ফিরিয়ে দেয়ার। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় স্থানীয় আরও ক’জন মিলে হীরা ও তার খালা চম্পাকে ৮৫নং ওয়ার্ডের ১৪নং আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার যুবলীগ ক্লাবে নিয়ে যায়। সেখানে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্যাতন চালানো হয় হীরার ওপর। এরপর ছেড়ে দেয়া হয়। বাসায় ফিরেই হীরা বিষপান করে। এ ঘটনার পরই পুলিশ সাহাকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সরজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হীরাদের বাসার সামনে শ’ শ’ মানুষের ভিড়। সবাই শেষবারের মতো দেখতে এসেছেন হীরার লাশ। লাশের পাশে এক বছরের শিশুকন্যা সুমাইয়াকে কোলে নিয়ে বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন হীরার স্বামী বিল্লাল মিয়া। বলছেন, সাহা আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করেছে। শুধু মারধরই করেনি। আমার স্ত্রীর ইজ্জত লুট করেছে। আমার স্ত্রী অপমান সইতে না পেরে বিষ খাইয়া মইরা গেছে। ওই সাহার কারণে আমার সুমাইয়া এতিম হইছে। স্থানীয় যুবলীগ নেতারা তার কব্জায়। জানি এর বিচার পামু না।
হীরার খালাতো বোন মুন্নী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পান্না কাউকে কিছু না জানিয়ে পালিয়ে যায়। এতে হীরা ও তার স্বামী বিল্লাল সন্দেহ করে সাহাকে। সাহা পোড়া বস্তিতে একটি জুয়ার ক্লাব চালায়। এই সুবাদে এখানে তার প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে সাহার রয়েছে দহরম-মহরম। বিল্লালের খালা ফরিদা জানান, হীরা ও চম্পাকে সন্ত্রাসীরা এক ঘণ্টা আটকে রাখে। এরপর বাসায় এসে হীরা বিষপান করে। বিল্লাল বুঝতে পেরে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন হীরাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পথেই সে মারা যায়।
স্থানীয় মাতবর আশরাফ উদ্দিন হাসু বলেন, গতকাল রাতে এ ঘটনা জানতে পেরে আমরা রাত ৩টার দিকে সাহাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছি। ৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে হীরা ছিল সবার বড়। যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম আবুল কাসেম বলেন, কেউ কেউ এ ঘটনাকে ইভটিজিংয়ের কারণে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। সাহাকে আটক করা হয়েছে। মূল ঘটনা জানার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে। পান্নাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারঃ শম্পা ইসলাম।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


