somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০০১-০৬ সালের বাঘের মতন গর্জনকারী সুশীল মিডিয়া আজ বিড়ালের মত মিউ মিউ করে কেন?

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০১ সালে যখন হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ে তখন দেশের বাজারে নিম্ন লিখত দ্রব্যের মূল্য ছিল;

মোটা চাল ১৪ টাকা/কেজি
সয়াবিন তেল ৪০টাকা/লিটার
আটা ১৩টাকা/কেজি
মশুর ডাল ৪২টাকা/কেজি
চিনি ৩২টাকা/কেজি
ডিজেল ১৫টাকা/লিটার

সুত্রঃ দৈনিক জনকন্ঠ, ১০/১০/২০০৫ ইং।

হাসিনা ২০০১ সালের জুলাই মাসে ক্ষমতা ছাড়ে। ঐ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ২২ মার্কিন ডলার/ব্যারেল। কিন্তু ঐ বছর ৯/১১ ও আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা ঘটলে এই জ্বালানি তেলের দাম ৪০ ডলার/ব্যারেল হয়। ফলে ২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনে জয়লাভ করে জোট সরকারকে বিশ্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম তথা ডিজেলের দাম ২০০২ সালে ১৭টাকা/লিটার করা হয়। এভাবে পরবর্তীতে ২০০৩ সালে ইরাক দখল হলে এই তেলের দাম জোট সরকারের সময়কাল পর্যন্ত ৭৫-৮০ ডলারের মধ্যে থাকে। আর জোট সরকারের মেয়াদ শেষে উপরে উল্লেখিত দ্রব্যাদির মূল্য দাড়ায়;

মোটা চাল ১৮ টাকা/কেজি
সয়াবিন তেল ৫৪ টাকা/লিটার
আটা ১৮টাকা/কেজি
মশুর ডাল ৫২টাকা/কেজি
চিনি ৩৬টাকা/কেজি
ডিজেল ৩৩টাকা/লিটার

যদি ডিজেলের হিসাব করি তাহলে দেখা যায় জোট সরকারের সময় বিগত হাসিনার সরকারের তুলনায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সর্বোচ্চ ২০-৩০% মূল্য বৃদ্ধি হয়েছিল। অথচ (আওয়ামী-বাকশালী মিডিয়ারতো কোন কথাই নেই) সুশীল মিডিয়াতেও ব্যাপক হারে জোট সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। বলা হয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে হাওয়া ভবন তথা তারেক রহমান ঘুষ খাওয়ার ব্যাপারটি জড়িত। জোট সরকার সাধু এ কথা কখনই বলিনি। অবশ্যই জোট সরকারের সময় কম-বেশী র্দূনীতি হয়েছে। কিন্তু যেহেতু বিএনপির মিডিয়া শক্তিশালী নয় তাই জনগণকে বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী তথ্য ধামাচাপা দিয়ে মনগড়া অস্বাভাবিক রিপোর্ট করে জোট সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপানো হয়েছে। বরং জোট সরকারের দক্ষ ভূমিকার কারণে ২২ ডলারের জ্বালানি তেল ৮০ ডলার ছুলেও জোট সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার সময় মোটা চালের দাম পূর্বের তুলনায় মাত্র ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অথচ হাসিনা ১০ টাকা কেজি চাল, ৩০ টাকা লিটার সয়াবিন তেল খাওয়ানোর কথা বললেও আজকে মোটা চাল ৪০ টাকা/কেজি(তাও নিম্ন মানের), সয়াবিন ১১০ টাকা/লিটার। কিন্তু সেই সকল সুশীল মিডিয়া আজকে ২০০১-০৬ সালের মতন তর্জন গর্জন করছে না। এখানে উল্লেখ্য ২০০৭ হতে ২০০৮ সালের মাঝামাঝি বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১৪০ ডলার/ব্যারেল হয়েছিল। যা পরে হঠাৎই ৫৬-৬০ ডলারে নেমে আসে। ঐ সময়ে বাংলাদেশে ৫৫ টাকা/লিটার ডিজেলের দাম হয়ে আবার ৪২ টাকা/লিটার করা হয়। দেখা যাচ্ছে বর্তমান মহাজোটের আমলে(২০০৯-১০) জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ৭০-৮০ ডলার ছিল। অবশ্য বর্তমানে তা আবার ১০০ ডলার হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হল ২০০৮ এর মাঝামাঝি হতে ২০১০ পেট্রবাংলা লাভে ডিজেল, পেট্রল ও অক্টেন বিক্রি করলেও মোটা চালের দাম কেন ৩০ টাকার উপরে হল? কিন্তু সুশীল নামক মতলববাজ ভারতীয় দালালগণ এই বিষয়ে তেমন শোরগোল করতে চায় না। আজকে মরহুম সাইফুর রহমানের কথা মনে পড়ছে। ২০০১-০৬ যখনই কোনদিন অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা দিয়েছে তখনই উনার কঠোর অবস্থানের জন্য শেয়ার বাজারে বড় ধরণের উত্থান বা ধ্বস ঘটেনি। ২০০১-০৬ সালে শেয়ার বাজার স্থিতিশীল ছিল। পরবর্তীতে ২০০৭-০৮তেও ফখরুদ্দিনের সময় অর্থ উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলামের সময়ও শেয়ার বাজার স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু ২০০৯-১০ সেই ১৯৯৬ সালের কারসাজি প্রয়োগ করলেও অর্থমন্ত্রী মুহিত কোন ব্যাবস্থাই নেন নি। উনি ভাল করেই জানেন কারা এই ম্যানিপুলেশনের সাথে জড়িত। যেহেতু তারা সরকারের প্রভাবশালী মহল তাই উনি চেয়ে চেয়ে তামাশা দেখেছেন। আলীগের ইতিহাস মানেই হরিলুটের ইতিহাস। আমি কোনমতেই শেয়ার বাজারে বিনোয়গকারীদের দোষ দিব না। ষ্টক এক্সচেঞ্জের বৈধ নিয়ন্ত্রণকর্তা হল সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন। যা অর্থমন্ত্রলায়ের অধীনে। তাদের অগোচরে শেয়ার বাজারে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে তা কিন্টারগার্টেনের ছাত্রও বিশ্বাস করবে না। বহু মুখ চেনাদের একজন হল ডঃ জাফর ইকবাল যিনি আলীগ করলেও নিরপেক্ষতার ভাব দেখান। বিএনপি অথবা জোটের সামান্য পান থেকে চুন খসলে তিনি বিশাল বিশাল আর্টিকেল লিখেন। অথচ দেশে আজকে রাজনীতি, অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু উনি চুপচাপ রয়েছেন। এ রকম মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির সহ তথাকথিত নিরপেক্ষবাদীরা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন। আর মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই তারা ত্রাহি ত্রাহি জুড়ে দেন যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তারা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধের বিচারকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করছেন। দেশ রসাতলে যাক কিন্তু মহাজোট সরকরের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। যে দেশে ভন্ড-মতলববাজ সুশীল সমাজ থাকে সে দেশের কপালে খারাবী ছাড়া আর কি থাকতে পারে? তাই সময় হয়েছে দেশপ্রেমিক সচেতন জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। চাইলেও রাজনীতি নিয়ে অবহেলা করা যাবে না। সবাইকেই রাজনীতিতে ন্যুনতম ভূমিকা রাখতে হবে। অসচেতন থাকলে কিছু মুষ্টিমেয় দুষ্ট ও ভন্ড সুশীল সমাজ ১৬ কোটি জনগণের দেশের বারোটা বাজাতে যথেষ্ঠ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:২২
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আমি ক্রিকেটার বলে বেঁচে গেলাম” — নাঈম হাসানের কান্না এবং সাধারণ মানুষের প্রশ্ন

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১৩ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১৯

একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মাঝরাতে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফিরছিলেন। জাতীয় দলের জার্সি পরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, অসংখ্য মানুষ তাকে চেনে। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে নিজের পরিচয় প্রমাণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্রাজিলের ম্যাচগুলো কবে কখন কোথায় এবং কার সঙ্গে?

লিখেছেন শিমুল মামুন, ১৩ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪


একনজরে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের ফিক্সচার (Brazils Group Stage Fixtures at a Glance)
প্রথম ম্যাচ (প্রতিপক্ষ মরক্কো): ১৪ জুন ২০২৬। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×