আমার প্রিয় পোস্ট
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -১(GMAT)। - কুম্ভকর্ণ
- হুমায়ুন আহমেদ এর কিছু বই
- জটিল
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (আমি কিংবদন্তির কথা বলছি) - বইপাগল
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- রবীন্দ্রসংগীত - রিমিক্স - রাজামশাই
- জাতিস্মর .... - শিরোনামহীন
- আমার মা বোকা, মিথ্যুক এক নিখাদ মমতাময়ী - বিলাস আহমেদ খাঁন
- রিমিক্স কাদিয়ানী এবং শাওন - শাওন
- কাদিয়ানী মতবাদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ঃ কাদিয়ানীরা কেন মুসলমান নয়? - আশরাফ রহমান
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- এবার উপজেলা চেয়ারম্যানদের জন্য পাজেরো গাড়ি - কেএসআমীন
- ত্রিপলীর ইহুদীরা - ফয়সাল খালিদ
- দি নেস্কট ইলেভেন-আসছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় যুগ - তাসমান
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির টুকরো স্মৃতি -২
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:২২
Click This Link
গুছিয়ে লিখতে পারিনা বলে ক্ষমা চাইছি। আজ ২য় কিস্তি।
আমি, মীর শহিদুল ইসলাম ওরফে MSI (ইতালীতে), সাজ্জাদ ওরফে SMS (এখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে এপলাইড ফিজিক্স এর লেকচারার) আর রি ম্যাডাম এক সাথে জয়েন করি। তাই আমাদের সখ্যতাও ভাল ছিল। অন্য সব প্রাইভেট ইঊনিভার্সিটির মতো এখানেও পুরনোরা টিচার চলে যায় (ভাল সুযোগ পেলে) নতুন টিচার আসে। আমি যখন জয়েন করি তখন তিনতলার ফ্যাকাল্টি রুমে (অন্যগুলোর চেয়ে বেশি পপুলার) ১৪ জন ফ্যাকাল্টির মধ্যে ৩ জন ছিল ম্যাডাম (সংখ্যালঘু)। এখন নাকি সেখানে ম্যাডাম ৯ জন। অথচ তিন ডেপার্টমেন্টের তিন হেড প্রকাশ্যে ম্যাডাম নিয়োগকে ভাল চোখে দেখেনা বলতো। কারন হিসাবে মাতৃকালীন ছুটিসহ অন্যান্য অজুহাতের কথা বলতো। তাই, এখন জামাত কিংবা জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসতে পারে শুনে অবাক হইনা। হা হা হা।
গত পর্বে বলেছিলাম রাশেদ স্যারের সাথে সিগারেট খাওয়ার কথা। উনি আমাকে আজ এর প্রতিবাদ করে বললেন, "আপনার সাথে কি আমার খালি সিগারেট খাওয়ার সম্পর্ক"? আসল কথা হলো (যদিও উনি স্বীকার করতে চান না) আমার সিগারেট নিয়মিত খাওয়ার জন্য উনিই দায়ী। সঙ্গদোষে লোহা ভাসে কথাটার প্রমান। আমাকে উনি সতর্ক করে দিয়েছেন আমি যদি তার নামে অপবাদ (??) দেই তাহলে উনিও আমাকে নিয়ে কাহিনী লিখবে এবং নীলক্ষেতের চিপায় বাজারজাত করবেন। আমি সত্যের (!!) কাছে মাথা নোয়াতে চাই না। (যদিও ওনারে দিয়া বিশ্বাস পাইতেছিনা)।
এবার স্টুডেন্টদের একটা কাহিনী বলি। ২০০৭ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারী সায়েন্স ফ্যাকাল্টির সব ছাত্র-শিক্ষক (ছাত্রী-শিক্ষিকাও) মিলে বার্ষিক পিকনিকে গেলাম। সবার মধ্যে ব্যাপক আনন্দ আনন্দ ভাব। খিদেয় পেট জ্বলে যাচ্ছে। রান্না শেষ হলো প্রায় ৩টায় (একটু এদিক সেদিক হতে পারে)। স্টুডেন্টদের খাওয়া শেষ আমরা আর ভলেন্টিয়ার স্টুডেন্টরা বসেছি খেতে। হঠাত দেখি কিছু ছাত্র এসে একজন ছাত্রকে (খাওয়ারত) ব্যাপকভাবে মারল। আমরা হতভম্ব হয়ে গেলাম। যাই হোক, ভিসি স্যার বললেন, ঢাকায় ফিরে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু এবার তো আহত ছাত্রের পালা। সে তার সংগীদের নিয়ে তৈরী। কারন ইউনিভার্সিটি আর যা ই করুক এই মারের প্রতিশোধ (মাইর দিয়ে) তো নিয়ে দিবে না। তাই নিজেদের চেষ্টা নিজেদেরই করতে হবে। দুদিনের (মনে হয়) মাথায় এক ছেলে ফোন দিল (আমি তখন ক্লাসে যাব), " স্যার, রাজুরে তো খুর মারছে"। অগত্যা রুহুল আমিন স্যার আর আমি খুরাঘাত প্রাপ্তকে নিয়ে গেলাম হসপিটালে। পরে যখন দুপক্ষের ৭ জনকে ২ সেমিস্টারের জন্য বহিস্কার করা হলো তখন তাদের মধ্যে ব্যাপক বন্ধুত্ব, একেবারে গলায় গলায়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের স্টুডেন্টদের অসহিষ্ণূতা কবে কমবে? (ডেফোডিলে আমার একটা বাজে অভিজ্ঞতা এটা)। এর পর থেকে আমার কলিগরা আমাকে সন্ত্রাসী বলতো, যেহেতু সোনামানিকেরা আমার ডিপার্টমেন্টেরই রত্ন ছিল। কদিনবাদে কে বা কারা একটা ক্লাসরুমের দরজার গ্লাস ভেঙ্গে ফেলল। তাহের স্যার (হেড, সি এস সি ডিপার্টমেন্ট) আমাকে বলল, বিলাস দেখতো কারা করল। আমি আবিস্কার করলাম, ওই রত্নটাও আমার ডিপার্টমেন্টের। তারপর থেকে আমার কলিগদের মাঝে আমার বিশেষ সম্মান। কেউ আমাকে ঘাটায় না। জানের মায়া তাদেরও আছে।
মিজান নামে একটা ছেলে ছিল। দিনাজপুর বাড়ি। এক কোরবানীর ঈদে বাড়িতে গেলনা (জানিনা কেন, শুধু জানতাম ওর পরিবার ভীষন সংগ্রামী)। আমি বেশ পছন্দ করতাম ওকে। বিনয়ী আর মনযোগী। আমাকে ঈদের আগেরদিন রাতে ফোন করে ঈদ মোবারাক জানাল। আমি তখন জানলাম সে ঢাকাতেই থাকছে। তাই বললাম সকালে নামাজ পড়ে আমার বাসায় চলে আসতে। সে এল এবং আমাদের সাথে গরু কাটায় হাত লাগাল। অনেক কষ্ট করেছিল বেচারা। আমি অলস মানুষ। বিনয় দেখিয়ে যদিও বললাম, কেন এতো কষ্ট করতেছ? কিন্তু মনে মনে আমি ব্যাপক খুশি। সেও বিনয়ের সাথে বলল, না স্যার, নিজের বাসাতে তো করি, এ আর এমন কি!! কথার আড়ালে যে কি ছিল তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।
চলবে ...
লেখক বলেছেন: কিছু মনে করবেন না, আপনি কি উহাদের মতোই ভুক্তভুগী?
ব্যাকটেরিয়া বলেছেন:
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে লিংকটা দেবার জন্য নাহলৈ হয়তো আর পরের পর্ব খুজে পেতাম না।
লেখক বলেছেন: এই জন্যেই দেয়া। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ ।
আসিফ আহমেদ বলেছেন:
কাল পড়েছি লেখাটা, আপনার লেখার হাত ভালো, চালিয়ে যান।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ![]()
তাহের ভাই এখন কোথায় বলতে পারবেন? উনি কি ব্লগিং করেন?
লেখক বলেছেন: তাহের স্যার ব্লগিং করেন না মনে হয়। উনি এখন এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে ডেফোডিলেই আছেন। ধন্যবাদ।
তাসনুভা. বলেছেন:
ধন্যবাদ লেখাটির লিংক দেওয়ার জন্য...পিকনিকের এই ঘটনাটির কথা আমিও জানি... সেই সংখ্যালঘুদের মধ্যে কাশফিয়া ম্যামের কথা মনে আছে কি...কোরিয়া কেমন লাগছে...ভাল থাকবেন...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তোমাকে। শুভকামনা রইল। দেশ ছেড়ে এসে, দেশ আর দেশের মানুষদের খুব মিস করি। তাই ব্লগে এসে যোগাযোগের চেষ্টা।
শিরোনামহীন বলেছেন:
মামু বলেছেন: বুকাচুদা ছাড়া কেউ ড্যাফডিল এ ভর্তি হয়?যারা লাইফটা নষ্ট করত চান তারা ডেফঢিলে ভর্তি হইবেন।
-----------------------> @ মামু, আমি আপনার কথার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রসণ্গতবলে রাখি, আমিও ডেফোডিল এর ছাত্রী। আমি "বুকাচুদা" (আপনার ভাষায়) নই।
ডেফোডিলে যারা পড়তে আসে তাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে যাদের ৭-৮ লাখ টাকা দিয়ে অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষমতা নেই। এটা আমি সেসময়ের কথা বলছি যখন আমি ওখানে ভর্তি হই , ২০০৪ সালে। এখন, ঐখানে উচ্চবিত্ত পরিবার থেকেও প্রচুর ছেলেমেয়ে পড়তে আসে। কেন জানেন? কারণ আমাদের ওখানে পড়াশোনার মান অনেক অনেক উন্ণত। হয়তো ফাটাফাটি ক্যাম্পাস নেই, দেখানোর মতো টাং ফাং ও নাই তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একঝাঁক আন্তরিক শিক্ষক -শিক্ষিকা আছেন যারা সত্যি স্টুডেন্ট দের অনেক কেয়ার করেন। যার সুফল আমরা পাই। আপনি কিসের বেসিসে ডেফোডিলের স্টুডেন্টদের গালি দিচ্ছেন জানিনা, তবে আপনি যদি ডেফোডিলের স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন ও পাশ করার পর নিজেকে "বুকাচুদা' মনে হয়ে থাকে তবে সেটা অবশ্যই নিজের দোষে হয়েছেন। ইউনিভার্সিটিকে মাঝে না টানাই ভালো। আরো হাযারখানেক ছেলেমেয়ে ঐখানে পড়ে ভাই। এমনি এমনি পড়েনা। আমাদের ডেফোডিলের অনেক সমসাময়িক ইউনিভার্সিটি আছে যেগুলো এখনো মাছি মারছে। কিন্তু এখন মানুষ ডফোডিলের নাম জানে। আমার তো লাইফ নষ্ট হয় নাই। যারা পাশ করে গেছে তাদেরও হয়নাই। যাদের লাইফ নষ্ট হয়েছে তারা রেজাল্ট ভালো করতে পারেনাই দেখেই সাফার করছে। এতে ভার্সিটিকে গালিগালাজের কোন কারণ দেখিনা। আমি এখানে ডেফডিলের গুনোগান গাইতে আসিনি। তবে অন্যকেউ গালিগালাজ করুক এটাও পছন্দ করতে পারলাম না।
আমিও মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারনে আমার ইউনিভার্সিটির ওপর ক্ষেপে যাই। এটা তো স্বাভাবিক! ছাত্রাবস্থায় নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে কারুরই ভালো লাগেনা। তার মানে এইনা যে আমি ডেফোডিলকে ঘৃণা করি। আপনার ব্যক্তিগত ব্যপার আপনি ডেফোডিল কে ভালোবাসেন না ঘৃণা করেন কিন্তু প্রকাশ্যে এভাবে গালাগালিটা মানতে পারছিনা।
আপনার জন্য একটাই উপদেশ ( বিনামূল্যে দিচ্ছি) - - - Try to show some respect to others.
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মামুর উদ্দেশ্যে তোমার উত্তরের জন্য।। আমার নিজের অভিজ্ঞতায়, আমি ডেফোডিলে অনেক ভাল ছেলে-মেয়েদের কে পেয়েছি। অনেক ফাঁকিবাজকেও পেয়েছি। এটাকে ইঊনিভার্সিটি দোষ বলা ঠিক হবে না। কোন প্রতিষ্ঠানে মামুর মতো মানুষ(??) থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।
শিরোনামহীন বলেছেন:
@ বিলাস স্যার: কাশফিয়া ম্যাডাম আমার বড় বোন। লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভকামনা তোমার ও কাশফিয়া ম্যাডামের জন্যে। কাকও একটা পাখি মামুও একটা মানুষ। হা হা হা...
কুম্ভকর্ণ বলেছেন:
ডেফডিল নামেও কি ইউনিভার্সিটি আছে? কোথায় এটা? ডেফডিল নামে কম্পিউটার শিখানোর কোচিং সেন্টার আছে জানতাম অবশ্য। স্ট্যাম্ফরড নামেও একটাআছে। আমি তো দেশে স্ট্যানফরড আছে শুনে টাসকি খাইছিলাম। পরে শুনি স্ট্যানফরড না স্ট্যাম্ফরড! এই নামের মানে কি? ডেফডিল তো মনে হয় ফুলের নাম। বাংলাদেশী ফুল যেমন শাপলা, গোলাপ এসবের নামে না দিয়ে ডেফডিল দেওয়ার কারণ কি?
লেখক বলেছেন: আপনি কোথায় আছেন? আপনার অজ্ঞতাকে সহজভাবে প্রকাশ করায় ধন্যবাদ। আমাদের দেশের গ্রামে গঞ্জে অনেক মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও চিনেনা, ডঃ মুহম্মদ ইউনুসকেও চিনেনা। এটাতে কি আমরা অবাক হই?
লেখক বলেছেন: কুম্ভকর্ণকে জাগানো খুব কঠিন। এতো সহজে সে জাগবেনা।
কুম্ভকর্ণ বলেছেন:
ওয়েবসাইটটা দেখলাম। ভালই লাগল। তবে ডেফডিল নামের মাহাত্ব কি কেউ বলবেন?
লেখক বলেছেন: আপনি নিজেও জানেন, এটা একটা ফুলের নাম।
কালপুরুষ বলেছেন:
লেখাটা ভাল লাগলো। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।



















যারা লাইফটা নষ্ট করত চান তারা ডেফঢিলে ভর্তি হইবেন।