somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বাংলাদেশী জিসান
পরিচয় দিতে গেলে শুরু করা সম্ভব, তবে শেষ করা অসম্ভব! আমাকে দেখে আপনার মন যা-তা ভাবতেই পারে! কিন্তু আমি পুরো সাচ্চা, আপনার চিন্তার বাইরে! আমি লিখলে আবেগ, বাস্তবতার নিরিখে লিখতে পছন্দ করি! মাঝে-মাঝে ছন্দ নিয়ে খেলি! শাশ্বতের পক্ষেই আমি! নোংড়ামিকে পিষে চলি!

অপেক্ষার শুরু

২০ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তিন কবুলে ‘আলহামদুলিল্লাহ' বলার পর দু'জন আলাদা থাকলেও
এতো কষ্ট অনুভব করিনি !
তোমাকে এতোটা Miss করিনি !
তুমি যাবার পূর্বে বারবার আমাকে প্রবোধ দিচ্ছিলে!
সান্তনাচ্ছলে বারবার বলছিলে না কাঁদার জন্য!
আমি যেন নিজের খেয়াল রাখি,
ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করি -ইত্যাদি আরো কত কী!


তোমার প্রতিটি কথায় আমি বলেছিলাম,
‘‘হুম.. ইন শা আল্লাহ!!''


শেষ রাতে তুমি অনেক কেঁদেছো!
শেষ যখন কথা বলছিলে তখন পর্যন্ত!
হাহ!
আমাকে না কাঁদার জন্য বলে
নিজেই নিজের লাল টুকটুকে গাল অশ্রু দিয়ে রাঙ্গিয়েছো!!
বোকা তুমি!
আমি কাঁদবো কেন?
আমি যে ছেলে মানুষ!
ছেলেরা মেয়েদের মতো কাঁদতে পারে না! বুঝলে?
আমি যদি কাঁদতে পারতাম, তবে হয়ত ভালোই হত!
কাঁদলে কষ্ট অনেক কমে যায়, হৃদয় শীতল হয়!
কিন্তু না!
আমি যে কাঁদতে পারিনি! এখন অবধি পারছি না!
তাই কষ্টগুলো বুকচাপা দিয়ে রাখতে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে!!
লুকাতে পারছি না তোমাকে বিদায় জানানোর কষ্ট!


হ্যাঁ,
আমি তখন ঠিক মতো কথা বলতে পারিনি!
আমার কন্ঠ থেকে কথাগুলো অস্পষ্ট হয়ে উচ্চারিত হচ্ছিল!
তুমি হয়ত বুঝতে পেরেছিলে,
তাই বলছিলে:
‘‘কষ্ট পেয়োনা! দেখো, আমি ঠিকই তোমার কাছে ফিরে আসবো!"


যাবার আগে যখন বলেছিলে:
‘‘ওগো! আজ আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি!"
আমি জানতে চেয়েছিলাম, ‘‘কী?"
বলেছিলে, ‘‘এখন থেকে তুমি যাই বলবে আমি তাই শুনবো!"
তুমি জানতে না,
কষ্টের মধ্যেও তুমি আমাকে তখন মৃদু হাসিয়েছিলে,
কেননা আমার কোনো কথায় তো তুমি কখনো ‘না' করোনি!


প্রিয়া,
তোমায় যা বলেছিলাম তা মনে রেখো,
একজন মুসলিমা-মু'মিনা হিসেবে,
আমার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে
তোমার সম্মান যে অনেক উচ্চে!
প্রভুর সন্তুষ্টিতেই যে আমার সন্তুষ্টি!
তাঁকে খুশি রাখতে মরিয়া থেকো!
তবেই যে আমি খুশি থাকবো!!
আমার কথাগুলো ভুলে যাবে না জানি, তবু বললাম!!


আমিও তোমার কোনো কিছু ভুলিনি!
শেষ রাতের তোমার কান্নার সেই শব্দগুলো
এখনো আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে!
তোমার সেই মায়াবী আদুরে কথাগুলো মনে পড়ছে বারবার!!


গতরাত হঠাৎ বলেছিলে,
আমি যেন ঘড়ির কাটাটিকে থামতে বলি,
তোমার যে আমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না!!


জানো?
আমি ঘড়িটিকে থামতে বলেছিলাম,
কারণ তোমার চলে যাওয়া যে আমারও সহ্যের বাইরে!
কিন্তু,
সে থামিনি! ঘড়ির কাটা তার নিজস্ব গতিতেই চলল!!
তুমিও চলে গেলে!


ভাবতেই পারছি না,
কতদিন ঐ দূর প্রবাস আমাদের বাঁধা হয়ে থাকবে!!
আমি যদি পারতাম, তবে এবার ঘড়িটিকে বলতাম :
‘‘একটু দ্রুত চল ভাই !!"
যাতে তুমি দ্রুত ফিরে আসো!
জানি, এ ঘড়ি কথা শুনবে না!
তুমি ফিরে আসার আগ পর্যন্ত
এ ঘড়ির প্রতিটি কাটার শব্দ তাই আমার হৃদয়ে হাতুড়ি পিটাতে থাকবে!!!
তুমি ফিরে আসবে.....
এই আমার কাছে
মৃত হয়ে যাওয়া এই হৃদয় মরুতে
তোমার প্রেমের পরশপাথার বইয়ে দিবে!
তোমার আমার মাঝে শেষ কথা-শেষ দেখা বলে যে কিছুই নেই!
আবার দেখা হবে, কথা হবে।
পবিত্র বন্ধনে পবিত্র প্রেমের যে সূচনা,
তাতে ইতি টানা তো অসম্ভব!
প্রভুর সন্তুষ্টিতে গড়া বন্ধনে দু'জনের তাওয়াক্কুল শুধু তাঁর উপর !
সীমাহীন কষ্টের মাঝে সবরের সাথে তাই আমার অপেক্ষার শুরু!!!
.
.
.
.
.
উৎসর্গ: আমার কল্পনার জগতের সেই প্রিয়া!!!
লেখার সময় :

১৯শে জুন, ২০১৬ ঈসায়ী
দিবাগত রাত- ০১:০০টা

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৮
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×