ধর্ম অনেকের কাছে পবিত্র জিনিষ এমনকি জীবনের চেয়েও পবিত্র। ধর্মের উদ্দেশ্য হল মানব কল্যান। কিন্তু ধর্ম কি সব সময় কল্যানকর?
ইতিহাস কিন্তু সাক্ষ্য দেয় ধর্ম অনেক ক্ষেত্রে কল্যানকর তো নয়ই এমনকি ক্ষতিকর।যুদ্ধ, ঘৃনা এবং অপরাধ ধর্মের নামে ঘটে চলেছে ধর্মের আবির্ভাবের সময় থেকেই। অনেকে হয়ত বলবেন ধর্মকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে, যারা এটা করছেন দোষ তাদের, ধর্মের নয়। অনেকে কিন্তু ধর্মের উদ্ধৃতি দিয়েই অপরাধ করে চলেছেন। ধর্মগ্রন্থে যদি উৎসাহ দেওয়া হয় তাহলেও কি ধর্ম কে দোষ দেওয়া যাবে না? ধর্মের কারনে কোটি কোটি হত্যা হয়েছে বা আজও হচ্ছে, তবুও কি আমাকে বলতে হবে ধর্মে খারাপ কিছু নেই?
যেমন ধরুন যুদ্ধ। ক্রুসেড বা জিহাদ যাই বলুন না কেন তা কিন্তু চলেছিল ধর্মের নামেই বছরের পর বছর। আজও অনেক সন্ত্রাস, যুদ্ধ ঘটছে ধর্মের নামে। ২০০১এ নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংশ হয়েছিল যে সন্ত্রাসী হামলায় তার পেছনেও ধর্মের ভুমিকা ছিল। এবং তার প্রতিক্রিয়া ও ছিল ধর্মের উপর ভিত্তি করেই। ১৯৯০ সালে সাদ্দামের কুয়েত দখলের ফলশ্রুতিতে সৌদি আরবে আমেরিকা সৈন্য পাঠায়। আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন সৌদি আরবের পবিত্রভুমিতে অমুসলিম আমেরিকান সৈন্যের উপস্থিতি অবমাননাকর বিবেচনা করে ফতোয়া দেন প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য হল আমেরিকান এবং পশ্চিমাদের হত্যা করা।
টুইন টাওয়ার ধ্বংশ কে উগ্রপন্থীরা দেখছে তাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আর ঢালাওভাবে মুসলমানদের দায়ী করে চলল বিভিন্ন নিপীড়ন। কু ক্লাক্স ক্লান বা অনান্য উগ্রপন্থীরা শুরু করল আক্রমন। দাড়ী টুপি পেলেই ধর মারো ইত্যাদি। দাড়ির কারনে কয়েকজন শিখ ও আক্রান্ত হয়েছিল লন্ডনে। ফলে তারা বাধ্য হয়েছিল লন্ডনের রাস্তায়“We are not Muslim” লেখা প্লাকার্ড নিয়ে নামতে।
দ্বিতীয়ত ধর্মীয় কারনে ঘৃনা।ধর্ম শ্রেস্টত্ব দাবী করে, অন্ধভাবে অনুসরনের দাবীকরে ।এর ফলে যুক্তি, মানবিক মুল্যবোধ, আইন হয় গৌন। ধর্মের ভিত্তিতে নিজে যখন শ্রেষ্ঠ তখন অনান্যেরা হয়ে দাঁড়ায় নিকৃস্ট।যার ফলশ্রুতি হল “যবন” ম্লেচ্ছ” “কাফির” “মালাউন” ইত্যাদি ঘৃনামুলক শব্দ। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারনে মানুষে অবলীলাক্রমে অপরাধ করে । কারন তার বিশ্বাস ধর্মে খারাপ কিছু থাকতেই পারে না। ধর্ম রক্ষার্থে যুদ্ধ, সুতরাং তা খারাপ হতেই পারে না।খৃস্টানরা যেমন ক্রুসেড কে পবিত্র মনে করে একই ভাবে মুসলমানেরাও জিহাদকে তাদের পবিত্র দায়িত্ব মনে করে থাকে। ধর্মীয় শিক্ষা হল “ধর্ম মেনে চল কোন প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন করা মানেই অপরাধ এবং জাহান্নাম। বস্তুত ধর্মের বড় শত্রু হল স্বাধীন চিন্তা , যুক্তি, প্রশ্ন ইত্যাদি।
ধর্ম শান্তি বা ঐক্যের কথা বললেও কিন্তু বাস্তবে তা বিভক্তি এবং অশান্তিকেই উতসাহিত করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। আমি, আমরা , আমার ধর্ম ইত্যাদি শব্দ নিজেকে কিন্তু অনান্যদের থেকে পৃথক করে ভাবতে শেখায়।আর ধর্ম নিয়ে যতই ঐক্যের চিন্তা করুন না কেন বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। ধর্ম এক হওয়া সত্বেও বিভিন্ন দেশ , জাতি, সংস্কৃতি ভিন্ন।
আমার এক বন্ধু জাহাজে ভাল চাকরি করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরতে হয় তাকে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মুসলিম দেশে যেতে হয়েছে । অধস্তন বৃটিশ বা আমেরিকানকে যখন ভিসা দিতে দ্বিধা করছে না সৌদি আরব বা কুয়েত দুতাবাস, আমার মুসলমান উচ্চ পদস্থ বন্ধুকে বার বার হেনস্থার সম্মুখিন হতে হয়েছে ঐ সমস্ত মুসলিম দেশে।তারা তো মুসলমান কিন্তু তারা তো ঘৃনা ভরে বাঙ্গলাদেশীদের “ মিসকিন” বলতে দ্বিধা করে না।
নৈতিকতা বোধ গড়ে উঠেছে ধর্মের আবির্ভাবের আগে থেকেই, যখন থেকে মানুষ সমাজবদ্ধ হতে শিখেছে। ধর্মই গড়ে উঠেছে নৈতিক মুল্যবোধের উপর ভিত্তি করে। যে যত ঝুকেছে ধর্মের দিকে তার চিন্তাশক্তি , যুক্তি তত বেশীলোপ পেয়েছে।সমস্ত সমস্যার সমাধান খুজেছে পবিত্র গ্রন্থে ।ফলে মানসিক বিকাশের পরিবর্তে জন্ম নিয়েছে অন্ধত্বের।তাদের কাছে বিশ্বাসই মুখ্য এবং বিচার বুদ্ধি যুক্তি তর্ক গৌন।
আশ্চর্্য্য, ধর্মএর উদ্দেশ্য হল মানব কল্যান, কিন্তু তা আজ মানব বিধ্বংশী। আজ সময় এসেছে এই ধর্ম নিয়ে যারা বেশী গর্ব করে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর। ধর্ম সত্য তো দূরে থাক ধর্মের প্রবক্তাদের স্বার্থই দেখে বেশী করে। ধর্ম দিয়ে মানুষ পেতে চায় ইহ কালের এবং পরকালের নিরাপত্তা।
ধর্ম মানুষকে দিয়েছে হিংসা, অপরাধ, যুদ্ধ, ঘৃনা ইত্যাদি। আসুন সবাই মিলে রুখে দাড়াই এই ধর্ম ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ধর্ম বিশ্বাস মানুষের সমস্ত যুক্তি তর্ক, বুদ্ধি বিবেচলাকে পদলিত করে এমনকি সুস্পস্ট বিষয় গুলো ও অগ্রাহ্য করতে শেখায়। ধর্ম শুধু বলে অন্ধের মত কিতাব বা ঈশ্বর মেনে চলতে অক্ষরে অক্ষরে।
যারাই ধর্মের বানী বলে তাদের পিছনে কাজ করে অসৎ কোন এক উদ্দেশ্য।এক গেস্ট হাউসে পাশাপাশি রুমে রাত থাকতে কাটাতে হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তার সাথে। ভদ্রলোক নামাজ রোজা করেন দাড়ি টুপি আছে, পোষাক আশাক ও হুজুরদের। অনেক ভাল ভাল কথা, ন্যায় নীতির কথা, আল্লাহ এবং ধর্মের কথা বললেন ভদ্রলোক আমি ও শুনলাম। হঠাৎ ভদ্রলোক বলে উঠলেন “আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকেও ভয় পাই না” আমি জানতাম আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুর্নীতির আখড়া । পরে ভদ্রলোককে ও এস ডি(Officer on special Duty) করা হয় দুর্নীতির দায়ে মনে পড়ল সেই ইংরেজী উক্তি “ Doubt the man who swears to his devotion”
মৃত্যুকে ভয় পায় না এমন লোকের সংখ্যা কিন্তু ধার্মিকদের মধ্যে খুব বেশী নয়। তারা তো পরকালে শান্তি সুখ পাবেই । কিন্তু তার উপর ভরসা ধার্মিকদের যে খুব বেশী তা কিন্তু নয়।
ধর্ম কল্প কাহিনী হিসেবেই থাকুক । আসুন কল্প কাহিনী এবং অবাস্তবতার উপর আস্থা না রেখে সবাই আমরা সব কিছু বিচার করি যুক্তি দিয়ে, অন্ধ বিশ্বাসে দিয়ে নয়।প্রশ্ন করি, উত্তর খুজি অন্ধভাবে বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

