একটু আগে ফিরছিলাম সাবওয়েতে টোরোন্টো শহরের ডাউনটাউন থেকে বাঙ্গালী পাড়ার বাসাতে।এই দেশে সাবওয়ে হল আন্ডারগ্রাউন্ড রেল, আর শহরের কেন্দ্রস্থল হল ডাউনটাউন।চোখে পড়ল একজন সহযাত্রী "মেট্রো" খবরের কাগজ পড়ছেন। ভদ্রলোকের চেহারা উপমহাদেশের অর্থাৎ ভারত বাঙ্গলাদেশ পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার । পত্রিকার প্রথম পাতায় দেখলাম "Imam faces sex charges" হেডিং দিয়ে খবরটা। ইমাম মাসরুর গ্রেফতার। এখানে মেট্রো পত্রিকা সব সাবওয়ের পাশে রাখা থাকে বিনা পয়সায় আনা য্য । ভিক্টোরিয়া পার্ক স্টেশনে নেমে পত্রিকা নিয়ে ভালভাবে পড়লাম খবরটা। যে মসজিদের ইমাম ছিলেন মাসরুর সেটা স্টেশান থেকে সামান্য দূরে এবং এখানকার সমস্ত বাংলাদেশী দোকানগুলোও পাশেই।
ভাবলাম দেখি বাংলাদেশীরা কে কতটুকু জানেন বা কি প্রতিক্রিয়া। ড্যানফোর্থ এভিনুউয়ের পাশে পার্কিং য়ে দেখলাম এক ট্যাক্সিচালক একই খবর পড়ছেন, বাংলাদেশি ভেবে ব্যাপারটা কি জিজ্ঞেস করলাম । ভদ্রলোক পাকিস্তানের। পাশে দাঁড়ানো তার বন্ধু জবাব দিলেন ভালভাবে চেনেন মাসরুরকে । তিনি বাইতুল মোকাররম মসজীদের দ্বিতীয় ইমাম। তার পেছনে নামাজ পড়েছেন অনেকদিন। ভাল মানুষ হিসেবেই জানেন মাসরুর কে । রোজার মাস কারো সম্পর্কে খারাপ কিছু বলা ঠিক নয় মন্তব্য করলেন। রওয়ানা দিচ্ছি মারহাবা দোকানের দিকে থামালেন ভদ্রলোক আমি বাঙ্গলাদেশী শুনে সাদাদের একচোট ধোলাই করলেন এবং মুসলমান ভেবে মন্তব্য করলেন " বুঝলেন ভাই , এরা সবাই মুসলমানদের শত্রু, মুসলমান কেউ করেছে দেখে প্রথম পাতায় তা ছেপেছে, খৃস্টান বা ইহুদী হলে মোটেই ছাপতো না খবরটা। একটা গালিও দিলেন কানাডা সরকারকে। আমি তাকে স্মরন করিয়ে দিলাম রোজার মাস গালি দিতে নেই, একটু অপ্রস্তুত হয়ে আবার শুরু করলেন । আমি তাদের কাছ থেকে বিদায় চাইলাম এবং নিজের নাম বললাম " মুসলমান নই শুনে আবার ও অপ্রস্তুত হলেন পাকিস্তানী ট্যাক্সিচালক ভদ্রলোক। ভাবখানা এমন " যা ব্যাটা ভাগ, মুসলমান না আগে বলবি তো"
এলাম মারহাবা দোকানে । মাসুদ ভাইয়ের সাথে দেখা । মাসুদ ভাই বললেন " এ দেশের পুলিসের ঠিক নেই মেয়েদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলেই আগে জেলে পুরবে" আরেক ভদ্রলোক বললেন " শুনেছি বউ নাকি পুলিসে ধরিয়ে দিয়েছে। এক ভদ্রলোক বললেন " কয়েকদিন আগে গন্ডগোল হয়েছিল মসজিদে তাদের কেউ হয়তো ধরিয়ে দিয়েছে। দোকানের মালিক ভদ্রলোক আমার পরিচিত হয়ে গেছেন এতদিনে। তিনি বললেন" হ্যা খবরটা পড়েছি, হতে পারে আবার নাও পারে" আরেকজন বললেন " ভাই কিছু না পেলে তো আর এমনি এমনি এরেস্ট করবে না। এরেস্ট হল, খবরের কাগজে ছাপা হল যদি পুলিস না প্রমান করতে পারে তাহলে পুলিসকে কয়েক লক্ষ ডলার জরিমানা গুনতে হবে"
সবচে অবাক লাগলো পাকিস্তানীর মন্তব্য শুনে। তিনি এ দেশে আসতে পেরেছেন কানাডা সরকারের অনুমতি ক্রমে বা অবৈধ ও হতে পারেন। এমন ও হতে পারে এই দেশের জনগনের " স্যোশাল সিকিউরিটির" টাকা ও নেন। আর বাচ্চার " চাইল্ড বেনেফিট" তো নেনই। অথচ কানাডা সরকারকে গালি দিলে তার রোজা ভাঙ্গে না কিন্তু মাসরুর সম্পর্কে খারাপ কিছু বললে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



