কাল একটা পোস্ট এ স্ত্রী প্রহার তরিকা নিয়ে আলোচনা দেখলাম। মনে প্রশ্ন এল দেখি এ সম্পর্কে কি কি তথ্য পেতে পারি? বরাবরের মত ইন্টারনেটেই শুরু করলাম। আমি আরবী ভাষা বুঝি না। ইংরেজীতে যে বক্তব্য গুলো পেলাম তার একটা মন্তব্য লিখে দিলাম। লেখকের অনুরোধে এবার বাংলায় তা বলার চেস্টা করছি। যে সুরার উদ্ধৃতি দেওয়া ছিল তা হলঃ-সুরা আন নিসা(৪:৩৪)
Trnsliteration:-
Arrijalu qawwamoonaAAala annisa-i bima faddalaAllahu baAAdahum AAala baAAdin wabimaanfaqoo min amwalihim fassalihatu qanitatunhafithatun lilghaybi bima hafithaAllahu wallatee takhafoonanushoozahunna faAAithoohunna wahjuroohunnafee almadajiAAi wadriboohunna fa-in ataAAnakumfala tabghoo AAalayhinna sabeelan inna Allaha kanaAAaliyyan kabeera
ইংরেজী অনুবাদঃ- সহি ইন্টার ন্যাশনাল-But those [wives] from whom you fear arrogance - [first] advise them; [then if they persist], forsake them in bed; and [finally], strike them.
Pickthall এর অনুবাদ “As for those from whom ye fear rebellion, admonish them and banish them to beds apart, and scourge them. Then if they obey you, seek not a way against them. Lo! Allah is ever High, Exalted, Great.”এ বলা আছে “ scourge” যার অর্থ পেলাম whip; especially : one used to inflict pain or punishment”
ইউসুফ আলীর অনুবাদে বলা আছেঃ- As to those women on whose part ye fear disloyalty and ill-conduct, admonish them (first), (Next), refuse to share their beds, (And last) beat them (lightly);
শাকিরের অনুবাদে বলা আছে”and (as to) those on whose part you fear desertion, admonish them, and leave them alone in the sleeping-places and beat them”
আমার কাছে কোরানের হার্ড কপি বা যে বইটা আছে তা ইউসুফ আলীর অনুবাদ। সেখানেও উপরের মতই। লেখার কলেবর কম রাখার জন্য সুরার শুধুমাত্র সেই অংশ যাতে প্রহারের কথা বলা আছে সেই অংশ টুকুই দিলাম। ৪ জনের অনুবাদেই প্রহারের কথা বলা আছে সুতরাং অনুবাদে ভুল নেই ধরে নিতে পারি।
প্রশ্ন হল কেন প্রহার করা যাবে, বা কিভাবে প্রহার করা যাবে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা কি? MEMRI TV project, আল নাস টেলিভিশন চ্যানেল এ মিশরীয় ইসলামী পন্ডিত সা’দ আরাফাত ৪ফেব্রুয়ারী, ২০১০ এ যা বলেন।
“আল্লাহ প্রহারের অধিকার দিয়ে স্ত্রীদের সম্মানিত করেছেন। হযরত মোহাম্মদ(রাঃ) বলেন “ তাদেরকে কখনো মুখের উপর আঘাত করোনা, তাদের চেহারাকে কলুষিত করো না।দেখুন কত বেশী সম্মান দেওয়া হয়েছে তাদের।মারামারি করার সময় গালিগালাজ করবে না। এটা অবশ্যই চমৎকার। ১০ বারের বেশী প্রহার করবে না, হাড় ভাঙ্গতে পারবে না, ক্ষত সৃস্টি করতে পারবে না, চোখে খোচা দিতে পারবে না’
স্ত্রী প্রহারের নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি রয়েছে। যদি স্ত্রীকে শৃংখলা শেখাতে প্রহার করা হয় তা হলে হাত উপরে তোলা যাবে না, বুকের উচ্চতায় হাত রেখে প্রহার করতে হবে। এই সমস্ত নিয়ম নীতে স্ত্রীদের সম্মানিত করেছে। স্ত্রীদের শৃংখলিত রাখার প্রয়োজন আছে। কিভাবে তাদের শৃংখলার মধ্যে রাখবে? প্রথম ভদ্রভাবে বোঝাতে হবে, ভয় দেখাতে হবে, যদি তাতে কাজ না হয় তো তার বিছানা আলাদা করে দিতে হবে, তাতেও যদি স্ত্রী অনুতপ্ত না হয় শেষ চেস্টা হিসেবে পিটাতে হবে। তবে পিটানোর নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। জোরে পিটানো যাবে না। মুখের উপর বা মাথার কোথাও পিটানো যাবে না। শরীরের কোথাও পিটাতে হবে। পর পর একই যায়গায় পিটানো যাবে না। কি দিয়ে পিটানো যাবে? ছোট লাঠি । প্রকৃত পক্ষে শুধুমাত্র এক ক্ষেত্রেই পিটানো যাবে” যখন স্ত্রী বিছানায় শুতে অস্বীকার করবে। খাবার বা পানিয়ের কারনে পিটানো যাবে না। শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রে পিটানো যাবে যেখানে স্ত্রী ছাড়া স্বামী একা কিছু করতে পারে না। স্বামী চায় স্ত্রীকে নিয়ে শুতে অথচ স্ত্রী রাজি নয়। এ ক্ষেত্রে পিটানো ছাড়া আর কি করার আছে?”
আরো অনেক গুলো ব্যাখ্যা বা তফসির আছে যেখানে কিভাবে প্রহার করা যাবে বলা আছে। যেমন বাহরাইনের ইসলামী পন্ডিতের বক্তব্যে পাওয়া যায় “ছেলে মেয়ের সামনে পিটানো যাবে না, রক্তপাত ঘটানো যাবে না” সুত্র(ইউটিউব)।
সামাজিক ভাবে দেখলে বৌ পিটানো আমাদের দেশে তো আছেই আরব দেশ গুলোতে আরো বেশী। আমার এক মিশরীয় বন্ধুর বক্তব্য হল “ স্ত্রীদের শাসনে রাখতে হবে সুতরাং পিটানো জরুরী, প্রথম রাতেই আচ্ছামত ধোলায় দাও যাতে সে বাধ্য থাকে”। সউদী আরবের জেদ্দা পুলিসের এক রিপোর্টে বৌ পিটানো ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে বলে উল্ল্যেখ করা হয়।
বিদ্রঃ- বক্তব্য সব কিছু ইন্টারনেট থেকে নেওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


