somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবচে' বিষধর সাপ গুলো( Most poisonous snakes of the earth)

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা শিশু সাহিত্যের অন্যতম কবি সুকুমার রায়।
আসল কথাটা বলার আগে তার দুটো কবিতার দুটো লাইন। কবিতার নাম “ বিষম চিন্তা”
“মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার / কোন সাপেতে কাটলে পরে নেইকো কারো রক্ষা আর”
দ্বিতীয় কবিতা নাম “ বাবুরাম সাপুড়ে”
বাবুরাম সাপুড়ে/ কোথা যাস বাপুরে। আয় বাবা দেখে যা / কোন সাপে কত বিষ এই খানে জেনে যা।
বলতে চাইছি সাপের কথা। সাপ অন্যতম বিষধর প্রানী। এরা লুকিয়ে থাকে মানূষের বাসার আশে পাশেই, গর্তে খানা খন্দে, একটা মাত্র ছোবল ইহলীলা সাঙ্গ করার জন্য যথেস্ট। পৃথিবীতে কোন সাপ সবচে বেশী বিষধর তা নির্ধারন করা হয় LD50 দিয়ে। এর অর্থ হল লিথাল ডোজ ৫০ , পরীক্ষাগারে ইদুরের উপর যে পরিমান বিষ প্রয়োগ করলে ৫০% ভাগ প্রানী মারা যায় সেটাই হল LD50 । যে সাপের LD50 যত কম হবে সে সাপ তত বেশী বিষাক্ত। অন্যতম বিষধর ১২ টি সাপ হল-
১২) পাফ এডার- (Puff Edar) আফ্রিকার এই সাপ সবচে বিষাক্ত সাপ নয় তবে সেখানে সবচে বেশী মানুষ এদের কামড়ে মারা গিয়ে থাকে। এরা বাস করে বাড়ী ঘর দোরের আশে পাশে আর এদের অভ্যাস হল রোদ পোহানো। রাস্তার উপর বা বাড়ীর আনাচে কানাচে খোলা যায়গায় সুর্য্যস্নান এদের প্রিয়। খেয়াল না করে পা ফেলেছেন তো রক্ষা নেই। এ সাপের LD50 হল ০. ১৪। এর একটা সাপে যে পরিমান বিষ থাকে তা ৪/৫ জন মানুষের জীবন সংহার করতে যথেস্ট।





পাফ এডার সাপ

১১) জংলী গোখরো-(Forest Cobra) এরা বন জঙ্গলে থাকতে পছন্দ করে এবং সহজেই গাছ থেকে গাছে চলাফেরা করে। দ্রুত এবং সদা সতর্ক গোখরো উত্তেজিত হলে ফনা তোলে আর কামড় দিলে ছাড়ার নাম নেয় না। এর LD50 হল ০.১২ মজার ব্যাপার হল গোখরো সাপের বিষ স্নায়ুরোগ “ আলঝেইমার ডিজিজ” চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

জংলী গোখরো/ কিং কোবরা।

১০) টাইগার স্নেক- (Tiger Snake) অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা এই সাপের বাঘের মতই ডোরা কাটা । এরা থাকে জলাভূমীর আশে পাশেই। LD50 হল ০.১২

টাইগার স্নেক

৯) ডেজার্ট হর্ন ভাইপার – (Desert Horn viper) এই সাপের দুই চোখের উপর দুটো ছোট ছোট শিং থাকে আর এরা কোনাকুনিভাবে লাফিয়ে উঠে কামড়ে ধরতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার এই সাপ সাক্ষাত শয়তান। এর LD50 হল .১0।



ডেজার্ট হর্ন ভাইপার

৮) কমন ক্রেইট-(Common Crait) ভারত উপমহাদেশের এই সাপ অত্যন্ত বিষাক্ত। বাংলায় এদেরকে “কালাছ” , দোমনাছিটি বা শিয়ার চান্দা বলে থাকে। আমাদের উপমহাদেশে সর্বাধিক সংখ্যক বিষাক্ত সাপের একটি হল এটি। এরা দিনের বেলায় কুন্ডলী পাকিয়ে থাকে এবং রাতের বেলায় শিকার করে। সাধারনতঃ শান্ত তবে আক্রান্ত হলে কামড়ে থাকে । এদের কামড়ে ব্যাথা হয় না এবং সাধারনতঃ শ্বাস প্রস্বাসের প্যারালাইসিসের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটে। এদের LD50 .০৯


কমন ক্রেইট/ শংখচুড় সাপ।


৭) বুম স্লাং- (Boom Slang) সুন্দর দেখতে আফ্রিকার এই সাপ অত্যন্ত বিষাক্ত। এর LD50 হল.০৭ খুব ছোট আকৃতির এই সাপের বিষাক্ত দাঁত থাকে পেছনের দিকে। এরা সাধারনত আক্রমন করে না।

৬) টাইগার র‍্যাটেল স্নেক-(Tiger Rattle snake) উত্তর আমেরিকা এবং মেক্সিকোর এই সাপ বেশ বিষাক্ত । এদের LD50 .০৬।




টাইগার র‍্যাটেল স্নেক।

৫) ব্লাক মাম্বা-(Black Mamba) বিষাক্ত সাপদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম আকৃতির এই সাপ সবচে দ্রুত গতিসম্পন্ন। এর হল .০৫। এ সাপে কামড়ালে ১০০% লোক ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টার মধ্যে মারা যেত। এখন এর বিষের ঔষধ তৈরী হওয়াতে মৃত্যুহার অনেক কমে এসেছে।

৪) ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক-(Eastern Brown snake) অস্ট্রেলিয়ার এই সাপ বেশ বিষাক্ত । এর LD50 হল .০৩-.০৫।

ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক।


৩) রাসেল’স ভাইপার(Russel’s Viper) আমদের দেশে এর নাম চন্দ্রবোড়া বা বোড়া। অত্যন্ত বিষধর এই সাপে বাড়ীর আনাচে কানাচে বা মাঠে ঘাটে থাকে। ইদুরের লোভে প্রায়ই এরা বের হয় । এর LD50 হল .০৩ বার্মার ৯০% সাপে কাটা রোগী এই সাপের কারনে ঘটে থাকে।



২) তাইপান- (Inland Taipan) স্থলভাগে বসবাসকারী সবচে বিষাক্ত সাপ। এরা অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা। এর LD50হল .০১ এরা ভীতু ধরনের এবং সাধারনত আক্রমন করে না।




তাইপান- সবচে বিষাক্ত স্থলচর সাপ।

১) সামুদ্রিক সাপ- অধিকাংশ সামুদ্রিক সাপ বিষাক্ত। এদের LD50 .০১ এর ও কম। বড়শি আকৃতির নাক বিশিস্ট( Hook nosed) সামুদ্রিক সাপ সবচে বিষাক্ত । এ সাপের ১.৫ মি গ্রা বিষ একজন পূর্ন বয়স্ক লোকের মৃত্যুর জন্য যথেস্ট। এর বিষ গোখরো সাপের বিষের চেয়ে ৮ গুনের ও বেশী বিষাক্ত।

হুক নোজড সাপ- সবচে বেশী বিষাক্ত সাপ।





সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৩৫
১৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×