somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৫ই আগস্ট হত্যাকান্ডের বিচারের রায় নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ যা লিখলেন

২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"রাইফেলের নলের দিকে এই অবোধ শিশু কীভাবে তাকিয়ে ছিল ভাবলেই আমার বুকে মোচড় দিয়ে ওঠে।"

লজ্জামুক্তি দিবস

হুমায়ূন আহমেদ
১৯ নভেম্বর। দুই হাজার নয়। বৃহস্পতিবার। আমি টিভির সামনে বসে আছি। এগারোটা বাজার অপেক্ষায়। বলা হয়েছে, এগারোটা মাহেন্দ্রক্ষণ। এই ক্ষণে জাতি হয়তোবা লজ্জা থেকে মুক্তি পাবে। সময় একটু বেশি লাগল, প্রায় বারোটা। বিশেষ ঘটনা ঘটল। চৌত্রিশ বছর পর জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের বিচার হলো।
কোলকাতার এক টিভি চ্যানেল থেকে টেলিফোন, তারা জানতে চাচ্ছে আমার কেমন লাগছে? আমি বললাম, লজ্জামুক্তির আনন্দ পাচ্ছি। আজ আমাদের লজ্জামুক্তি দিবস।
আমাকে সরাসরি প্রথম লজ্জা দিয়েছিলেন একজন বিদেশি। তার নাম ড. জেনো উইকস। তিনি নর্থ ডাকোটা স্টেট
ইউনিভার্সিটির পলিমার সায়েন্স বিভাগের প্রধান। এক সকালে হঠাৎ আমাকে বললেন, কফি খাবে? তোমার কফির দাম আমি দেব।
আমি যথেষ্ট আহ্লাদিত হওয়ার ভঙ্গি করলাম। আমেরিকানরা হিজ হিজ হুজ হুজ নিয়মে চলে। অন্যের কফির দাম দেয় না।
প্রফেসরের সঙ্গে মেমোরিয়াল ইউনিয়নের রেস্টুরেন্টে কফি খেতে গেলাম। তিনি কফির মগে চুমুক দিয়ে হঠাৎ করেই পড়াশোনার বাইরে একটা প্রশ্ন করলেন। তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, তোমাদের দেশের জনক একজন বিখ্যাত মানুষ। তাই না?
আমি বললাম, হ্যাঁ।
তার নাম আমার মনে আছে। শেখ মুজিবুর রহমান। হয়েছে?
আমি বললাম, সামান্য ভুল হয়েছে। তার নামের আগে বঙ্গবন্ধু শব্দটি ব্যবহার করতে হয়।
প্রফেসর বললেন, এর অর্থ কী?
আমি বললাম, এর অর্থ বাংলাদেশের বন্ধু। দেশের মানুষ তাকে আদর করে এই টাইটেল দিয়েছে।
বলো কী!
শুধু তাকে না, তার স্ত্রীকেও দেশের মানুষ ডাকে বঙ্গমাতা। এর অর্থ, দেশের জননী।
প্রফেসর বললেন, তোমাদের এসব টাইটেল তো অর্থহীন। তোমরা এই পরিবারটির প্রায় সব সদস্যকে খুন করেছ। খুনিদের রক্ষার জন্য আইন পাস করেছ। হত্যাকারীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার কথায় কি কোনো ভুল আছে?
আমি বললাম, না।
প্রফেসর বললেন, আমাদের দেশের কিছু প্রেসিডেন্ট আততায়ীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা কিন্তু হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য আইন পাস করিনি।
প্রফেসরের সামনে আমি লজ্জায় মাথা নিচু করলাম। তাকে মুখ দেখাতেও লজ্জা লাগছিল। মনে হচ্ছিল, মুখে নোংরা কাদা লেগে আছে।
প্রফেসর জেনো উইকস দু'বছর আগে মারা গেছেন। এই মহাপ্রাণ মানুষ তার সব বিষয়-সম্পত্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে আমি অবশ্যই তাকে বলতাম, স্যার, জাতি হিসেবে আমরা লজ্জায় ডুবেছিলাম। আজ লজ্জা থেকে মুক্তি পেয়েছি।
আনন্দের এই দিনে অন্য একটা প্রসঙ্গ বলতে ইচ্ছে করছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আলামতে আমার মতো অভাজন লেখকের অতি সামান্য ভূমিকা আছে। আমার লেখা সায়েন্স ফিকশন 'তোমাদের জন্য ভালোবাসা' বইটি সেই আলামত। বুলেটবিদ্ধ এই বই নিম্ন আদালতে প্রদর্শিত হয়েছিল।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে যে জাদুঘর আছে, সেখানেও নাকি বইটি আছে। আমি সেই জাদুঘরে কখনও যাইনি। যে বাড়িটিতে ছোট্ট রাসেলের দীর্ঘশ্বাস জড়িয়ে আছে, সেখানে আমি কখনও যাব না।
পনেরো আগস্ট আমার বঙ্গবন্ধুর আগে ছোট্ট রাসেলের কথা মনে পড়ে। রাইফেলের নলের দিকে এই অবোধ শিশু কীভাবে তাকিয়ে ছিল ভাবলেই আমার বুকে মোচড় দিয়ে ওঠে। আহারে আহারে!


তথ্যসূত্র: আমার দেশ পত্রিকার এক পাঠকের কমেন্ট
Click This Link
৩৪টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×