somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুমি চলে যাওয়ার পর

২২ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন মধ্যরাত। সিডনী শহর ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি জেগে আছি। অফিসে। নাইট শিফটের ডিউটি করছি।আজ সেরকম কাজ নেই। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ডাউন। তাই আমাদের কাজ বন্ধ। অল্প কিছু পেপারওয়ার্ক আছে। শেষ করেই চলে বাসায় চলে যাওয়া যায়। ম্যানেজার সে রকমই বলেছে। নাহলে কিছু কলিগ পাশের একটা বারে যাবে একটু গলা ভেজানোর জন্য। সেখানেও যাওয়ার আমন্ত্রন আছে। আমি ওয়াইন-বিয়ার খাইনা জানে... তবে সেসব জায়গায় সফট ড্রিংকস-জুসও পাওয়া যায়। উঁচু শব্দের রিদমিক সুর আর হাসিখুশী নির্ভার চেহারার মানুষের মাঝে ঠান্ডা পানীয় আর হাল্কা আড্ডা মন্দ লাগে না। আজ সেখানেও যেতে ইচ্ছে করছে না। কাজ ধীরে ধীরে শেষ করবো। তারপর গরম কফি নিয়ে কিচেনের কাঁচের দেয়ালের পাশে বসলাম। হাল্কা বৃষ্টিতে সিডনী শহর ভিজে যাচ্ছে। ওপাশে ভিজছে পৃথিবীখ্যাত অপেরা হাউস ও হারবার ব্রীজ। উত্তর সিডনীর এই অফিসের লোকেশন টা দারুণ।
অপেরা হাউস ও হারবার ব্রীজ একসাথে দেখা যায়। ভোরের আলো্য় নীলাভ প্যারাম্যাটা নদীর উপর শঙ্খরঙা প্রমোদ তরীগুলো যখন ভেসে বেড়ায়, তখন কে জানবে এই সুখী শহরে আমার মত একজন দুখী মানুষ বাস করে!

অথচ আমি কত সুখী ছিলাম! তোমাকে নিয়ে। বিজন দেশের ব্যস্ত শহরে এক কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আমাদের আদুরে সংসার। নিবিড়-গভীর প্রেম খেলা, ছোট ছোট মান-অভিমান, রঙ-বেরঙের স্বপ্ন --- কাজ শেষে তোমার প্রতীক্ষামধুর চেহারা, কতোই না ভালো লাগত। সে সময় আমাদের এ'দেশে প্রথম দিকে টিকে থাকার জন্য কতোই না কষ্ট করতে হয়েছে---আমি সারাদিন ভার্সিটিতে থাকতাম, তুমি একটু স্বচ্ছলতার জন্য কাজ করতে কোলসে, আমি মাঝে মঝে একটা সেভেন-ইলেভেনে কাজ করতাম। তারপর বাসায় ফিরে রান্না-বান্না , ঘর গুছানো---সব নিজের হাতেই আমরা করতাম। আমরা এসব আগে করিনি- নতুন নতুন এসব করতে অনেক বেগ পেতে হতো। তবুও ভালোবাসার কি অভাব ছিলো বলো সেই কষ্টের দিনে - আমরা কতোই না কাছকাছি ছিলাম!

আজ আমরা দু'জনেই একার্থে সফল... অথচ তবুও কেনো দূরে!
ভাবতে ভাবতে বুক ঠেলে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে, চোখ জ্বালা করে...
আলো ফুটে উঠেছে ...ক্লীনাররা কিচেন পরিষ্কার করে চলে গেলো, তার আগে একজন সিকিউরিটি গার্ড এসে রুটিন চেক করে গেল। নাহ উঠতে হবে...

রাস্তায় বের হয়ে ভালো লাগছে। বৃষ্টি শেষে গভীর নীল আকাশ, ভোরের রৌদ্র আর ঝকঝকে রাস্তাঘাট। ব্যস্ত মানুষ জন কাজে যাচ্ছে। গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিলাম। গতির সাথে, রৌদ্রের সাথে মন ভালো হওয়ার হয়তো সম্পর্ক আছে। তবুও তোমাকে এড়ানো গেলো না ... আপন মনেই বলে উঠলাম, সোমা কেমন আছো বলো তো? আমাকে কি করে এত সহজে ভুলে গেলে?
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১১ রাত ১১:১৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×