হঠাৎ একদিন। সে দিন মনে হয় বৃষ্টি হয়েছিল। পুবাকাশে একটা রংধনু-আছে কি নেই...এমন সময়, সে নীরবতা ভাঙ্গলো আমার সামনে। বলল, 'মামা, শুনতে চাও? তাহলে এস', এই বলে আমাকে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে গেল সেখানটায়; যেখানে ও প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে। আমাকে দূরে ওই পুবাকাশে তাকাতে বলল।
-কিছু দেখতে পাচ্ছ?
-আমি বললাম না।
-ও বললো, 'দেখো, ওখানে। যেখানে গাছের সারির মাথা গিয়ে ঠেকেছে সটান আকাশে।'
আমি নিশ্চুপ।
ও বলেই চলেছে, গাছের মাথা, আর আকাশের সংযোগস্থলটাকে মনে হচ্ছেনা, একটি সমান্তরাল রেখা?'
'আমি এখানে দাঁড়িয়ে ওই সরল রেখাই দেখি'।
আমি প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেই, ও হাত তুলে থামিয়ে দিল আমাকে। বললো, 'আমার কথা শেষ হয়নি'।
ওই সরলরেখার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে, আমার চোখে ঘোর লেগে যায়। তখন, ওই আকাশ আর গাছ, সব অদৃশ্য হয়ে যায় চোখের সামনে থেকে। জেগে থাকে কেবল একচিলতে রেখা। সরল। তখন আমার মনে হয়, ওই আকাশ কিংবা গাছের জন্ম ওই সরলরেখা থেকে। আমার মনে হয়, সব সৌন্দর্যের মূলে রয়েছে ভীষণ সরল কিছু, যা আমরা দেখিনা, কিংবা, দেখলেও, চোখের দরজায় বেশিক্ষণ থামেনা। আমরা আসলে দেখতেই জানিনা...
ওর কথা আমি এই পর্যন্তই শুনেছি, কারণ, ততক্ষণে আমি দৌড়াতে শুরু করেছি। আমাকে লিখতে হবে। একটা গান। আমার গিটার আমাকে ডাকছে, আমার স্বরলিপিরা আমাকে ডাকছে। বনপাড়ের এই একলা মেয়ের সারল্যমাখা দর্শনটাতে সুর মেশাতে হবে। আমার মনে আছে-আমি কেবল ছুটছিলাম...)
একটি মেয়ে একা
চাইছে পেতে আকাশ জোড়া
নির্জনতার দেখা।
চোখ দুটো তার শেষ সীমানায়
যেখানটাতে গাছের মাথায়,
সবটা আকাশ ঝিমিয়ে পড়ে
হাত বাড়ালেই একটু দূরে
কিন্তু তবু যায়না ছোঁয়া
সেই সে সীমারেখা।
সে অনেক আশার স্বপ্ন নিয়ে,
দুচোখ ভরা জল লুকিয়ে
হাসতে পারে এক নিমিষে
ক্লান্ত রাতের শ্রান্তি শেষে-
তার দুচোখেই স্বপ্ন গুলোর প্রতিচ্ছবি দেখা;
সেই মেয়েটি একা।
এই মেয়েটি'ই নতুন ভোরে,
এই আঙ্গিনায় খুঁজে ফেরে
অনেক দিনের প্রস্থে পাওয়া
একটি নামের স্বপ্ন চাওয়া-
শৈশব সেই নাম মেয়েটির-তারই কাছে শেখা;
এই মেয়েটি'ই একা
একলা মেয়ে
(বিনীত ভাবে বলছি, আমার গানের গলা ভালোনা। হয়তো ভালো গায়, এমন কেউ হলে গানটা আর ভালো হত। আড্ডায় বসে গেয়েছি-তাই পারফেকশন'ও তেমন হয়নি। শোনার সময় দয়া করে স্বজনপ্রীতি করে শুনবেন।)
কথা, সুর, গিটার ও কন্ঠঃ কথক
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



