প্রধানমন্ত্রী সুদূর কুয়েত থেকে হুকুম পাঠানোর পরমুহূর্তে দৃশ্যপটে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবার মন্ত্রী সাহারা খাতুনকে টেক্কা দিয়েছেন, হেলিকপ্টারে উড়ে চলে গেছেন রাজশাহীতে। ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনের হত্যাসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কিত তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করারও প্রয়োজন বোধ করেননি শামসুল হক টুকু। তিনি সরাসরি ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিকে আঙুল তুলেছেন এবং শিবিরকে ‘নির্মূল ও উত্খাত’ করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, দেশের যেখানে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিবিরের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে সেখানেই শিবিরকে ‘নির্মূল ও উত্খাত’ করার হুকুম দিয়েছেন তিনি। তার হুকুমে শুরু হয়েছে ‘চিরুনি অভিযান’! গ্রেফতার করা হচ্ছে শয়ের হিসেবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও কলেজের হোস্টেল থেকে তো বটেই, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর ও নগরীর মেস ও বাসাবাড়ি এবং গ্রামের বাড়িতে পর্যন্ত হামলা চালানো হচ্ছে। বাদ পড়ছেন না জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও। হত্যারও শিকার হচ্ছেন শিবির কর্মীরা। এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একজন এবং চট্টগ্রামে একজন শিবির কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ছাত্রশিবির কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। আইনসম্মতভাবে তত্পর এ ছাত্র সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাও হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে, ১৯৭৭ সালে।
শিবিরের বিরুদ্ধে এই মারমুখী কর্মকাণ্ড শুধু নয়, ছাত্রলীগের প্রতি সরকারের মনোভাবও মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। কারণ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে দৈনিক প্রথম আলোর ভাষায় ‘প্রতিপক্ষহীন’ ছাত্রলীগ সারাদেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল (৮ ফেব্রুয়ারির সম্পাদকীয়)। ভর্তি বাণিজ্যেও ছাত্রলীগ রেকর্ডের পর রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, নষ্ট করেছে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসের শেলের আঘাতে ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু ঘটে মেধাবী ছাত্র আবু বকর সিদ্দিকের। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল যে, সরকার সমর্থক দৈনিকগুলোও ‘ছাত্রলীগকে সামলান’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীকে তাগিদ না দিয়ে পারেনি। টেলিভিশনের টকশোতেও ছাত্রলীগের অপকর্মই প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সরকারের এতদিন টনক নড়েনি। এমনকি ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যুর পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন নিষ্ঠুর মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, এটা একটা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’, ‘এমনটা ঘটতেই পারে’ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিকই’ রয়েছে! সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুতে একেবারে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন। অর্থাত্ অন্য কোনো সংগঠনের কর্মী বা সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে ক্ষমতাসীনদের কিছু যায়-আসে না। তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায় শুধু ছাত্রলীগের কেউ মারা গেলে। এ যে শুধু কথার কথা নয়, বাস্তবেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



