পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ ও দোকানপাট-বাড়িঘরে আগুন দেয়ার পর খাগড়াছড়ি জেলা শহরে গতকাল বিকালে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় কিন্তু সন্ধ্যায় পৌরসভার নাইটগার্ড মোঃ আনোয়ার হোসেনকে শহরের শালবন এলাকায় তার বাড়িতে জবাই করে হত্যা করার পর তার লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর রাত ৯টা থেকে শহরে কারফিউ জারি করা হয়। সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাসদস্যরা টহল দিচ্ছে। পুলিশ ও আর্মড পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধশত আহত হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বাঙালি মালিকাধীন শহরের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বেশকিছু বসতবাড়িতেও আগুন দেয়া হয়েছে। অধিকাংশই বাঙালিদের। বাঙালিপ্রধান শহরাঞ্চলে হামলার আশঙ্কায় অনেকে শহর ছেড়ে গেছেন।
দুপুরের দিকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ও আগুন দিয়ে দোকানপাঠ ও বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এক পর্যায়ে বেলা আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নিজেই শহরের শাহী মসজিদের মাইক থেকে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। সেনাটহল জোরদার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার নাইটগার্ড আনোয়ার হোসেনকে শহরের শালবনের আদর্শ গ্রামে জবাই করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এরপর সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে আনোয়ার হোসেনের লাশ সেই আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। পৌর চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন এই হত্যাকাণ্ড পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ঘটিয়েছে অভিযোগ করে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। আনোয়ার হোসেনের হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাঙালি অধ্যুষিত শহরে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা প্রশাসন মাইকিং করে পৌর ও আশপাশ এলাকায় কারফিউ জারি করে। এ সময় সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া জেলা শহরের রাস্তায় কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


