আম্মু আগে বাড়িতে অনেক কবুতর পুশতো। আম্মু ২টা কবুতরের বাচ্চা নানীবাড়ির কাজের মেয়ে শরিফাকে দিয়েছিল পুশতে। শরিফা কবুতরের বাচ্চা দুইটাকে খুব যত্ন করতো। চেপে চেপে খাওয়াতো। একদিন আমি নানীবাড়িতে গেছি তখন দেখি শরিফার সৎ ভাই এসেছে। সে একটা কবুতর চাইল, কিন্তু শরিফা দিল না। ওর ভাই বলল, পরে তোকে দেখে নিবো। একদিন শরিফা কবুতর দুইটাকে খাওয়াচ্ছিল, তখন হঠাৎ নানী ডাকলো ওকে। ও কবুতর দুটোকে ফেলে ভিতরে গেছে তখন কয়েকটা কাক এসে কবুতর দুটোকে ছোবল মেরে নিয়ে গেল। শরিফা খুব দুঃখ পেল। ও নানীর কাছে কান্নাকাটিও করলো অনেক। নানী শান্ত্বণা দিয়ে বলল, ঠিক আছে, তোকে ওদের বাড়ি থেকে আবার কবুতর এনে দিবো। এরই মধ্যে শরিফার ভাই আসলো, এবং যেই শুনলো কবুতর দুটোকে কাকরা ধরে নিয়ে গেছে, শরিফাকে আচ্ছা করে মারলো।
শরিফা রাগে ক্রোধে অন্ধ হয়ে গেল এবার। আমার কাছে একটা দড়ি চাইলো। কিন্তু আমি কোথায় দড়ি পাবো?!! আমি বললাম, আম্মুর কাছে গিয়ে দেখগা, থাকতে পারে হয়ত। আমাদের বাড়িতে যেয়ে আম্মুর কাছ থেকে নিয়ে এলো। আমি ভাবতেও পারছিলাম না ও এর পর কি করতে পারে! সে কোথা থেকে যেন ঘুমের ওষুধ যোগার করলো, আমার সামনেই ও ওষুধগুলোকে গুড়ো করে আটার সাথে মিশালো। তারপর রুটি করতে লাগলো। বিস্কুটের মত ছোট ছোট রুটি। আমি এত জিজ্ঞেস করি, কি করবি শরিফা এগুলো দিয়ে? শরিফাটা কোনো কথাই বলেনা।
তাই আমিও কৌতুহলী মন নিয়ে চুলার পাশে শরিফার সাথে বসে ছিলাম। এরই মধ্যে শরিফার ভাই আবার এল। কেড়ে কেড়ে রুটিগুলো খাওয়া শুরু করলো। যখন ওর ভাই রুটিগুলো খাচ্ছিল শরিফা তখন একটা কথাও বলেনি। বাকী রুটিগুলো সব কাকদের মধ্যে বিলি করে দিলো। শরিফার ভাই রুটিগুলো খেয়ে হাই তুলতে লাগলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। অন্যদিকে, কাকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।
এরপর শরিফা যা করলো তা বর্ণনাতীত!! শরিফা তখন আম্মুর কাছ থেকে আনা সেই দড়িটা দিয়ে ফাঁসির মতো করলো!!
তারপর সেই অজ্ঞান হওয়া কাকগুলোর গলায় পেঁচিয়ে ফাসি দিয়ে দিয়ে মারতে লাগলো। এভাবেই আমার চোখের সামনেই খুন হয়ে গেল ৫টা জীবন্ত কাক!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

