somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এইটার টাইটেল কি দিবো তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ

২২ শে মে, ২০০৯ রাত ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় আউলা আমাকে বলত, তুই হাসবি না। তোর দাঁতগুলো ছোট ছোট হাসলে তোকে ভালো লাগে না। ভাব নিয়ে চলতে শেখ। আমিও তার কথা মত হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে হাসতাম। একবার পিটি পরীক্ষার সময় পিটি স্যারের সামনে মুখ চেপে ধরে হাসছিলাম তখন স্যার বলেছিলেন, সব লজ্জা দাঁতে তাই না? ওইটা ঢেকে রাখা হয়? দেখি “ই” করো। আমার অনেক প্রেস্টিজে লেগেছিল। ঐ স্যার অনেক মজা করতেন তাই সবাই উনাকে অনেক পছন্দ করত কিন্তু আমি স্যারকে ঐ ঘটনার পর দেখতে পারতাম না। :)


একবার আউলা আর তার বান্ধবী আমাকে বললো নিচতলায় গিয়ে একজনের সাইকেলের পাম্প ছেড়ে দিতে। আমি প্রথমবার ঐ কাজ করতে যেয়ে ধরা খেলাম আরিফ ভাইয়ের কাছে(কাজিন)। উনাকে আমি অবশ্য বলে দিয়েছিলাম আউলা আমাকে এই কাজ করতে বলেছে। উনি ভালো ছাত্রের মত করে বুঝিয়ে বললেন, আউলা বদ বলেই এগুলো করে...তুমি করবা না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি আউলাদের কাছে যাওয়ার পর আউলারা আমাকে ব্লেইম করতে লাগলো ওই কাজ না করাতে। শেষে আমি আবার গেলাম এবং পাম্প ছাড়ার সাথে সাথে বিকট শব্দ হল। ওইটাই আমার জীবনের প্রথম সাইকেলের পাম্প ছাড়া তাই আমি শব্দের চোটে লাফিয়ে উঠে ছিলাম। ওরা উপর থেকে আমাকে দেখে হাসাহাসি করতে লাগলো। হঠাৎ চমকে গেলে কেমন যেন লাগে, তার উপর যদি তারা হাসাহাসি করে তখন মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমিও রেগে গেলাম।

আর এদিকে আরিফ ভাই শব্দ শুনে আবার ফিরে আসলেন এবং আমাকে কান ধরে ভিতরে নিয়ে আচ্ছা ছ্যাঁচা দিলেন এবং এমনকি হুমকি দিতে লাগলেন আম্মুকে বলে দিবে। আমি কোনোরকম হাতে পায়ে ধরে ফিরে আসছিলাম। অনেকদিন সেই অপমানি মনে ছিল। আউলাদেরকে অনেকদিন পাত্তা দিতাম না ঐ ঘটনার পর :)

ক্লাস সিক্সে পড়ি তখনকার ঘটনা স্কুলে বসে আমার একটা মাড়ির দাঁত নড়তে লাগলো। যাদের দাঁত দেরিতে ওঠে তাদের দাঁত পরে পড়ে। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। কিন্তু ক্লাস সিক্সে দাঁত পড়াটা একটু বেশিই কেমন যেন ছিল। আমার বান্ধবী মিতুকে নড়বড়ে দাঁত দেখাতেই সে টান মেরে তুলে দিয়ে খিক খিক করে হাসতে লাগলো আর বসে থাকলো। আমার যে বাইরে যেতে হবে সেইটা তো তার বোঝা উচিত ছিল তখন কিন্তু সে! আমার তখন কথা বলার অবস্থা ছিল না। আমার রাগে গা জ্বলে যাচ্ছিল। কিন্তু ওকে কিছু বলতেও পারছিলাম না। আমি খাতায় লিখে বললাম বাইরে যাবো তো স্যারকে বলো। ঐটা ছিল অসীম কুমার কুন্ড স্যারের ক্লাস। ম্যাথ ক্লাস ছিল। কিছু ছেলে মেয়ে ম্যাথ নিয়ে স্যারের সাথে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল আর ঘিরে রেখেছিল স্যারকে। মিতু সেইখানে গিয়ে স্যারকে ডাকতে যায় আর হেসে কুটিকুটি হয়। শেষে স্যারকে বললো, স্যার বাইরে যেতে হবে। স্যার বলে দিলেন, এখন ফোর্থ পিরিয়ড বাইরে যাওয়া যাবে না। তখন সে হাসতে হাসতে বললো, স্যার একজনের দাঁত পড়েছে। ক্লাসে পুরো হইচই পড়ে গেল। স্যার একবার বললেন, কই দেখি কার দাঁত পড়েছে? আমি সামনে দাঁড়াতেই পোলাপাইন হাসে আর গড়াগড়ি খায়। আমার তখন অনেক মন খারাপ হয়েছিল...মিতুকে ধরে একটা থাপ্পড় মারতে ইচ্ছা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আমি দুইদিন মনের দুঃখে স্কুলে যাইনি।:)


এখন ছোটবেলার এসব ঘটনা আজকে সকালে লিখেছিলাম নিজের জন্য। এখন এসব ঘটনা মনে করলে হাসি পায়। ছোটবেলার জীবনটার সাথে এখনকার জীবনে কত পার্থক্য! কোনো টেনশন ছিল না তখন। কোনো কাজ করতে চাইলেই করতে পারতাম আর এখন কোনো কিছু করার আগে একশবার ভাবতে হয়। ছোটবেলায় অন্যায় করলে বকা, মাইরেই মাফ পেয়ে যেতাম। আর এখন সামান্য ভুল করলে মানুষ বকা দেওয়ার পাশাপাশি কথা বলা বন্ধ করে পেইন দিতে থাকে। রুচিরও কত পরিবর্তন। পরীক্ষার পর নিশ্চিন্তে থাকতাম। এখন পরীক্ষার পরও পড়াশুনা করতে হয়। যত বয়স বাড়ছে জীবনটা ততই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কোনো দায়িত্ব ছিল না তখন, দায়িত্ব নিতে চাইলেও দেয়া হতো না আর এখন চাপিয়ে দেওয়া হয়। X(মাঝে মাঝে খুশিতে নাচানাচির মত অবস্থা হয় আবার কিছুক্ষণ পরেই বিভিন্ন অশান্তিতে খুশি ভোঁ দৌড় দেয়। অবশিষ্ট কালো চুলগুলো বোধহয় আর কালো রাখতে পারবো না।:(
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৯
৪০টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×