কাককে মানুষ এত কুৎসিত বলে কেন আমি ভেবে পাই না। আমার কাছে কাককে অসম্ভব সুন্দর একটা পাখি মনেহয়। কাকের সব চালচলন বেশ আধুনিক। সব থেকে ভাল লাগে কাকের দেখেও না দেখার ভঙ্গিমাটা। তারা ময়লা আবর্জনা খেয়ে আমাদের পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে যথেষ্ট পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ করে। অথচ তাদেরকে মনুষ্য সমাজ অবজ্ঞার চোখে দেখে। কাকের উপকারীতার ব্যাপারটা আমি কার্টুন দেখে উপলদ্ধি করতে শিখেছি। আমাদের সমাজে একটা ভ্রান্ত ধারণা কার্টুন শুধু বাচ্চারাই দেখবে, বড়দের দেখার জিনিস এগুলো না। কিন্তু শিক্ষার শেষ নাই। ছোটবেলায় অনেক সুশিক্ষা মানুষ পায় না। অনেকের ক্ষেত্রেই কিছু ঘাটতি থেকে যায়। এই ঘাটতি থাকলে আমাদের সমাজে বলে কমন সেন্স এর ঘাটতি। এই ঘাটতি কার্টুন দেখে দূর করা যেতে পারে। তাই আমার মতো কার্টুন দেখা শুরু করুন। বয়স কোনো ব্যাপার না।
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার একটা পোষা কাক ছিল। কাকটার সাথে আমার পরিচয় শীতের এক সকালে বাড়ির ছাদ থেকে। আমি প্রতিদিন ছাদে রোদ পোহাতে যেতাম। আমার হাতে থাকতো একটা পড়ার বই। ভাবখানা ছিল আমি পড়তে ছাদে ঘুরছি। আসলে আরাম করতাম শুধু। একদিন আমি রুটির মধ্যে ভাজি ভাজ করে খেতে খেতে ছাদের চারপাশে ঘুরছিলাম। একটা কাক ভদ্রলোকের মতো ঘুরঘুর করছিল। আমি তখন খেতে না পেরে রুটির এক টুকরো তাকে খেতে দিলাম। সে ভয়ে ভয়ে রুটির টুকরোটা নিয়ে পালিয়ে চলে গেল।
তারপরদিন একই ঘটনা। এভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পর কাকটা আমাকে আর ভয় পেত না। প্রতিদিন ঐ সময়ে সে আমার সাথে নাশ্তা করতে আসতো। কিন্তু কিছুদিন পর আমি ছাদে যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। একদিন আমার এক কাজিনকে বললাম, ছাদে একটা কাক বসে আছে কিনা দেখে আসতে। সেই কাজিনটা আবার কাক বিষয়ে বেশ অভিজ্ঞ ছিল। সে ছাদে গিয়ে অবাক হয়ে গেল এবং নিচতলায় এসে বিকট একটা চিৎকার দিলো।
তবে বেশ কয়েকবার কাকের আচরণে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। সেই ঘটনা দুইমাস পরে লিখবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

