somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দশ বছরে কোটিপতি সাতাশ হাজার (কপি পেষ্ট)

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটি পড়ে আমি তো অবাক! যেখানে আমরা বারবার শুনছি দেশে সবকিছুর দাম বাড়তি। সব জিনিসপত্রই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে, সেখানে দেখি উল্টো হিসেব।

দেশে কোটিপতির সংখ্যা অতি দ্রুত বাড়ছে।

তাই লেখাটি আপনাদের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না।

গত তিন বছরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাবে নতুন করে তালিকায় যোগ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটিপতির নাম। সাড়ে তিন দশকে ব্যাংকে আমানতকারী কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৫০০ গুণেরও বেশি। ২০১০ সালে বৈধ কোটিপতির সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ হাজার। এর আগের বছর ২০০৯ সালের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার জন বেশি। ২০০১ সালে ছিল ৫ হাজার ৭৯৯ জন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত এক তথ্যে এ সংখ্যাতত্ত্ব উঠে এসেছে। অর্থাৎ গত ৯ বছরে দেশে কোটিপতি বেড়েছে ২২ হাজারেরও বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক হিসাবের চেয়ে দেশে কোটিপতির সংখ্যা অনেক বেশি। ব্যাংকে সে অনুযায়ী নগদ অর্থ না থাকলেও স্থায়ী সম্পত্তি, জমি, বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসায়ের মূলধন হিসাব করলে কোটিপতির সংখ্যা বাড়বে বহু গুণ। এদিকে ব্যাংকের কোটিপতি গ্রাহকরাই বেশি করে ঋণ নিচ্ছেন। তাদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। জনপ্রতিনিধিদের তালিকাতেও কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে। অনেক কোটিপতির ব্যাংকে কোটি টাকা নেই, কিন্তু কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈধ কোটিপতির তালিকায় সেসব ব্যক্তির নাম নেই। এসব কারণে কেউ
অবৈধভাবে বেনামে একাধিক হিসাবে টাকা রাখলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন। কোটিপতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্নীতির যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়লেও সরকারের রাজস্ব আয়ে তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। মাথাপিছু জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন কোটিপতিরা। পাশাপাশি দেশে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য প্রকট হচ্ছে বলে এক তথ্যে জানা গেছে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে মাত্র ২২ পরিবার ছিল কোটিপতি। সেখানে ৭ জন ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের। ১৯৭৫ সালে বিভিন্ন ব্যাংকে যাদের হিসাব বা অ্যাকাউন্ট ছিল তাদের মধ্যে কোটিপতি ছিলেন মাত্র ৪৭ জন। ২০০৯ সালে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ হাজার ১৩০ জনে। সর্বশেষ ২০১০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪০০ জনে। কোটিপতিদের মধ্যে ঋণ নেওয়ার হার প্রায় ৬৫। তাদের অনেকে ঋণখেলাপি। ২০০৯ সালের তুলনায় কোটিপতি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেড়ে ২০১০ সালে হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪০০ জন। আগের বছর ছিল ২৯ হাজার ৪৫৮ জন। সম্প্রতি আমানতকারীদের অবস্থা সম্পর্কে প্রস্তুত করা প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত আমানতকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১০ সালের হিসাবের প্রতিবেদনও শিগগির চূড়ান্ত করা হবে।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ সমকালকে বলেন, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে কোটিপতির সংখ্যা বাড়বে। পুঁজিপতিরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা মজুদদারি, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও ইনসাইড ট্রেডিং করছেন। আমানত থাকায় প্রচুর ঋণ নিয়ে সেখান থেকে টাকা কয়েক গুণ বৃদ্ধি করছেন। অনেকে জমির মূল্য বেশি দেখানো, এক খাতে ঋণ নিয়ে অপর খাতে বিনিয়োগ করছেন। দুর্নীতির সঙ্গেও তাদের জড়িত হওয়ার পরিমাণ বেশি।
তিনি বলেন, কোটিপতি বাড়লে বৈষম্যও বাড়ে। কারণ সেবা খাত, জমি ও নির্মাণ খাতের উন্নতি হলেও উৎপাদনশীল খাতে টাকার প্রবাহ সে তুলনায় কম। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও সেটা স্পষ্ট। অথচ কালো টাকা ও অবৈধ কোটিপতির সংখ্যা এর অনেক বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিভিন্ন ব্যাংকে ২৩ হাজার ১৩০ জন কোটিপতির মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৪৪ কোটি টাকা। সরকারি মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানতকারী কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৬০১ জন। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ১ হাজার ৮৫৪ জন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ১ হাজার ৯৯৬ কোটিপতির হিসাব রয়েছে। ২০০৮ সালে ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩। তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।
ঋণগ্রহীতার তালিকায় কোটিপতিরাই বেশি : কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যার চেয়ে কোটিপতি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেশি। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণপ্রবাহের ৬৫ শতাংশেরও বেশি ঋণ কোটিপতিদের দখলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১০ সালে কোটিপতি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪০০ জন। ২০০৯ সালে ১ কোটি টাকার ওপর ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৫৮। তাদের নেওয়া ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোটিপতি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ২০৬ এবং গৃহীত ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণপ্রবাহের সাড়ে ৬২ শতাংশ। ২০০৭ সালে কোটিপতি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২১ হাজার ২১৫ জন এবং গৃহীত ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণপ্রবাহের সাড়ে ৬০ শতাংশ।
বাড়ছে সামাজিক বৈষম্য : ১৯৭৩ সালে মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১১০ ডলার। ২০১০ সালে এসে হয়েছে ৭৫১ মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোটিপতির সংখ্যা এবং তাদের আয় বাড়ার কারণেই জাতীয় আয় বাড়ছে। ফলে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য হ্রাসে তুলনামূলক অগ্রগতি খুবই নগণ্য।
কোটিপতি জনপ্রতিনিধি : সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ১২৮ জনই কোটিপতি। সংসদ সদস্যদের ঘোষণা অনুযায়ী ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে ২১ জনের। সম্পদের বর্ণনা দেওয়া আছে কিন্তু মূল্য উল্লেখ নেই এমন সম্পদ হলফনামা থেকে বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়েছে।
কোটিপতিদের বিকাশ :১৯৭৫ সালে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবধারী ৪৭ জন কোটিপতির মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ১০ শতাংশ। ১৯৯০ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৩ জনে। আর তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ১২ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৯৪। তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংক খাতের মোট আমানতের প্রায় সাড়ে ২০ শতাংশ। ২০০১ সালের শেষের দিকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা হয় ৫ হাজার ৭৯৯ জন। ২০০৬ সালের শেষর দিকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪৯ জন।
এক নজরে সর্বশেষ ৬ বছরে কোটিপতির সংখ্যা
২০১০ সালে প্রায় ২৭ হাজার ৪০০, ২০০৯ সালে ২৩ হাজার ১৩০, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩, ২০০৭ সালে ১৬ হাজার ৬৩৩ জন, ২০০৬ সালে ১৪ হাজার ৪৯ ও ২০০১ সালে ৫ হাজার ৭৯৯ জন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×