somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দূর থেকে দেখা বি,ডি,আর, বিদ্রোহ

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৫শে ফেব্রুয়ারি,সকাল ৯টা

আমার দিনের কার্যসূচিঃ
১।সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য অগ্রিম ৫০০/= দিতে হলে যেতে হবে।
২।প্রেমিকার(ও ঢা,বি, এর ছাত্রী) সাথে ১১টায় দেখা করতে হবে(ও ধানমন্ডি ৩ এ টিউশনি করাতো ওখানেই যাব,ওর পড়ান শেষ হবে)

আমি হলে গিয়ে সেই বন্ধুকে টাকাটা দিয়ে বেরুতেই তার ফোন।আমি ভাবলাম হয়তো পড়ানো শেষ।ধরতেই বললো ওর এক বান্ধবী ফোন করছিলো(তার বাসা জিগাতলায়),তার ভাই আবার বুয়েট এর ছাত্র উনি বাসা থেকে বেরুনোর সময় বি,ডি,আর এ গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তার বোনকে বাসা থেকে বেরুতে না করছেন।
আমাকে সে(প্রেয়সী) বললো "তুই এইদিকে আসিস না।"
আমি বললাম "কালকে থেকে তো বি,ডি,আর, সপ্তাহ শুরু হইছে বোধহয় তার কোন মহড়া চলতেছে।"
ও শুনে বললো-"তাই বল তোদের বুয়েট এর ছেলেগুলা তো ফার্ম এর মুরগী গুলির শব্দ শুনেই ভাবছে কিনা কি হইছে"

যাহোক কথা বলতে বলতে পলাশী চলে আসছিলাম।গাড়ী চলতেছে,সবকিছু স্বাভাবিক।

ফোন রেখে আজিমপুর গেলাম বাসে উঠলাম,গন্তব্য ধানমন্ডি ৩।
হঠাৎ দেখলাম বি,ডি,আর, এর ড্রেস পরা একজন পলাশী থেকে বি,ডি,আর, এর গেটের দিকের রাস্তায় গাড়ী ঢুকতে দিচ্ছেন না।বাপ্যারটা সন্দেহজনক মনে হল।কিছুক্ষণ পর সিভিল ড্রেসড সানগ্লাস পরা একজন আমাদের বাসকে ওখানে দাড়াতে না দিয়ে সামনে এগুতে বললো।আমি নিশ্চিত হলাম কিছু একটা হইছে।প্রেয়সীকে ফোন দিয়ে বললাম পড়ান শেষ হলেও বাসা থেকে না বেরুতে আমি না আসা পর্যন্ত।

বাস নীলক্ষেত এ আসলে যারা উঠলো তাদের কাছ থেকেই শুনলাম বি,ডি,আর, এর ভিতরে খুব গোলাগুলি হচ্ছে।বাস নীলক্ষেতে দাড়ালো।এর মধ্যে প্রচন্ড গুলির শব্দ।ড্রাইভার কে বললাম তাড়াতাড়ি বাস টানতে।বাস থেকে নামলাম সিটি কলেজ এর সামনে।নামলাম।৩ নং রোডে ঢুকে কিছুদূর এগুতেই এক এস,আই, সাহেবকে ঘিরে মানুষজনের ভিড় দেখলাম।ঊনি বললেন ভাই আমি এখনো কিছু জানিনা।আমাদের শুধু অর্ডার দেয়া হইছে যেন সাধারণ মানুষজন বি,ডি,আর, এর কাছে না যায়।

ফোন দিতেই সে নেমে আসলো।বললাম চল আজকে আর না ঘুরে বাসায় চলে যাই।সে নারাজ।বলে চল ভার্সিটির দিকে চলে যাই।আমরা তখন সাইন্সল্যাবের ওভারব্রীজে উঠলাম।হঠাৎ তুমুল গুলি আরম্ভ হল।এতক্ষণে উৎসুক জনতা যারা সিটি কলেজের সামনে ভিড় জমায় দাঁড়ায় ছিল তারা দৌড়াতে আরম্ভ করল।সকাল ১১:১৮ তে আমরা ওভারব্রীজের উপরে থাকতে প্রথম আর্মির বহর এসে নিউমার্কেটের সামনে থামলো।যতদূর মনে পড়ে ২/৩ টা জিপ এবং ২টা বড় ট্রাক ভর্তি।আমরা এলিফ্যান্ট রোড ধরে কাটাবনের দিকে এগুলাম।আর্মি আসার পরেই ট্রাকের ভিতরে বসে থাকা বুলেটপ্রুফ হেলমেটপরা পুলিশ সদস্যরা নেমে আসতে সাহস পেল।তারা তখন এসে দোকানের ঝাপ ফেলার জন্য নির্দেশ দিতে লাগলো।একটা জিনিস মজা লাগতেছিল আমরা যেই জায়গা ক্রস করি সেই দোকানের ঝাপ ফেলতেসে।যেন আমরাই অর্ডার দিচ্ছি।এর মধ্যে এলিফ্যান্ট রোডের গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হল।আর্মি আসার আগ পর্যন্ত মিরপুর রোডের গাড়ীও চলতেছিল।খালি কয়েকটা টি,ভি, চ্যানেলের গাড়ী প্রচন্ড বেগে সাইন্সল্যাবের দিকে গেল। আমরা কাটাবন হয়ে হাটতে হাটতে নীলক্ষেত থানার মোড় দিয়ে ভার্সিটিতে ঢুকে পরলাম।পিছনে তাকায় দেখি বি,ডি,আর, এর ভিতরে কালো ধোয়া।ভিসির বাড়ীর সামনে থাকতে দেখলাম SWAT সদস্যরা ২ গাড়ীতে অদ্ভুত ভঙ্গিতে গাড়ীর বাইরে এক পা দিয়ে যাচ্ছেন।যেন এখনি লাফায় নেমে যুদ্ধ শুরু করবেন আর কি।পরে ভার্সিটিতে কিছুক্ষণ বসে চলে আসলাম।পরে দুপুরে মিরপুরে ফিরে একটা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে নিউজ আপডেট দেখে আমার চক্ষুচরকগাছ।এত বিশাল কিছু হইছে তার আগ পর্যন্ত বুঝি নাই।
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×