somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'ডিজিটাল' বাংলাদেশ কি 'ডিজিটাল' ধাপ্পাবাজী?

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিন্দুকের মুখে ছাই পড়ুক। নিজ মুখে নিজে ছাই দিয়ে দু'টি কথা লিখি।

৯০ দশকে প্রথম মান্যবর ড: ইউনুস , ড: জামিলুর রেজা চৌধুরী প্রমুখ ভারতের অন্ধ অনুকরণে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ কে 'ডিজিটাল' বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান।' স্বপ্নের' সোনার কাঠি রূপার কাঠি নিয়ে ভারত থেকে উড়ে আসে NIIT এর মত প্রতিষ্ঠান। যোগ হল গ্রামীন ব্যাংক এর ব্রান্ড ন্যাম নিয়ে Grameen Education ইত্যাদি।
Computer Programmer হবার স্বপ্নে বিভোর 'ইদু-মেদু-গেদু রা' ভিটা মাটি, মায়ের হাতের বালা বিক্রি করে সারি দিলো ঐ সব ভেলকি বাজির দোকানে। অংকে আতংক? No problem! HSC ফেল ? থোরাই কেয়ার! Pure Arts Back ground কুছ পরোয়া নেহি!
'চাকুরী তোমাকে খুজছে' চটকদার বিজ্ঞাপন।আজব Computer Programmer বানানো মেশিন ! এক বৎসরে ছয় Programme হাতের মুটোতে .........ছয় মাসে Visual basic, C, C+, Oracle !
চাকুরী ও হচ্ছিল প্রথম প্রথম । যদিও Computer Programmer নয়, ঐ সব ট্রেনিং সেন্ন্ট্রারের ট্রেনার।মন্দ কি? বেতন তো লোভনীয়। ঢাকার গন্ডি পেরিয়ে মফস্বল শহরের পর্যন্ত খোলা হল অসংখ্য ট্রেনিং সেন্ন্ট্রার। বিশাল কর্ম যজ্ঞ বিশাল নেটওয়ার্ক।াার ব্যবসার কতাটা কি বলব।
কিন্তু , এ ফানুস কত দিন টেকে? তিন বছর ঘুরতে না ঘুরতে আসল স্বরূপ বেরিয়ে গেল। NIIT নামের পাখিগুলো সীমানা পেরিয়ে উড়ে গেল। ফকরবাজ এনজিও-এর মত ড: ইউনুস স্যারের Grameen Education রাতের আধাঁরে দে চম্পট্ । গাঁও গেরামের কিছু নাছরবান্দা ছেলে 'গরীব দরদী',' গ্রাম উন্নয়নের পথিকৃত' ড: ইউনুস স্যারের সাক্ষতের আশায় ঘুরঘুর কররো এখানে সেখানে । দেকা স্যার নিশ্চয়ই করতেন; কিন্তু তিনি তখন মহাব্যস্ত দেশে বিদেশে। নোবেল প্রাইজ কমিটির কানে তার নাম টা গেছে, শুধু তাদেঁর মাথা গেঁথে বসাটা বাকি আর কি। নরওয়ের লোকদের সাথে অন্য এক ডিজিটার গেমে তখন মহা উৎসাহ। গাঁও গেরামের Unculture ছেলে-পেলে ভি আই পি পাড়ায় ঘুর ঘুর করে আর ইউনুস স্যার কে খুজে; কত বড় সাহস।ইউনুস স্যার সাথে দেশের মান সন্মান বাধাঁ। সুতরাং রাষ্ট্র যন্ত্রের তো Tolerate করা উচিত না এ সব গাঁও গেরামের পোলাপান কে?

ইউনুস স্যার অর্থনীতির মানুষ Profit Lose ভাল বুঝেছিলেন সুদের ব্যবসা করতে গিয়ে। রেজা স্যার ব্যবসা টা বোঝেন না, নিপাট শিক্ষক মানুষ, এই অধমকে স্ট্রাকচারাল মেকানিক্স পড়াঁন বুয়েটে। পয়সায় নির্লোভ , তবে হাততালি টা খুব ভাল লাগে। এটা মনে হয শিক্ষককূলের মুদ্রাদোষ। রেজা স্যার পাঁচ তারা হোটেলে সাটিফিকেট বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে বিগলিত।
'ডিজিটাল বাংরাদেশ! ডিজিটাল বাংরাদেশ!'

চার বৎসরের লং্কা কান্ড শেষে বুঝা গেল। Computer Programmer হতে গটে বিদ্যা থাকা চাই। ছয় মাস চার মাসে বা এক বৎসরের ঘষা মাজায় Computer Programmer হওয়া যায় না।চাই বিজ্হানের ছাত্র , চাই চার বৎসরের অনার্স কোর্স।
সুতারাং , ঢাকা শহরের সব হাইরাইজ বিল্ডিং দখল করে ,কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্ট্রার কে বানাও বিশ্ববিদ্যালয়।এক নতুন ব্যবসা , এ ব্যবসা চললো ২০০০ সাল পর্যন্ত রমরমা ভাবে ।
একদিন সত্য বিকশিত হল। ডিজিটাল বাংলাদেমের যোদ্ধাদের দেশে ভাত নেই। ৯/১১ পরে বিদেশের ভাত ও বন্ধ হল। ফলাফল, খোদ বুয়েটেও কেউ আর কম্পিউটার পড়তে চায় না। কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরাও হতাশ......সুমন কুমার নাগের মত ছাত্রর কই।

ঠেকে ঠেকে দুধের বাচ্চারাও বেশ পেঁকে উঠেছে,এবার ডাইরেক্ট ব্যবসা শেখা।
ভেবেচিরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে লিখব্ কোথা থেকে কোথায় চলে গেলাম। প্রথম লেখা তাই আশা করি পাঠক মাপ করবেন।আবার কূল হারাবার আগে একটি কথা বলে শেষ করি।

আমাদের দেশ চালায় কিছু সত্যিকারের বুড়ো আমলা, নতুন কিছু নিজেরা শিখবার বিন্দু মাত্র আগ্রহ তাদের নাই , যদিও বৈদেশিক ট্রেনিং এর জন্য দৌড় ঝাপের অন্তঃ নেই।এই সব মাথা ভারি প্রশাসন কে নিয়ে ডিজিটাল বাংরাদেশ হবার নয়্ । তবে নতুন কোন ব্যবসা হবে। নতুন কোন ভেরকি বাজি হবে।ডিজিটাল বাংলা দেশের নামে াপেক্সা করচে কি নতুন কোন ধাপ্পা বাজি?

আশার কথা এই যে, আজকের কম্পিউটার প্রজন্ম যখন এ সব আমলাদের জায়গায় পৌছাবে তখন নিশ্চয়ই ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে। ভাবার বিষয়, ততদিনে টেকনলজিটা না অচল হবে যায় নতুন কিছুর কাছে।

'ডিজিটাল' বাংলাদেশ দীর্ঘজীবি হও!!!!!!!!!!!

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বন্ধুকে আর খুঁজে পেলাম না।।

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ০২ রা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

বন্ধুকে বলেছিলাম,
চল সাগর দেখি আসি,
একসাথে সাগরের ঢেউ দেখে ফিরেছিলাম।
আবার বলেছিলাম,
চল পাহাড় দেখি আসি,
পাহাড়ের চূড়া ছুঁয়ে ফিরে এসেছিলাম।
আরেকদিন বলেছিলাম,
চল প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাই,
সবুজের সৌন্দর্য মেখে ফিরেছিলাম।
বন্ধুকে বললাম,
চল আমরা রাস্তার পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×