স্কুল জীবনে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বইয়ের তিনটি হাদিস মনে খুব দাগ কেটেছিল। কিন্তু , পরবর্তীতে অন্য কোথাও ধর্মীয় আলোচনা, ওয়াজ-মহাফিল ,ধর্মীয় বহাচ কিংবা জুম্মার খুতবায হাদিস তিনটির উচ্চারিত হতে শুনিনি। সম্ভবত হাদিসত্রয় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে।
নিষিদ্ধ হাদিস একঃ
"পরনিন্দা মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষনের সমতুল্য।"
আমাদের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ধর্মের বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। কিন্তু, পরস্পরের কুৎসা রচনায় অনেক সময় শ্রোতাদের কানে আঙ্গুল প্রবেশ করানো ছাড়া উপায় থাকে না। ধর্মীয় ওয়াজ মহাফিলের নামে ধর্মীয় লেবাজধারীরা পরচর্চায় আরও বেশি সরস, বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যদি হন নারী তাহলে তো কথা নেই।
নিষিদ্ধ হাদিস দুই
" যে মুসলমান প্রতিবেশিকে অভূক্ত রেখে নিদ্রা যায় , সে আমার উম্মত নয়।"
সরকারী স্বীকৃত পরিসংখ্যানে এদেশের ৩০% মানুষ প্রতিদিন প্রয়োজনীয় খাদ্যের তুলনায় কম খাদ্য গ্রহন করে দারিদ্রতার কারণে।অভূক্ত রাত যাপন তাদের নিত্যদিনের কথকতা। ৭০% শিশু সুষম খাদ্যাভাব জনিত অপুস্ষ্টির স্বীকার হওয়া কারণে শারীরিক ও মানুষিক অপরিনততা নিয়ে বেড়ে উঠছে।অপর দিকে , ৮% মানুষের ক্রয় ক্ষমতা পূর্ন করার সামর্থ্য আমাদের আভ্রন্তরীন বাজারের না থাকায় প্রায়শই এদেশ ওদেশ শপিং এ যেতে হয়।নবীজি (সাঃ) উম্মতত্ব প্রমাণে বছরের অন্তত্য একবারের জন্য মক্কা শরীফ- মদীনা শরীফে ভ্রমণ না করে আত্মা তৃপ্তি হয়না।
নিষিদ্ধ হাদিস তিন
" মজুরের /শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগে প্রতিশ্রুত ন্যায পারিশ্রমিক/ মুজুরী প্রদান কর।"
সরকারী -বেসরকারী সকল প্রতিস্ঠানে বকেয়া মুজুরী আজ এতো সাধারণ ঘটনা যে এটা আমাদের নজরে আসে না। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক মুজুরী / বেতন সম্পর্কে কি বলব? এক-দুই তিন মাস বকেয়া শ্রমিক বেতন , বেতনহীন শ্রম ঘন্টা , ওভার টাইম চুরি কাহিনী কথিত সভ্য সমাজের নজরে আসে না। শ্রমিকের যথা সময়ে যথা মুজুরী প্রদান শুধু বাংলাদেশে কর্মরত শ্রমিকদের অশ্রুসজল কাহিনী নয়। সেই পবিত্র ভূমি নবীজি (সাঃ) এর দেশ সৌদি আরবে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন যন্ত্রণা অবিচ্ছেদ অংশ।
অথচ, যখন ঐ সব অর্বাচিন-নারায়েক-আনপড়া শ্রমিকরা বেতনের দাবীতে রাজপথে নেমে আসে তখন তারা চিহ্নিত হন রাষ্ট্রীয় বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী হিসাবে। প্রতিবেশী বিধর্মী রাষ্ট্রের চর হিসাবে।
উপসংহার
এ যুগে এসে উল্লেখিত হাদিস ত্রয়ের মত আরও অনেক হাদিস নিষিদ্ধ হয়ে গেছে অথবা কিতাবের তলায় ঠাই পেয়েছে। যারা ইসলামের মৌলিকতা নিয়ে সদাসোচার তাদের নজরে কি হাদিসের এই বিলুপ্তি নজরে পরে না। নাকি নজরে পরলেও তারা চোখ বন্ধ করে থাকেন।
প্রকৃত সত্য হচ্ছে, শাসক শ্রেনী তাদের তলপি বাহক মোল্রা মৌলভীদের সহায়তায় একদিকে শ্রমিক শ্রেনীর রক্ত চোষা কে জায়েজ করছে , অপর দিকে ধর্মের আফিম খাইয়ে মানুষের সাধারণ মনুষ্যত্ববোধ জনিত শক্তিকে পঙ্গু করে রেখেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

