আমার প্রিয় পোস্ট

সমূদ্র বক্ষে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ব্যয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কে স্বচ্ছ করার প্রয়াস।

১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১৭

শেয়ারঃ
0 4 0

যারা বাংলাদেশের তেল-গ্যাস সম্পদ পি এস সি চুক্তির আওতায় আন্তজাতিক তেল কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া সঠিক/ সংগত মনে করে , তারা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কয়েক টি পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। আমি আগামী ২৪ অক্টোবর দেশের স্বার্থ বিরোধী পিএস সি চিক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় কনভেনশণের আগে সে সকল বক্তব্য একে একে খন্ডনের চেষ্টা করবো।
একটি অন্যতম বক্তব্য হচ্ছে যে , সমূদ্রে বক্ষে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয় বহুল এবং যেহেতু এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার কাঙ্খিত ফলাফল লাভ অনিশ্চিত তাই আন্তজাতিক তেল কোম্পানির নিকট গ্যাস ব্লক ইজারার মাধ্যমে নিজ কাঁধ হতে বিপুল বিনিয়োগ ঝুকি হ্রাস করতে পারবে।

এই বক্তব্য কতটুকু সঠিক/সত্যাশ্রয়ী তা বিচারের আগে সমূদ্র বক্ষ বা ভু-ভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কিভাবে পরিচালিত হয় সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত সাধারণ ধারণা দিতে চাই। অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কে দুই টি পর্যায়ে ভাগ করা যায় , যে দুই পর্যায়ে একদিকে যেমন ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির প্রয়েজন হয় , অপর দিকে ভিন্ন ভিন্ন কারিগরী দক্ষতার প্রয়োজন হয়।

প্রথম পর্যায়: ভু-তাত্ত্বিক ও ভূ-পদার্থিক অনুসন্ধান পর্যায়।

ভূ-তত্ত্ববিদ ( Geologist) রা প্রথমে ভূস্তরের উপরি কাঠামোর উপর সাধারণ পর্যবেক্ষণ ও নমুনা সংগ্রহের করে মাটির সাধারণ ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে তেল-গ্যাসের জন্য সম্ভাবনাময় অঞ্চল অনুসন্ধান চালান। আধুনিক কালে স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে এই প্রাথমিক ভু-তাত্বিক উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এখানে উল্লেখ যে পি এস সি -২০০৮ এর আওতায় সমূদ্র বক্ষের ব্লকগুলো ইজারা প্রস্তাবের আগে দরপত্রে অংশ গ্রহণকরারীরা সে সকল উপাত্ত বিশ্লেষন করেই ইজারা প্রস্তাব পেশ করেছে।সমূদ্র বক্ষে ব্লক ইজারার দরপত্রে অংশ গ্রহণকরীদের নিকট রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে তার 'ডাটা সেন্টার থেকে ' এ ধরণের ৯ কোটি টাকার ডাটা বিক্রি করেছে।( এজিএম রিপোর্ট , বাপেক্স ২০০৮)

ভূতাত্ত্বিকদের বিশ্লষণের ফলাফলের উপর সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে ভূ-পদার্থবিদরা দ্বি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে (2 D Seismic Survey) পরিচালনা করে ভূ-গর্ভস্থ ভূতাত্ত্বিক গঠনের উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় এবং উক্ত উপাত্তের বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য গ্যাস স্তরের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান-গঠন-বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা করা হয়।


স্থল ভাগে দ্বি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে (2 D Seismic Survey) পরিচালনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রঅয়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের রয়েছে দীর্ঘ সাফল্যমন্ডিত অভিজ্ঞতা।এই য়োগ্যতার প্রমান হচ্ছে ২০০৩-২০০৪ সালে ভু-ভাগের ব্লক-৯ এর কর্মরত আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি টাল্লো ( যাকে সমূদ্রে একটি ব্লক ইজরা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে) বাপেক্স কে তাদের দ্বি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে (2 D Seismic Survey) জন্য সাব-কন্ট্রাকটর হিসাবে নিয়োগ দেয়।বাঙ্গুরা-লালমাই-চাঁদপুর অঞ্চলে ৫৭২ লাইন কিমি সফল সাশ্রয়ী জরিপের ফলাফল হিসাবে চুড়ান্ত পর্যায়ে 'বাঙ্গুরা' গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে এবং লালমাই এ গ্যাস স্তরের সন্ধান পাওয়া গিযেছে।

দ্বিতীয় পর্যায়: অনুসন্ধান কূপ খনন পর্যায়।

ভূ-পদার্থবিদদের অনুসন্ধান ফলাফলের উপর কারিগরি সম্ভাব্যতা ও আর্থিক লাভজনকতা বিচারে অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়। যা মূলত: একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া।উক্ত খননের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে উক্ত গ্যাস/ তেল অঞ্চল কে আবিষ্কৃত তেল/ গ্যাস ক্ষেত্র হিসাবে ঘোষিত হয় এবং উৎপাদন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়।

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে , তেল/গ্যাস অনুসন্ধানের এই দুই পর্যাযের মধ্যে প্রথম পর্যায় টি সময সাপেক্ষ , Hazardous ও অধিক জনবল নির্ভর।১৯৯৩/৯৪ এবং ১৯৯৭ সালে স্থল ভাগের ২৩ ব্লকের মধ্যে সেই সকল ব্লকের (১২ টি ব্লক) আই ও সি গুলো মূলত আকৃষ্ট হয়ে ইজারা প্রস্তাব করেছে এবং বর্তমানে তাদের কর্মকান্ড ( ইজারাকৃত ১২ টি মধ্যে ৬ টি) পরিচালনা করছে যে সকল ব্লক অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্টান সমূহ উপাত্ত সংগ্রহের কষ্টকর ও সময় সাপেক্ষ কাজ পূর্বে অনেকাংশে সম্পূর্ণ করে রেখেছে।

প্রসঙ্গ : অনুসন্ধান পর্যায়ের খরচ।

আন্তজাতিক তেল/গ্যাস কোম্পানিগুলো দুই পর্যায়ে পৃথক ভাবে সাব-কন্ট্রাকটর নিয়োগের মাধ্যমে তাদের অনুসন্ধান কাজ পরিচলনা করে। তাই দুই পর্যায়ে খরচে খাতা সে জন্য সম্পূর্ণ আলাদা এবং ব্যয় প্রস্তাব পেট্রোবাংরার কাছে আলাদা আলাদা ভাবে করা হয়।
অপর দিকে বাংরাদেশের গ্যাস/তেল সেক্টরের একমাত্র অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্স প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধান খরচ নিজ তহবিল থেকে বহন করে । এ ক্ষেত্রে ২০০৮-২০০৯ এর খরচ হিসাবে প্রতি লাইন কিমি দ্বি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে (2 D Seismic Survey) জন্য বাপেক্সের খরচ ১ লক্ষ টাকার সামাণ্য বেশি। যদি ও ২০০৩-২০০৪ সালে টাল্লোর সাব-কন্ট্রাকটর হিসাবে প্রতি লাইন কিমি জন্য বাপেক্স ৩ লক্ষ টাকা পেয়ে ছিল।
২০০৮ সালে ব্লক -৭ এ শেভরণ ২৫০ কিমি ভু ভাগ ও ২১০ লাইন কিমি ভু-সংলগ্ন সমূদ্রাঞ্চলে ( ভু ভাগ থেকে ২০ কিমি এলাকার মধ্যে) সর্বমোট ৪৬০ লাইন কিমি অনুসন্ধানে জন্য ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ( ৮৪ কোটি টাকার) ব্যয় প্রস্তাব দাখিল করেছে।
যদি প্রাথমিক ভাবে আমরা ধরে নেই যে ভু-ভাগ ও স্থল ভাগে দ্বি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে (2 D Seismic Survey) খরচ কম-বেশি সমান ( ধরে নেই কথা টি পরে ব্যাখ্যা করবো) তবে প্রতি লাইন কিমি তে শেভরণের প্রস্তাবিত খরচ (৮৪ কোটি ভাগ ৪৬০ লাইন কিমি =)১৮.২৫ লক্ষ টাকা । অর্থাৎ বাপেক্সের একই সময় কালের খরচের ১৮ গুন বেশি।

প্রশ্ন উঠবে দ্বি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে (2 D Seismic Survey) জন্য খরচ ভুভাগে ও সমূদ্র কি একই ? কম-বেশি হলে কোন ক্ষেত্র কম কোন ক্ষেত্রে বেশি?
আন্তর্জাতিক তেল/গ্যাস কোম্পানিগুলো দালাল প্রযুক্তিবিদরা লুকোচুরির আশ্রয় নিয়ে সাধারণের মনে ধারনা সৃষ্টি করেছেন যে , '' দ্বি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে (2 D Seismic Survey) খরচ ভূ ভাগে তুলনায় সমূদ্রাঞ্চলে অনেক বেশি।'' আসুন প্রকৃত সত্য জানি আমেরিকা থেকে প্রকাশিত Michel Lavergne এর Seismic Methods বই টি তে।

On the whole , the total cost Kilometer of the survey , including data acquisition and processing , is much higher onshore , $5000 to $10,000/km, as compared with $ 500 to $1000/km offshore.If this is compared with the cost of petroleum drilling , which is generally very high offshore, the cost of marine seismic survey is sufficiently low to justify its systematic implementation for the exploration and development of offshore fields.


Michel Lavergne তাঁর বই ১৯৮৬ সালে মার্কিন মূল্লুকের ভুভাগ ও সমূদ্রাঞ্চলের অনুসন্ধান খরচ তুলনা করে দেখিযেছেন যে , ভুভাগের তুলনায় সমূদ্রাঞ্চলে ব্যয় প্রায় এক দশমাংশ। আমরা যদি সেই হিসাবে শেভরণের ২১০ লাইন কিমি সমূদ্রাঞ্চলের সার্ভে খরচ কে স্থলভাগের সার্ভের সাথে তুলনা করি তবে তা ২১ লাইন কিমি স্থল সার্ভের সমত্যুল হয়। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে প্রতি লাইন কিমি খরচ দাড়ায় ...........

২১০ লাইন কিমি সমূদ্রাঞ্চল সার্ভে খরচ = ২১ লাইন কিমি স্থল ভাগ সার্ভে খরচ।
অর্থাৎ শেভরণ প্রস্তাবিত ব্লক ৭ এর ২৫০ কিমি ভু ভাগ ও ২১০ লাইন কিমি ভুসংলগ্ন সমূদ্রাঞ্চলে সার্ভে = (২৫০+২১=) ২৭১ লাইন কিমি স্থল সার্ভে খরচ।

মোট ব্যয় প্রস্তাব ৮৪ কোটি টাকা ।
প্রতি লাইন কিমি সার্ভে খরচ (৮৪ কোটি ভাগ ২৭১ লাইন কিমি =) ৩০.৯১ লক্ষ টাকা । যা বাপেক্সের একই সময় কারে ব্যয়ের ৩০/৩১ গুন ।

সমূদ্র বক্ষে অনুসন্ধাণের বিশাল ব্যয়ের যে তথ্য উপাস্থান করা হয় , তাতে এক মিথ্যাচার লুকায়িত আছে। ।উপরের আলোচনায় নিশ্চয়ই এটা স্পষ্ট হযেছে যে , তেল/ গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ ভুতাত্তিক জরিপ পর্যায়ের খরচ স্থল ভাগের চেযে অনেক কম।
স্থল ভাগে ব্লক-৩,৬ ও ১১ এ সাম্প্রতি রাষ্ট্রিয় খরচে ৩১০০ লাইন কিমি সার্ভে জন্য বিদেশি কোম্পানি কে নিয়োগ করে 2 D Seismic Survey পরিচালনার যে প্রকল্প Fast Track Programme হাসিনা সরকার সাম্প্রতি গ্রহণ করেছে , সে অর্থে কম-বেশি ৩১ হাজার লাইন কিমি সমূদ্রাঞ্চলের 2 D Seismic Survey সম্পূর্ণ করা যায়। ( দেশিয় যৌগ্য জনবল থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে ভুতাত্ত্বিক দল ভাড়া করে কযেকগুন বেশি ব্যয়ে এ ধরনে অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ রহস্য জনক।)

এ বিষয়ে দ্বিমত নেই য়ে , সমূদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কূপ খনন ব্যয় বহুল।তবে সমূদ্রাঞ্চলে সাশ্রয়ী অর্থে 2 D Seismic Survey এর ফলাফলে প্রাপ্ত উপাত্তে উচ্চ সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধাণ কূপ খননে বিনিয়োগ করলে তা নিঃসন্দেহ সাফল্য নিযে আসবে।( আশা রাখি সাগর বক্ষে অনুসন্ধান কূপ খনন বিষয়ে আগামী তে লিখবো।)



 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৬
দিনমজুর বলেছেন:
খুবই কাজের পোস্ট। সরাসরি প্রিয়তে....
১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৪২

লেখক বলেছেন: Seismic Methods বই টার লিংক দিলাম। সময় নিযে পড়ার অনুরোধ রইলো।

২. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮
দিনমজুর বলেছেন:
কিছু প্রশ্ন করি:
১। টু ডি সিসমিক সার্ভে গ্যাস প্রাপ্তির কতখানি নিশ্চয়তা দিতে পারে?
২। ত্রি-ডি সার্ভে কি আমরা করতে পারি? এটা কি টু-ডি সার্ভে'র তুলনায় অধিক কার্যকর?
৩। প্রথম পর্যায়ের কাজটির উপরই নির্ভর করছে- অনুসন্ধান কূপ খনন করে গ্যাস প্রাপ্তির সফলতার হার। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ের কাজটির যথাযথভাবে করতে পারলে- রিস্ক ফ্যাক্টরও অনেক কমে আসতে পারে।- আমরা কি এটা বলতে পারি?
৪। ভারত যে তার সাগর বক্ষে ১০০ টিসিএফ এবং মায়ানমার ৭ টিসিএফ সাম্ভাব্য গ্যাসের কথা বলছে- সেটা কি অনুসন্ধান কূপ খনন করে বলছে, নাকি প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধান করেই বলছে?
৫। প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধানে যদি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম পাওয়া যায়- তারপরেও কি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়? তা যদি না হয়- তবে রিস্ক ফ্যাক্টরটি আসলে কেমন?
১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৫

লেখক বলেছেন: ১। টু ডি সিসমিক সার্ভে গ্যাস প্রাপ্তির কতখানি নিশ্চয়তা দিতে পারে?

আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের অনুসন্ধান কূপ খননে উচ্চ সাফল্যের ( স্বাধীনতা উত্তর কালে ১৭ টি কূপ খনন করে ৯ টি ক্ষেত্র আবিষ্কার) কারণ কোন অলৌকিকত্ব নয়।কারণ খনন সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘ দিনের নিবির দ্বিমাত্রিক সার্ভের ফলাফলের উপর নির্ভর করে করা হয় এবং দ্বি মাত্রিক জরিপে উচ্চ সম্ভাব্য স্থানে নেওয়া হয়।

২। ত্রি-ডি সার্ভে কি আমরা করতে পারি?

বাপেক্সের জন্য ১৯৯৭-২০০৫ মেয়াদ কালের একটি প্রকল্পের আওতায় ১৩.০৫ কোপি টাকা ব্যয়ে ত্রি মাত্রিক অনুসন্ধানের এক সেট যন্ত্র পাতি ক্রয় করা হয় এবং ১২ জন কর্মকর্তা কে ফ্রান্স থেকে প্রশিক্ষন দিযে আনা হয়। উল্লেখ্র ১৯৮৯ সারে বাপেক্স গঠনের পর এটাই সরকারের এক মাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়াস।

আজ পর্যস্ত উক্ত ত্রিমাত্রিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়নি।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড ও সিলেট গ্যাস ফ্লিডের অধীন ক্ষেত্রগুলোর বিদ্যমান মুজুদ যাচাই জন্য এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ১৪৫.৭৪ কোটি টাকায় '' Appraisal of Gas Fields (3-D Seismic) '' প্রকল্প ২০০৬ সালে একনেক অনুমোদিত হয়। ২০১০ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষের কথা থাকলেও সরকার তরফ থেকে বার্ষিক বরাদ্দ না পাওয়া ২০০৯ জুলাই পর্যন্ত উল্লেখ যোগ্য কোন অগ্রগতি হয় নি।

সরকারের এই গড়িমরসির কারণ সম্পর্ক নিন্দুকরা বলেন যে, এই মূল্যায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রামাণিত মুজুদের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। যা সরকার কে দেশিয় কোম্পানিদ্বয়ে অধিকতর উৎপাদন বৃদ্ধি সির্দেশ প্রদান ও দেশি কোম্পানির কাছ হতে অধিক গ্যাস ক্রয় জন্য চাপের মুখে ফেলবে, যা বিপরীত ক্রশে আই ওসি গুলোর উৎপাদন হ্রাসের পরিস্থিত সৃষ্টি করবে ।এবং আই ও সি-র নিকট নতজানু সরকার তাদের সমূদ্রে ব্লক ইজারায় তড়িঘড়ি যৌক্তিকতা হরাবে।

এটা কি টু-ডি সার্ভে'র তুলনায় অধিক কার্যকর?

ত্রি-মাত্রিক সার্ভে মূলত আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রের প্রকৃত মজুদ নির্ণয় করে সামগ্রিয় উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহরের জন্য করা হয। যেহেতু আই ও সি গুলো সামগ্রিক কর্ম পরিকল্পণা - উৎপাদনের হার নির্ধারন পূর্বক লাভালাভ বিবেচনায় উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করে তাই তারা জন্য থ্রি ডি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন , বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র প্রথমে অনুসন্ধান কূপ সফলতা পেযেছে ।তারপর থ্রি ডি সার্ভে হয়েছে।যার ফলাফলের উপর শেভরণ নিধারণ করেছে সে কত টি উন্নয়ন কূপের মাধ্যমে এই সাথে উৎপাদন শুরু করবে।বর্তমানে বিবিয়ানায় ১২ টি উন্নয়ন কূপ থেকে ক্ষেত্র টি থেকে এক যোগে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

থ্রি ডি ব্যয় বহুল হওয়ায় (অতন্ত ভুভাগে) বিস্তৃণ অঞ্চলে এটা কারা লাভজনক নয়।অর্থাৎ অনুসন্ধানকূপ খনন করে সফল হওয়ার পর থ্রি ডি সার্ভে তে যেতে হয় , এতে কত টুকু অঞ্চলে সার্ভে হবে ধারণা করা যায়।

পি এস সি -১৯৯৭ অনুযায়া আই ও সি র জন্য থ্রি ডি আরেক টি কারনে গুরুত্বপূণৃ কারন সেখানে উত্তোলণ যোগ্য প্রমানিত মুজুদের ৭.৫০% বার্ষিক উৎপাদনের একটি সিলিং আছে।
সুতরাং মোট মুজুদ না জানা গেলে সর্বোচ্চ দৈনিক উৎপাদন হার নিধারণ সম্ভব নয় ।

১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪২

লেখক বলেছেন: ৩। প্রথম পর্যায়ের কাজটির উপরই নির্ভর করছে- অনুসন্ধান কূপ খনন করে গ্যাস প্রাপ্তির সফলতার হার। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ের কাজটির যথাযথভাবে করতে পারলে- রিস্ক ফ্যাক্টরও অনেক কমে আসতে পারে।- আমরা কি এটা বলতে পারি?

৫। প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধানে যদি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম পাওয়া যায়- তারপরেও কি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়? তা যদি না হয়- তবে রিস্ক ফ্যাক্টরটি আসলে কেমন?

---------------------------------------------------------------
ভূতাত্ত্বিকরা দ্বি মাত্রিক উপাত্তের উপর নির্ভর করে প্রতিটি ক্ষেত্র সম্পর্কে একটা অনুমানিত প্রাপ্ত্যতার হার নিধারণ করেন। সে কারণে নিবির জরিপ ভুতাত্ত্বিকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশ সহায়তা করে। যা অনিশ্চয়তা কে কমিয়ে দেয়।

প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধানে যদি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম পাওয়া যায়- তারপরেও অনেক সময় ( বর্তমানে আমাদের দেশে নয়) অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়।আমাদের দেশে ৬০-৭০% নিশ্চিত না হয়ে অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয় না।

তবে কত রিস্ক ফাক্টর হলে খনন করা হবে কত হরে হবে না এ ধরনের কোন সুনির্দিস্ট গাইড লাইন নেই ।এ টা সম্পূর্ণ বিনিয়োগ কারী optimistic vs pessimist দৃষ্টি ভঙ্গির উপর নির্ভর করে।

৩. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬
দিনমজুর বলেছেন:
.....
৬। বাপেক্স কি গভীর সমুদ্রে ২ডি সিসমিক সার্ভে করতে পারে? মানে এমুহুর্তে বাপেক্সের এবিষয়ে টেকনিক্যল এক্সপার্টিজ আছে কি না?
৭। এরকম এক্সপার্টিজ যদি এ মুহুর্তে না থাকে- তা অর্জন করতে কিরকম সময় দরকার?
৮। বাপেক্সের একটা কূপ খনন করতে বা প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধান করতে বা গ্যাস উত্তোলন করতে কিরকম খরচ লাগে- সেটা আমরা জানি, মানে বাপেক্সের বিভিন্ন রিপোর্টেই সেগুলো পাওয়া যায়। কিন্তু আইওসি খরচের যে বাজেট ধরে বা পেট্রোবাংলা বরাবর পাঠায়- সেগুলোর কপি পাওয়া কি সম্ভব? যেমন- আপনার লেখায় ২ডি সার্ভে'র একটা তুলনামূলক খরচের হিসাব আছে- সেরকম কি আরো বিস্তারিত পাওয়া সম্ভব?
৪. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৮
ফাহমিদ বলেছেন: ধন্যবাদ লেখক কে!
আমরা চাই আপনি আরও লিখুন
আমরা আপনার সাথে আছি

এসো সবাই দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে
দেশকে ভালবাসতে শিখি

আমরা না ভালবাসলে আর কেউ কি বাসবে?

ধন্যবাদ আবার ও লেখক কে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৯৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্রষ্টার করুণা প্রত্যাশি হয়ে নয়। স্বর্গের লোভে নয়। নরকে ভয়ে ভীত হয়ে নয়। সৎ থাকতে ভাল লাগে, তাই সৎ থাকি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই