
বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে দাড়ায়ে আমার মত অনেকেই মনে হয় স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে পরেছেন বারংবার। সীমান্ত অতিক্রম করতেই সুউচ্চ পাহাড়ের মাথা মেঘের রাজ্য ফুরে কোথায় হারিয়ে গেছে।বৎসরের এই সময়টাতে দূর পাহাড়ের বুকে রোদ্র -ছায়ার খেলার রূপ যে কাউকে আত্মহারা করবে। আর রৌদ্র উজ্জল বর্ষার দিনে দূরের কালো ( ঘন সবুজ) পাহাড়ে ঝরণার জলে রোদের ঝিলিক আপনা সীমান্ত ওপারে ছুটে যাবার হাতছানি দিবে।
সীমান্তের ওপারে মেঘালয় রাজ্য।
রূপ আর রহস্যের দেশ মেঘালয় যেন এক হীরক রাজার দেশ। আমি ছবিতে ছবিতে আজ আপনাদের সেই হীরক রাজার দেশের কাহিনী শোনাব।
হীরক রাজার দেশেঃ

মেঘালয়ের নয়নাভিরাম এই পর্বতমালার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শত-শত ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত ইদুরের গর্তে মত ছোট ছোট কয়লার খনি। যন্ত্র সভ্যতার যুগেও এই খনিগুলো পরিচালিত হয় প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রযুক্তিতে। আর এর কয়লা খনিগুলোতে কর্মরত রয়েছে ৭০ হাজার শিশু শ্রমিক । বাংলাদেশ, নেপাল, আসাম, ঝাড়খন্ড আর বিহার থেকে পাচার হয়ে আসা এই শিশু শ্রমিকদের বয়স ৭ থেকে ১৭ বৎসর।

আসুন সেই সব শিশুদের কথা শুনি।

জিরো নামের ১০ বৎসরের বালকটি তার মায়ের সাথে দিন ভর কয়লা খুটে তুলে কুড়িয়ে ঝুড়িতে ভরে।

বিহার থেকে আগত রুপেশ কুমার নামক ১২ বৎসরের বালকটি হাতুড়ি দিয়ে খনি থেকে তুলে আনা কয়লা ভঙ্গছে।

আসামের শিলচর থেকে আগত ৮ বৎসরের 'সাইফুল' দিনের এক ঝুড়ি কয়লা কুড়িয়ে ২০ রুপি আয় করে।

নেপাল বালক সুনীর তাঙ্গমা ( ১৪ বৎসর) স্কুলের পাঁকে কয়লা খনিতে কাজ করে।

১৫ বৎসরের নেপালি বালক 'সানু রাই' কে প্রতিদিন এ রকম পিচ্ছিল-ভাজা বাঁশের মই বেয়ে নামাতে হয় ১৫০-২০০ ফুট গভির খনির তলদেশে।

ঝাড়খন্ডের রাজু প্রধান (১৪), রাজ বার্জ্য (১৭) তাদের অনান্য সাথীদের মতই শৈশব থেকে ইদুরের গর্ত ( কয়লা খনির গর্তের নাম) কয়লা তুলে আনে।

মনোজ, বিনোদের মত আর অসংখ্য দরিদ্র নেপালী শিশু পাচার হয়ে জয়ন্তিয়া পাহাড়ের খনিগুলো তে এক রকম বন্দী।

শিশুগুলোর উপর্জিত পয়সার অনেকাংশ শুষে নেয় এ রকম খনি মালিক বা অনুগতদের পরিচালিত ভিসিডি ক্লাব।

আসামের ১৬ বৎসের রেহমানুদ্দীন তার সর্দার অর্জুন দত্ত ও তাজুদ্দীনের সাথে কয়লা খনির মাটি কাটে।

আসামের অনিল সুভা (১৭) কয়লা খনির বাইরে কামারশালায় তার গাইতী টাকে তীক্ষ করে নিচ্ছে।
***************************************************

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



