ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত তা হিসাব করার জন্য বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা উচিত। দেশের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অতীতের মজুরির পরিমাণ, কতটুকু আয় করলে একজন শ্রমিক দারিদ্র্যসীমার উর্ধ্বে উঠবে, প্রতিদিন কতটুকু সুষম খাবার লাগে এবং অন্যান্য খরচ কত এসব হিসাব করতে হয়।
দারিদ্রসীমার মানদন্ডঃ
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করতে হলে একজন মানুষের দৈনিক ২ ডলার আয় প্রয়োজন।
৪ জনের একটি পরিবার ধরলে পরিবারের আয় হওয়া উচিত........
৪ x ৩০x ২ = ২৪০ ডলার প্রতি মাসে।
১ ডলার সমান ৭০ টাকা ধরলে তা দাঁড়ায়.......
২৪০x ৭০ = ১৬৮০০ টাকা।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ে উপর্যাজনক্ষম হলে...................
প্রতিজনের মাসিক উপার্জন গড়ে ৮৪০০/- টাকা।
পুষ্টিবিজ্ঞানের মানদন্ডঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হিসাব করে দেখিয়েছে..........
দৈনিক ১০ ঘণ্টা কাজ করলে একজন পুরুষ গার্মেন্টস শ্রমিকের ৩৩৬৪ কিলোক্যালরি এবং নারী শ্রমিকের ২৪০৬ কিলোক্যালরি তাপ লাগে।
এ হিসাবকে ভিত্তি ধরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট মজুরি বোর্ডে যে হিসাব দাখিল করেছে এখানে তা পুরোই তুলে ধরা হলঃ-
সাধারণভাবে একজন মানুষের জন্য তাপশক্তি কত লাগে এটা হিসেব করতে হলে বিভিন্ন কাজে কত কিলোক্যালরি তাপলাগে তা জানা দরকার।
স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের একজন মানুষের প্রতি মিনিটে তাপশক্তি প্রয়োজন হয়ঃ
মাঝারি গতিতে হাঁটলে (১২ মিনিটে ১ কিঃ মিঃ) ৪ কিলোক্যালরি
মাঝারি ধরনের কাজে ৩ কিলোক্যালরি
ঘরের কাজে ২ কিলোক্যালরি
বসে থাকতে (টিভি দেখা, গল্প করা) ১·৫ কিলোক্যালরি
ঘুমানোতে ১ কিলোক্যালরি।
এ হিসাবে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের প্রতিদিন কত কিলোক্যালরি তাপ প্রয়োজনঃ
৮ ঘণ্টা কাজ (৮x৬০x ৩) = ১৪৪০ কিলোক্যালরি
৮ ঘণ্টা ঘুম (৮x৬০x ১) = ৪৮০ কিলোক্যালরি
১ ঘণ্টা বিরতি (১x৬০x ১·৫) = ৯০ কিলোক্যালরি
২ ঘণ্টা ওভারটাইম (২x৬০x ৩) = ৩৬০ কিলোক্যালরি
২ ঘণ্টা ঘরের কাজ (২x৬০x ২) = ২৪০ কিলোক্যালরি
২ ঘণ্টা অবসর/আড্ডা/গল্প (২x৬০x ১·৫) = ১৮০ কিলোক্যালরি
১ ঘণ্টা হাঁটাঃ কর্মক্ষেত্রে
যাওয়া-আসা (১*৬০*৪) = ২৪০ কিলোক্যালরি
অর্থাৎ দিনে ২৪ ঘন্টায় সর্বমোট = ৩০৩০ কিলোক্যালরি
(নারী শ্রমিকদের ওজন ৫০ কেজি ধরলে এটা কিছুটা কম হবে। আবার সন্তানসম্ভবা কিংবা প্রসব পরবর্তী সময়ে কিছু বেশি লাগবে। এখানে আরো একটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। গার্মেন্টসের একজন নারী শ্রমিক ঘুমায় কতক্ষণ? এক হিসাবে দেখা গেছে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। তাকে রান্নার জন্য লাইন দিতে হয়, বাথরুমে যাবার জন্য লাইন দিতে হয়। ফ্যাক্টরিতে দেরীতে আসলে মজুরি কাটে কিন্তু দেরীতে ফিরলে সে অনুযায়ী মজুরি বাড়ে না।)
সুষম খাদ্য দ্বারা এই ক্যালরির প্রয়োজন মেটালে শারীরিক সুস্থতা এবং কর্মশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। মোট খাদ্যের ৫৭ শতাংশ কার্বহাইড্রেট যেমন চাল, আটা দ্বারা, ৩০ শতাংশ চর্বি জাতীয় খাবার যেমন তেল, ঘি, মাখন দ্বারা এবং ১৩ শতাংশ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ দ্বারা পূরণ করা দরকার। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ খুবই প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ এবং শক্তি ব্যবহার করার জন্য। আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম শক্তি উৎপাদন করে না কিন্তু এগুলোর অভাব হলে শরীর কর্মক্ষম থাকতে পারে না। ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্যের জন্য শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন।
বাজারে প্রাপ্ত সস্তা খাবার দ্বারা যদি একজন শ্রমিক তার শক্তি ও পুষ্টি রক্ষা করতে চায়, তাহলে প্রতিদিন নিম্নরূপ খরচ হবেঃ
খাদ্য পরিমাণ কিলোক্যালরি বাজার মূল্য (টাকা)
১· চাল ৫০০ গ্রাম ১৮০০ ১৬·০০
২· আটা ৫০ গ্রাম ২০০ ১·৫০
৩· ডাল (মসুর নয়, ছোলা) ৬০ গ্রাম ২০০ ৩·৫০
৪· তেল (সয়াবিন) ৫০ মিলিলিটার ৪৫০ ৪·৫০
৫· ডিম ১টি ৭০ ৬·৫০
৬· মাছ ৬০ গ্রাম ৮০ ৬·০০
৭· আলু ১০০ গ্রাম ১০০ ১·৫০
৮· শাক-সবজি ১৫০ গ্রাম ৫০ ৩·০০
৯· কাঁচা মরিচ, মশলস্না, হলুদ ২·০০
১০· ফল ১টি কলা বা আমড়া ৫০ ৪·০০
১১· রান্নার খরচ ১০·০০
১২· চা দিনে ২ কাপ ৬·০০
সর্বমোট ৩০০০ কিলোক্যালরি ৬৪·৫০ টাকা
(অসুস্থ হলে খরচ বাড়বে। শিশুদের ভাত কম লাগবে কিন্ত অন্যান্য খরচ বাড়বে। গড়ে ৬৪·৫০ প্রতিদিন খরচ ধরতে হবে।
৪ জনের পরিবারের খরচ কত?
খাওয়া খরচ (৬৪·৫০x ৪ x ৩০) = ৭৭৪০/০০ টাকা
বাসা ভাড়া (১ রুম বিশিষ্ট + পানি + বিদ্যুৎ + গ্যাস) = ৩৫০০/০০ টাকা
যাতায়াত (২ জন কর্মজীবী মানুষ) (৫০০x ২) = ১০০০/০০ টাকা
চিকিৎসা (২৫০x৪) = ১০০০/০০ টাকা
পোষাক, অন্যান্য সাংসারিক দ্রবাদি = ১০০০/০০ টাকা
সর্বমোট = ১৪,২৪০/০০ টাকা
অর্থাৎ ১৪,২৪০ টাকার কমে একটি পরিবার চলতে পারে না। স্বামী-স্ত্রী ২ জনই চাকুরী করলে প্রত্যেকের কমপক্ষে ৭১২০ টাকা মজুরি দরকার। এখানে সন্তানের শিক্ষা খরচ, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, বিনোদন ও অতিথি আপ্যায়নের হিসেবও ধরা হয়নি।
সুতরাং ,
মাসিক ৭০০০/- নুন্যতম মুজুরীর দাবি শ্রমিক শ্রেনীর সার্বজনীন মানবাধিকার ও বাংলাদেশের সংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নের সাথে জড়িত।
***********************************************
বন্ধুবর আবু নাইমের ব্লগ থেকে সংক্ষিপ্ত ও ঈষৎ পরিবর্তনপূর্ব প্রকাশ করা হল।
''বাঁচার মতো মজুরির দাবিতে উত্তাল গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চল : ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ৭০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে''
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


