somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহন ১

১২ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Love at first sight বলে কোন ব্যাপার থাকলে আনিতার তা হয়েছে। কিন্তু এভাবে তো হওয়ার কথা ছিল না। আনিতা মটেও সে রকম মেয়ে নয়। যদিও সে একটা প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রী কিন্তু সে মোটেও অন্যদের মতো নয়। চুপচাপই থাকে। কিন্তু এবার যে তার সব হিসেবের গড়মিল হয়ে গেলো । শেষ পর্যন্ত কিনা একটা শিক্ষকের প্রেমে পড়ল। নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে আনিতার।
ব্যাপারটার শুরু এভাবে, একদিন কাবেরি মেম ক্লাসে এলেন না। তার নাকি অসুখ করেছে। তাই তিনি রাহাত স্যার কে সেই ক্লাসে একটা ক্লাস টেস্ট নেয়ার জন্য পাঠালেন। রাহাত কবির এর আগে কখনো এই ছাত্র-ছাত্রীদের পরাননি। আর তা ছাড়া এই সেমিস্টারেই তিনি জয়েন করছেন বলে ছাত্র-ছাত্রীরাও তাকে সে ভাবে চিনে না।
ক্লাসে মেম আসবে না বলে আনিতা রা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গল্প করছিল। এ সময় আনিতা দেখল একটা ছেলে মাথা ভরা ঝাঁকড়া চুল, চোখে একটা সিলভার ফ্রেমের চশমা পড়া , হাতে কতো গুলো খাতা নিএ ক্লাসে ঢুকল। আনিতার সাথে সাথে বুকের কোথাও একটু বযথার মতো অনুভব হোল। রাহাত কবির খাতা গুলো সবাইকে দিয়ে আর প্রশ্ন টা দিয়ে একটু দুরে দাঁড়িয়ে সবার দিকে লক্ষ্য করছিল। কেউ নকল করছে কি না দেখছে। আর আনিতা পরীক্ষা দেয়া বাদ দিয়ে রাহাতের দিকে একটু একটু করে তাকাচ্ছে।

সবাই মোটামুটি বিরক্ত। কারন আজ ছুটি কাটানো টা মাটি করে দিলেন রাহাত স্যার। আনিতার পাশে বসা তার সব থেকে কাছের বান্ধবী আঁখি আনিতা কে ফিসফিস করে বল্লঃ
- দেখ দেখ আমাদের মজাটা নষ্ট করে কি করে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে দেখ।
আনিতা কিছু না বলে শুধু একবার ঘাড় নাড়াল। তার কেন এরকম লাগছে তার কারন টা বোঝার চেষ্টা করছে সে। কেমন হাত পা ঝিম ঝিম করছে যতবার রাহাতের দিকে তাকাচ্ছে। রাহাতের হাঁটার সময় ঝাঁকুনিতে অল্প অল্প চুলের ঝাঁকি খাওয়া, অস্থির ভাবে হেঁটে হেঁটে সবার দিকে তাকানো। সবকিছুই আনিতা কে ভীষণভাবে আলোড়িত করছে। আঁখি আবার আনিতার দিকে ঝুঁকে এসে ফিস ফিস করে বল্লঃ
- কি রে লিখছিস না ক্যান ? সব ভুলে গেছিস নাকি?
- না না। এই তো লিখছি। তুইও লিখ না। তা নাহলে স্যার দেখে ফেললে আমাদের পরীক্ষাটাই বাতিল করে দিবে।
আনিতা কিছুটা নিজেকে লুকানোর জন্য এত কথা হড়বড় করে বলেফেলে। কিন্তু ইতিমধ্যে রাহাত তাদের দেখে ফেলে। রাহাত আনিতা আর আঁখির সামনে এসে খানিক দাঁড়িয়ে তাদের দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকে। আনিতার মনে হোল রাহাত স্যার হয়তো তার মনের সব কথা বুঝে ফেলল। তাই তাড়াতাড়ি খাতার দিকে তাকিয়ে লিখার অভিনয় করতে থাকে।
পরীক্ষা শেষে রাহাত খাতা গুলো যখন কালেক্ট করে নিচ্ছিল তখন আনিতার বার বার মনে হচ্ছিলো কেন এই পরীক্ষাটা এতো জলদি শেষ হল? আর কি এই স্যার কে দেখতে পাবো । আনিতা নিজেকেই একটা কড়া ধমক লাগাল। সে তো এরকম মেয়ে না। কোন ছেলে দেখে তো কখনই এরকম ফিল সে করেনি। সবাই তাকে আদর্শ মেয়ে হিসেবেই ভাবে। তাহলে কেন আজ রাহাত কে দেখে তার এরকম মনে হচ্ছে?
- কি রে কি ভাবোস?
আনিতা চমকে যায়। দিলু তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মানে দিলু কিছু একটা বলেছে।
- কিছু বললি রে দিলু?
নিজেকে একটু ধাতস্ত করে জিজ্ঞেস করে আনিতা।
- না মানে জিজ্ঞেস করছিলাম তুই কি কিছু ভাবছিস নাকি? এখন তো দেখি সত্যি সত্যি কিছু ভাবছিলি। কিছু হয়েছে কি?
- আরে না রে। কিছু হয়নি। আমি এখন যাই রে।
একথা বলে আনিতা আর এক মুহূর্ত সেখানে না দারিয়ে বের হয়ে আসে। পেছনে একবার ফিরে দেখে দিলু কেমন করে যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে। আনিতা আরও যেন গুটিয়ে যায় নিজের মাঝে।
নিজেকে মনে মনে গালি দেয় আনিতা। কি করে সে এটা করতে পারে। এটা তো কোনোভাবেই ভালবাসা না। সে অনন্য কাউকে ভালবাসে। কারো দিকে তাকানোর কথা তো তার না। সে কেন এই কাজ টা করল সে নিজেও জানে না। নিজেকে একটা ধাপ্পাবাজ মনে হতে থাকে তার। না তামিম কে সে ধোঁকা দিতে পারে না। তামিম কে সে ভালবাসে। সারা জীবন একসাথে থাকার প্রমিস করেছে তারা। কিন্তু পরোমুহূর্তে আবার আনিতার মনে হয় তামিম কে দেখেও তো কোনদিন এ রকম শিহরণ অনুভব করেনি সে।
আনিতা আর কোন ক্লাস না করে বাসার পথে রওনা হল। আজ তার কিছু ভালো লাগছে না। তামিমের সাথে রিক্সা দিয়ে ঘুরতে পারলে ভালো হতো। এটা মোহ হলে তামিমের কাছাকাছি থাকলে তা দূর হয়ে যাবে। আনিতা তার মুঠো ফোনের খোঁজে ব্যাগ হাতড়াতে শুরু করল। আজ তামিমের সাথে দেখা করতেই হবে----
To be continued..
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×